মেসির রেকর্ড আর বিধ্বংসী জয়ে শেষ করলো বার্সা

শেষ ম্যাচে ঝলমলে বার্সেলোনা। ছবি: বার্সেলোনা ওয়েবসাইটদেপোর্তিভো আলাভেসের মাঠে বার্সেলোনা খেলতে নামার আগে রিয়াল মাদ্রিদ স্ট্রাইকার করিম বেনজেমা বলে দিলেন, এবারের পিচিচি ট্রফিটা তিনি জিতবেন। পিচিচি ট্রফি, মানে স্প্যানিশ লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে গেলে রাতের ম্যাচে লেগানেসের বিপক্ষে তাকে করতে হতো হ্যাটট্রিক। কারণ লিওনেল মেসি ২৩ গোল নিয়ে শুরু করেছিলেন আলাভেস ম্যাচ। রবিবার আলাভেসের মাঠে আরও দুই গোল করে তার গোল সংখ্যা নিয়ে গেছেন ২৫-এ। অর্থাৎ পিচিচি ট্রফি জিততে ২১ গোল করা বেনজেমার সামনে চার গোলের লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছেন বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন জাদুকর। কঠিন, খুব কঠিন কাজ। মনে হয় না বেনজেমা রাতের ম্যাচে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছেন।

যা দাঁড়ালো, লা লিগার শিরোপা হারালেও আরেকটি পিচিচি মেসি জিততে চলেছেন। যেটি হবে তার সপ্তম, রেকর্ড। ছয়টি পিচিচি ট্রফি জিতে এতদিন তিনি যৌথভাবে আথলেতিক বিলবাও কিংবদন্তি তেলমো জারার সঙ্গে রেকর্ডটি ভাগাভাগি করছিলেন। তবে স্প্যানিশ লিগের সর্বকালের আরেকটি রেকর্ড এদিন মেসি নিজের করে নিয়েছেন। সেটি গোলে সহায়তার। ২০টি গোলে সহায়তার রেকর্ড গড়ে ১১ বছর ধরে শীর্ষে ছিলেন মেসির সাবেক বার্সেলোনা সতীর্থ জাভি হার্নান্দেজ। মেসি তাকে টপকে গেলেন। মৌসুমটা খুব ভালো যায়নি মেসির, তারপরও ২৫ গোলের সঙ্গে ২১ গোলে সহায়তা (অ্যাসিস্ট)! এই মেসিকে আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

মেসি যে ম্যাচে দুই গোল করেন সে ম্যাচে বার্সেলোনা কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে তা সবাই জানে। আলাভেস তা টের পেয়েছে। মেসির দুই গোলের সঙ্গে আনসু ফাতি, লুইস সুয়োরেজ ও নেলসেন সেমেদোর প্রথম গোল মিলিয়ে বার্সেলোনা ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে আলাভেসকে। ১৫ মিনিটের মধ্যে তিনবার বার্সার শট পোস্টে না লাগলে, দুবার সুয়ারেজ ১:১ অবস্থায় গোলকিপারের হাতে বল তুলে না দিলে, রিকি পুইজ ও মার্টিন ব্রাথওয়েট অল্পের জন্য গোলবঞ্চিত না হলে আলাভেসের জালে গোলবন্যা বয়ে যেত। বিকেলের ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যেও বল দখল ও কেড়ে নেওয়া, আর পাসিং ফুটবলের পসরা সাজানো এই বার্সেলোনা আসল বার্সেলোনা। আর একটা ইতিবাচক দিক, রিকি পুইজ নামের মাঝমাঠে এক উদীয়মান তারকাকে তারা পেয়ে গেছে। মাঝমাঠ দখলে রেখেছেন ২০ বছর বয়সী তরুণ, সহায়তা করেছেন দুটি গোলে। দীর্ঘ চোট কাটিয়ে কয়েক মিনিটের জন্য নামলেও ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং ফিরেছেন আশার আলো ছড়িয়ে।

বিরতির আগেই ৩-০ করে ফেলে বার্সা। ১০ মিনিট করে বিরতি দিয়ে এসেছে গোলগুলো- ফাতি ২৪, মেসি ৩৪ ও সুয়ারেজ ৪৪ মিনিটে গোল করেন। বিরতির পর ৫৭ মিনিটে লিগে তার প্রথম গোলটি পেয়ে যান সেমেদো। ৭৫ মিনিটে জর্ডি আলবার পাসে নিজের দ্বিতীয় গোলটি পেয়ে যান মেসি। এরপর দেখার ছিল বাকি ১৫ মিনিটে তার হ্যাটট্রিক হয় কি না, কিন্তু সেটি হতে দেয়নি আলাভেস। তবে মেসির হ্যাটট্রিক না হলেও বার্সা নিজেদের খেলাটা দেখাতে পেরেছে। বিধ্বংসী এক জয় দিয়ে শেষ করেছে লা লিগা। ৮ আগস্ট ন্যু ক্যাম্পে নাপোলির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে যা মানসিক শক্তি জোগাবে। অবশ্য যন্ত্রণাও তাদের সঙ্গী হবে। আর চার-পাঁচটি ম্যাচ এভাবে খেললেই তো প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়ালের হাতে লিগ শিরোপা সঁপে দিতে হয় না!