আর তিন মাস পরে ৩৯ পূর্ণ করবেন। এই বয়সে এ যুগের খেলোয়াড়েরা সুখে-শান্তিতে ঘর-সংসার করেন, কেউ ফুটবল পন্ডিত হন, কেউবা মাঠ থেকে সরে এসে ডাগআউটে দাঁড়ান। কিন্তু মাঠে এখনও চলছে ইব্রাহিমোভিচের দাপট। দীর্ঘ শরীর হাওয়ায় ভাসিয়ে নির্ভুল হেডে গোল করছেন, দুদে ডিফেন্ডারকে টার্ন বা হাফটার্ন করে ঘোল খাওয়াচ্ছেন। গোল করছেন, করাচ্ছেন। মঙ্গলবার যেমন তার দুটি গোলেই মিলান ২-১ গোলে হারিয়ে দিল সিরি ‘আ’র এ মৌসুমের খুবই সপ্রতিভ দল সাসসুয়োলোকে। তার এই দুই গোলে সিরি ‘আ’র পঞ্চম স্থানে নাম লিখিয়ে খেলার সুযোগ নিশ্চিত করলো ইউরোপা লিগে। তার এই দুই গোল চাকরি হারানোর অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আরও দুই বছরের জন্য মিলানে থাকাটা নিশ্চিত করলো কোচ স্তেফানো পিওলির।
২১ বছর বয়সী গোলকিপার জিয়ানলুইজি দোনারুমার একটি মাইলফলকের ম্যাচ ছিল, মিলানে তার ২০০তম ম্যাচে। আর সে ম্যাচের ১৯ মিনিটেই হাকান কালহানোগ্লুর ক্রসে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন ইব্রা (১-০)। বিরতির তিন মিনিট আগে ভার-সিদ্ধান্তে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে সাসসুয়োলোকে সমতায় আনেন ফ্রান্সেসকো কাপুতো। কিন্তু প্রথমার্ধের যোগ হওয়া সময়ে কালহানোগ্লু ও ইব্রা সমন্বয়েই গোল পেয়ে আবার এগিয়ে যায় মিলান। কালহানোগ্লুর ক্রসে ইব্রার অব্যর্থ ফ্লিকে গোল (২-১)। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই স্বাগতিক সাসসুয়োলোর মেহেদি বুরবাদিয়া লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়েন। তখনই জয় নিশ্চিত হয়ে যায় মিলানের। কারণ একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে বাকি ৪৫ মিনিট সাসসুয়োলোর পেরে ওঠা সম্ভব ছিল না মিলানের সঙ্গে। বিরতিরি বাঁশি বাজার সঙ্গে আরেকটি ঘোষণাও আসে মিলানের দিক থেকে, ওই দলের অনেকের জন্য যা খুশির খবর। আরও দুবছর অর্থাৎ ২০২২ সাল পর্যন্ত কোচ পিওলির সঙ্গে চুক্তি বাড়ানো হয়েছে। জার্মানির ক্লাব আরবি লাইপজিগের জার্মান কোচ রালফ্ রাঙনিকের সঙ্গে চুক্তিটি যে হচ্ছে না, সেটি পরিষ্কার জানিয়ে দেয় মিলান।
পিওলির ওপর এই সেদিনও সন্তুষ্ট ছিল না মিলান কর্তৃপক্ষ। ফুটবল করোনা নির্বাসনে যাওয়ার আগে প্রায় নিশ্চিতই হয়ে ছিল যে রাঙনিক আসছেন। কিন্তু করোনার পরই আমূল বদলে গেল মিলানের চেহারা। আট জয়ের পাশে দুটি মাত্র ড্র, টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত তারা। ১৩ নম্বর থেকে উঠে এসেছে পাঁচে, ইউরোপা লিগে জায়গা পাকা। জানুয়ারিতে আবার মিলানে এসে ১৫ ম্যাচে সাত গোলের সঙ্গে চারটি গোলে সহায়তা করেছেন ইব্রা। তাকে নিয়ে এখন অন্য লিগেও জোর আলোচনা। ১৬ বছর পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে উত্তীর্ণ লিডস ইউনাইটেড ইব্রার কথা ভাবছে। তিনি নিজেও বলছেন আগামী বছর যে মিলানে থাকবেন সে নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না।