বয়স যাই হোক, খেলোয়াড়দের গায়ে জাতীয় দলের জার্সি উঠলে দায়িত্ব অনেক বেড়ে যায়। প্রকৃত বয়স থেকে মানসিক বয়সটা তখন অনেক ওপরে তুলে নিতে হয়। এটাই পারেননি ২০ বছর বয়সী ফডেন, আর ১৮ বছর বয়সী গ্রিনউড। দুজনেরই ছিল ইংল্যান্ডের হয়ে অভিষেক ম্যাচ। উয়েফা নেশনস লিগে স্বাগতিক আইসল্যান্ডের বিপক্ষে শনিবার সে ম্যাচটা জেতায় ভীষণই আনন্দিত ছিলেন দুই উদীয়মান তারকা। স্থানীয় দুই তরুণীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ হওয়ায় রবিবার আমন্ত্রণ জানান রিকজাভিকের হোটেল রুমে। একজন নাদিয়া সিফ লিন্ডাল, ২০ বছর বয়সী মডেল। আরেকজন তার বান্ধবী আইনের ছাত্রী ১৯ বছর বয়সী লারা ক্লাউসেন। এরা দুজনই রবিবার রাতের আলাপের ভিডিওটা ছেড়ে দেন স্ন্যাপচ্যাটে। ব্যস, ব্যাপারটা মিডিয়ার কাছেও চলে যায়। ফেঁসে যান ম্যানচেস্টার সিটি মিডফিল্ডার ফডেন ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফরোয়ার্ড গ্রিনউড।
দলের অনুশীলনে নিষিদ্ধ। মঙ্গলবার ডেনমার্কের ম্যাচে ওরা নেই। ইংলিশ এফএ তিরস্কার করেছে। যার যার ক্লাবও নিন্দা জানিয়েছে। করোনভাইরাস স্বাস্থ্যবিধি ভাঙায় আইসল্যান্ডের পুলিশ দুজনকে ২ লাখ ৫০ হাজার ক্রোনার (১৩০০ পাউন্ড) জরিমানা করেছে। এটা খেলোয়াড়দের পকেট থেকেই দিতে হবে।
আইসল্যান্ডে দ্বিতীয় দফা করোনার ঢেউ ছড়িয়ে পড়ায় কঠোর নিয়ম করেছে সে দেশের সরকার। সে দেশে ভ্রমণকারীদের অবশ্যই প্রাথমিকভাবে পাঁচদিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়। ইংল্যান্ড দলকে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বলা ছিল বায়ু-সুরক্ষিত পরিবেশে বাইরের কাউকে আমন্ত্রণ জানানো যাবে না। এমনকি পরিবারও অবাঞ্ছিত হোটেলে।
সজ্ঞানে এই আইন ভেঙে ফডেন ও গ্রিনউড কী গভীর সমস্যায়ই না পড়েছেন, জাতীয় দলে যাদের ক্যারিয়ারের শুরু মাত্রই আগের সন্ধ্যায়। সোমবার বিকেলে নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে ক্ষমা চেয়ে ফডেন লিখেছেন, ‘নিজের সুরক্ষা ও ইংল্যান্ড সতীর্থদের সুরক্ষার জন্য নির্দেশিত কোভিড-১৯ বিধি ভেঙেছি আমি। ফলে আমি ডেনমার্কে যাওয়ার সুযোগ হারিয়েছি। আমি একজন তরুণ খেলোয়াড়, যাকে অনেক কিছু শিখতে হবে। তবে ম্যানচেস্টার সিটি ও ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় হিসেবে দায়িত্বও আমি এড়িয়ে যেতে পারি না।’