২৫ বছর বয়সী বার্বাডিয়ান বংশোদ্ভুত গতিতারকা দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর কেবলই আগে ইংল্যান্ড দল থেকে বাদ পড়েন যখন জানা যায় স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে তার হোভের ফ্ল্যাটে গিয়েছিলেন অনুমতি ছাড়াই। এরপরই তাকে ওল্ড ট্রাফোর্ড স্টেডিয়াম সংলগ্ন হোটেলে তাকে আইসোলেশনে কাটাতে হয় পাঁচদিন। এই সময়ের মধ্যে শুধু ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে পেরেছেন খুবই সতর্ক অবস্থায়। পরে ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সামনে দাঁড়াতে হয়েছে তাকে এবং সাড়ে ১৩ হাজার পাউন্ড জরিমানা দিয়ে আবার দলে ঢোকার সবুজ সংকেত পেয়েছেন মঙ্গলবার। এর আগে দুবার কোভিড-১৯ টেস্ট হয় এবং তাতে নেগেটিভ রিপোর্ট আসে।
ডেইলি মেইলে লেখা কলামে আর্চার বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচনা আর এই কদিনের নিঃসঙ্গবাস মিলিয়ে তার মনের ওপর দিয়ে অনেক ঝড়-ঝাপটা গেছে, যাতে হয়তো তৃতীয় টেস্টের সময় মানসিকভাবে শতভাগ ফিট তিনি থাকবেন না।
আর্চারের দৃষ্টিতে কিছু সমালোচনা ‘অকারণেই হইচই তোলা’, যেগুলো তিনি মুছে ফেলেছেন, কারণ নেতিবাচকতা থেকে তাকে দূরে থাকতে হবে। আবার কিছু সমালোচনা বর্ণবৈষম্যমূলক, ‘গত কদিনে কিছু কটূক্তি ইনস্টাগ্রামে পেয়েছি যেসব বর্ণবাদী এবং আমি সিদ্ধান্ত নিই আর চুপ করে থাকার সুযোগ নেই। আমি ইসিবির কাছে অভিযোগ করেছি এবং এখন নিশ্চয়ই সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ আর্চার লিখেছেন, ‘আমি বুঝতে ভুল করে থাকতে পারি, কিন্তু আমি কোনও অপরাধ করিনি।’
ইসিবির এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘গত সপ্তাহে কথিত ওই বর্ণবাদী বার্তাগুলো আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়েছেন আর্চার। আমরা তার পাশে আছি, আমরা বিষয়গুলো যথাযথভাবে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’
আর্চার তার কলামে লিখেছেন, ‘এই সপ্তাহটি আমাকে শিখিয়েছে, আমি যা-ই করি না কেন মানুষের চোখ আমার ওপর থাকবে। আমি জোরে হাঁচি দিলেও হয়তো শিরোনাম হবো।’
‘কোনও লুকোছাপা না করে বলি, আমি খেললে যদি ৯০ মাইল গতিতে বল করতে না পারি সেটি খবর হবে। দীর্ঘসময় ৯০ মাইল গতিতে বল করতে না পারলে সেটাও খবর হবে। এই পর্যায়ে পাদপ্রদীপের আলোয় থাকলে আপনাকে নিয়ে এমন কাটাছেঁড়া চলবে।’
আর্চার আরও লিখেছেন, ‘প্রথম ইনিংসে (সাউদাম্পটনে), আমি শুনলাম আমি এটা, আমি ওটা-আমি অতিমূল্যায়িত। আবার দ্বিতীয় ইনিংসে আমি ভালো করলাম, বলা হলো “ ওহ্, সে দুর্দান্ত খেলোয়াড়”, এটাই ক্রিকেট। কিছুদিন আপনার ভালো যাবে, কিছুদিন খারাপ।’
‘অনেক নেতিবাচক কথা শুনতে হলো আমাকে। আমি তো মাত্রই ৮টি টেস্ট খেলেছি। এর মধ্যে কাউকে কিভাবে কাউকে অতিমূল্যায়িত বলা যায়?’-এই প্রশ্ন রেখে ইংল্যান্ডের ২০১৯ বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক বলেছেন ক্রীড়াঙ্গন বড় ‘খেয়ালি’ ও ‘কপট’ জায়গা।