নাছোড় মেঘ ও বৃষ্টি দ্বিতীয় দিন থেকেই পিছু নিয়েছে এই টেস্টের। এ জন্য ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা যেমন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে, তেমনি জেমস অ্যান্ডারসনের ৬০০ টেস্ট উইকেট পাওয়াটাও অনিশ্চিত দেখাচ্ছে। সোমবার ওপেনার আবিদ আলী হয়েছেন অ্যান্ডারসনের ৫৯৯তম শিকার। আর মাত্র একটা উইকেট! সেটা তুলতে পারবেন কি না বলা যাচ্ছে না। বৃষ্টিমাথায় চতুর্থদিনের খেলার অপমৃত্যুর সময় পূর্বাভাস পাওয়া গেছে মঙ্গলবার পঞ্চমদিনেও বৃষ্টি হবে। পঞ্চমদিনে একটু খেলাও আর না হয়, তাহলে একটি উইকেটে জন্য ২০২১ সালের অপেক্ষায় থাকতে হবে অ্যান্ডারসনকে।
চতুর্থদিনের শেষে ২৯ রানে অপরাজিত আজহার, ৪ রানে বাবর আজম। ১৮ রানে শন মাসুদ ফিরে গেছেন স্টুয়ার্ট ব্রডের শিকার হয়ে। ৪২ রানে আবিদ আলীকে ফিরিয়েছেন অ্যান্ডারসন। দুজনই এলবিডব্লিউয়ের শিকার।
সকালের ১৮ ওভার ইংলিশ বোলিং দারুণভাবে সামলে দেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার। তারপরই নামে প্রবল বৃষ্টি। আউটফিল্ডে জমে যায় পানি। খেলা বন্ধ থাকে স্থানীয় সময় বেলা পৌনে ৪টা পর্যন্ত। আবার শুরু হয়ে ঠিক পৌনে ৩ ঘণ্টা পর দিনের খেলার শেষ টেনে দিয়েছে বৃষ্টি। এর মধ্যে ফিরে গেছেন মাসুদ ও আবিদ। ৪৯ রানের ওপেনিং জুটির পর আবিদ অধিনায়কের সঙ্গে গড়েছেন ৩৯ রানের জুটি।
আগেরদিন ফলো-অনে পড়া পাকিস্তানের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে নেমেছিলেন প্রথম ইনিংসে ১৪১ রান করে অপরাজিত থাকা আজহার আলী। মেঘাচ্ছন্ন আকাশ ইনিংসটা আর শুরু হতে দেয়নি। ক্রিকেট আইনের ২৫.২ ধারা অনুযায়ী সোমবার আজহার নেমেছেন তিন নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে।
নতুন বলে দুর্দান্ত ছিলেন অ্যান্ডারসন ও ব্রড। দুই ওপেনার বারবার পরাস্ত হয়েছেন নিয়ন্ত্রিত লেন্থ-লাইনের বোলিংয়ে। শুরুতেই একবার ‘জীবন’ ফিরে পান মাসুদ। অ্যান্ডারসনের আউটসুইঙ্গারে তার দেওয়া ক্যাচ হাতে জমাতে পারেননি উইকেটকিপার জস বাটলার। এ নিয়ে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৩৭ বলের ব্যবধানে অ্যান্ডাসনের বোলিংয়ে ক্যাচ পড়লো চারটি। আর যদি খেলা না হয়, ৫৯৯ উইকেট নিয়ে একটি উইকেটের জন্য দীর্ঘ আক্ষেপে পুড়তে হবে ইংল্যান্ডের ৩৮ বছর বয়সী পেসারকে।
অ্যান্ডারসন-ব্রড জুটির পর ক্রিস ওয়াকস ও জফরা আর্চারও বোলিংয়ে এসে স্বস্তি দেননি পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের। ঘণ্টায় ৯০ মাইল গতিতে বোলিং করে গেছেন আর্চার, আশেপাশে ওয়াকস। কিন্তু টলানো যায়নি আজহারদের।
এ টেস্ট যে অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে, সম্ভাব্য ফল দুটি। ইংল্যান্ডের জয় অথবা ড্র। বৃষ্টির আনাগোনা বলছে ড্র হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাতে অবশ্য সিরিজ বাঁচাতে পারবে না পাকিস্তান, চারটি সিরিজের পর হার মানতে হবে ইংল্যান্ডের কাছে। ফল যাই হোক, পঞ্চমদিনের খেলা শুরুর আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, অ্যান্ডারসন কি ছুঁতে পারছেন ৬০০ উইকেটের মাইলফলক?