করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে অনেক খেলাই আবার মাঠে নেমেছে, যদিও খেলা হচ্ছে শূন্য গ্যালারির সামনে, দর্শকহীনভাবে। আর এ অবস্থায় অস্ট্রেলিয়ায় আগামী ১৮ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে নির্ধারিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজনটাকে বাঁচিয়ে রাখতে চায় সে দেশের সরকার। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, প্রাথমিকভাবে সরকারের চিন্তা হলো যে স্টেডিয়ামগুলোর ধারণক্ষমতা ৪০ হাজারের নিচে, সেসব স্টেডিয়ামে সর্বোচ্চ ১০ হাজার দর্শক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। এমসিজি, এসসিজি বা অ্যাডিলেড ওভালের মতো ঐতিহ্যবাহী ভেন্যুগুলো অবশ্য এ হিসেবের বাইরে। এমনটাও শোনা যাচ্ছে যে, যেহেতু অস্ট্রেলিয়ায় করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ হারের সূচকটা নেমে আসছে, দেশটি সূচি অনুযায়ী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পারবে। ‘অস্ট্রেলিয়া সরকারের এই ঘোষণার পর, সেখানে অক্টোবরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের একটা সম্ভাবনা জেগে উঠেছে। হয়তো দলগুলোকে তিন সপ্তাহ আগে পৌঁছাতে হবে, প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলতে হবে সাত দিনের আর কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে ১৪ দিন’-আজতককে বলেছেন গাভাস্কার।
টেস্টে ১০ হাজার রান ক্লাবের প্রথম সদস্য, ভারতের সাবেক অধিনায়ক আরও বলেছেন, ‘আইসিসি যদি বিশ্বাস করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হতে পারে, তখন আইপিএল হওয়াটা কঠিন হয়ে যাবে। কারণ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাতিল হলেই শুধু সম্ভব সেটি। কিন্তু এই ঘোষণার পর (অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের) অক্টোবরে আইপিএল হওয়াটা কঠিনই মনে হচ্ছে।’
২০২০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বিশ্বকাপ হবে কি হবে না সে নিয়ে আইসিসি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারটি দুবার স্থগিত করেছে। প্রথমে ২৭ মে তারিখেও সিদ্ধান্ত হয়নি, পরে ১০ জুনের সভাতেও আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে আরও এক মাস পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন পুরোপুরি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএল ভাগ্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। আইসিসি অক্টোবর-নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় নির্ধারিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাতিল করলে ওই উইন্ডো কাজে লাগিয়েই ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) সারা বিশ্বের ক্রিকেটারদেরই রুজি-রোজগারের অন্যতম বড় উৎস আইপিএলটা করতে পারে।
এদিকে আইপিএলের সিইও ব্রিজেশ প্যাটেলের পরিকল্পনা অনুযায়ী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে আইপিএল অন্য কোথাও হতে পারে। বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলীও কদিন আগে যেমন বলেছেন, বোর্ড আইপিএল আয়োজনের জন্য সবরকম চেষ্টাই করছে। তাহলে আইপিএলও যে হবে না, এমনটাও বিশ্বাস করা যায় না।
ফাঁকা স্টেডিয়ামে আইপিএল আয়োজনে আরব আমিরাত আগ্রহ দেখিয়েছে, প্রস্তাব দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। গাভাস্কার এই প্রস্তাবের প্রশংসা করেই বলছেন, ‘সেপ্টেম্বরে ভারতে আইপিএল খেলতে পারবেন না, তখন বর্ষা মৌসুম। হ্যাঁ, তবে সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে শ্রীলঙ্কায় সেটি হতে পারে। তখন দুটি দল পরস্পরের সঙ্গে দুটি ম্যাচ না খেলে একটি খেলতে পারে। এটা ভেবে দেখা যেতে পারে।’