আইসিসির সভাপতি পদে কোনও ‘মোড়লকে’ চায় না পাকিস্তান

পিসিবি চেয়ারম্যান এহসান মানিক্ষমতা আর অর্থবিত্তে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত ক্রিকেট বিশ্বের প্রধানতম তিন বড় দেশ। ‘বিগ থ্রি’ বা ‘তিন মোড়ল’ হিসেবেই এখন তাদের পরিচিতি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান এহসান মানি, যিনি নিজেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ছিলেন চান না যে এই তিন মোড়ল দেশের কেউ আইসিসির পরবর্তী সভাপতি হোন। তার যুক্তি হলো, ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বাইরের কেউ আইসিসি সভাপতি হলে সেটি এই খেলাটির জন্যই হবে স্বাস্থ্যকর।

মানি বলেছেন, ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই), ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) এবং ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) আইসিসির অভ্যন্তরে একধরনের ‘রাজনীতি’ আমদানি করেছে।

ভারতের শশাঙ্ক মনোহরের বিদায়ের পর গত জুলাই থেকে আইসিসির সভাপতির পদটি পড়ে রয়েছে শূন্য। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইমরান খাজা। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে না সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন, সে ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি আইসিসির বোর্ড।

মানি এটিকে বলছেন দুর্ভাগ্যজনক। ‘দুর্ভাগ্যজনক যে এটি ঠিক হতে এত সময় লাগছে। নিজেদের অবস্থান ঠিক রাখার জন্য অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও ভারত যে রাজনীতিটা ২০১৪ সালে টেনে এনেছে সেটি থেকে বেরিয়ে আসতেই তাদের এখন বেগ পেতে হচ্ছে। কারণ তারা দেখছে যে বিষয়টি এখন আর ঠিকঠাক যাচ্ছে না। এটাই স্বাস্থ্যকর হবে বিগ থ্রির বাইরে থেকে কেউ এলে’-ফোর্বস ম্যাগাজিন এভাবে উদ্ধৃত করেছে মানিকে।

ইসিবির সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান কলিন গ্রেভস ও বিসিসিআইয়ের বর্তমান সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলীকে আইসিসির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে ভাবা হচ্ছে। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের চেয়ারম্যান গ্রেগ বার্কলে ও ক্রিকেট ওযেস্ট ইন্ডিজের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডেভ ক্যামেরনের নামও প্রার্থী হিসেবে উচ্চারিত হচ্ছে।

‘বোর্ডের মধ্যে স্বার্থের সংঘাতের সমস্যাটা প্রকট। আমি আগে কখনও এমনটা দেখিনি, অন্তত ১৭ বছরের মধ্যে দেখিনি’-বলেছেন মানি। পিসিবি চেয়ারম্যান গ্রেভসের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্য সমর্থন করে বলেছেন, বিসিসিআই এবং ইসিবি যে আর্থিক মডেল অনুযায়ী অন্য বোর্ড থেকে বেশি রাজস্ব (১৩৯ মিলিয়ন ডলার) পায় সেটি আসলেই সংশোধন করা উচিত।মানির ক্ষোভের আরও কারণ, ‘শুধু আর্থিক মডেলটাই যে ভারত ও ইংল্যান্ডকে সুবিধা দিচ্ছে তা তো নয়। তারা আইসিসির ইভেন্ট আয়োজন করছে অপেক্ষাকৃত কম আয়োজন স্বত্ব দিয়ে. গেটমানি ও হসপিটালিটি খাত থেকেও সুবিধা নিচ্ছে।’

পিসিবি চেয়ারম্যানের আশা, আগামী ২০২৩-৩১ এফটিপি চক্রে পাকিস্তান একটি বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পাবে, ‘আমরা এই সময়ে একটি বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চাই। আসলে চার-পাঁচটি ইভেন্ট আমরা আয়োজন করতে চাই, যার কিছু হবে আরব আমিরাতের সঙ্গে যৌথভাবে।’