১৫ আগস্ট, শনিবার, ভারতের স্বাধীনতা দিবসে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ধোনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে তার অবসরের ঘোষণাটা দিয়ে দেন। পরদিন রবিবার কোহলি ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের অফিসিয়াল টুইটার হ্যান্ডলে প্রায় এক মিনিট লম্বা একটি ভিডিও পোস্ট করেন। যাতে পূর্বসূরি ভারত অধিনায়কের প্রতি ব্যক্ত হয়েছে তার ‘বন্ধুত্ব ও বিশ্বাস’। কোহলি বলেন ধোনির অবসর ঘোষণার মুহূর্তটি তার জীবনের এমন বিরল এক মুহূর্ত যখন নিজের উপলব্ধি প্রকাশ করতে পর্যাপ্ত শব্দ তিনি খুঁজে পাননি, ‘জীবনে অনেক সময় শব্দের ভান্ডারে টান পড়ে যায়। আমার মনে হয় এটা তেমনই একটা মুহূর্ত। আমি শুধু একটা কথাই বলতে পারি, তুমি চিরকাল সেই লোকটিই থেকে যাবে যে কিনা বাসের শেষ সিটটায় বসতো।’
ধোনি ও কোহলির মধ্যে দারুণ একটা রসায়ন ছিল। ধোনির হাত থেকে অধিনায়কত্বের ব্যাটন কোহলির হাতে গেলেও সেটি বদলায়নি। দুজনই ছিলেন পরস্পরের গুণমুগ্ধ।
‘আমাদের মধ্যে ছিল পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও বোঝাপড়া। কারণ আমরা সবসময়ই একই ভূমিকায় একই লক্ষ্যে খেলে এসেছি, সেটি হলো দলের জয়। তোমার নেতৃত্বে এবং তোমার পাশে খেলতে পারাটা আমার জন্য ছিল আনন্দের। আমার ওপরে যে আস্থা তুমি রেখেছো সেজন্য আমি তোমার কাছে সারাজীবন কৃতজ্ঞ। আমি অগেও এটি বলেছি, আবারও বলবো, তুমি চিরটা কাল আমার অধিনায়ক থেকে যাবে’-বলেছেন কোহলি।
২০১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হারের পর থেকেই ভারতের সাবেক অধিনায়ককে জল্পনা চলেছে বিরামহীন। কবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলবেন, তা নিয়ে প্রবল কৌতূহল। তবে ভারতের বিশ্বজয়ী অধিনায়ক নিজের অবসর নিয়ে টু শব্দটি করেননি। অবশেষে স্বাধীনতা দিবসের সন্ধ্যায়, ঘড়িতে যখন সাতটা ২৯ মিনিট, সবাইকে চমকে দিয়ে ধোনি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে জানিয়ে দেন অবসরের কথা। আর সঙ্গে সঙ্গেই বিষন্নতায় ডুবে যায় ভারতের ক্রিকেট জনতা। যারা ভারতের বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় ধোনির ওপর দায় চাপিয়ে তার আসন্ন অবসর ঘোষণা শুনতে উৎকর্ণ হয়ে থাকতেন, তাদের বুকেও হাতুড়ির ঘা পড়েছে। তারাও এখন বলছেন, ভারতের ক্রিকেটকে বদলে দিয়েছেন ভারতের প্রথম সত্যিকারের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান ধোনি, ‘অলরাউন্ডার’ ধোনি, ‘ক্যাপ্টেন কুল’ ধোনি। তার মতো আইসিসির তিনটি শিরোপা (টি-টোয়েন্টি, বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফি) আর কোনও অধিনায়কই এনে দিতে পারবে না ভারতকে।