বিলিংসের সেঞ্চুরিও হার এড়াতে পারেনি ইংল্যান্ডের

ওয়ানডে সিরিজ জয়ে শুরু অস্ট্রেলিয়ার -ছবি:টুইটার শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ২৮ রান। মারতে হতো চারটি ছক্কা ও একটি চার। কিংবা তিনটি ছক্কা, দুটি চার ও একটি ডাবল। পাঁচটি ছক্কা মারতে পারলে কথাই ছিল না। স্যাম বিলিংস পারেননি। মিচেল মার্শের করা ওভারটি থেকে এলো ৮ রান। একটি চার মারতে পেরেছিলেন বিলিংস। শেষ বলে ডেভিড ওয়ার্নারকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ইংল্যান্ডের পরাজয় লিখে। হ্যাঁ, সেঞ্চুরি করেছেন, নিজের ১৯তম ওয়ানডেতে এসে প্রথম তিন অঙ্কের দেখা। যদিও এমন সেঞ্চুরি ইংল্যান্ডের সাবেকি দিনের সঙ্গে যায়, যাতে থাকে নিজের প্রাপ্তি, দলের নয়। তাই হারই মানতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে, ১৯ রানে।

ওল্ড ট্রাফোর্ডের নরম ও ধীরগতির উইকেটে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ৭৭, মিচেল মার্শের ৭৩ ও মার্কাস স্টয়নিসের ৪৩ রানের যোগফলে দাঁড়ানো ২৯৫ রানের লক্ষ্য যে সহজ নয়, সেই আভাস পাওয়া গেছিল আগেই। বোলিং করতে এসেই সেটি ভালোই বুঝিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ান পেসার জস হ্যাজলউড ও লেগস্পিনার অ্যাডাম জাম্পা। প্রথম পাওয়ার প্লেতেই ওপেনার জেসন রয় ও জো রুটকে তুলে নেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ হ্যাজলউড। রয়কে (৩) নিজের বোলিংয়ে ক্যাচ বানান ৭ রানে, রুটকে(১) ১৩ রানে উইকেটকিপারের হাতে। ৫৫ রানে অধিনায়ক ইয়ন মরগান (২৩) ফিরে যান জাম্পার লেগস্পিনে। ১৭তম ওভারের প্রথম বলেই আবার জাম্পার অঘাত, এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজের নায়ক বাটলার (১) আউট। ইংল্যান্ডের কোমর ভেঙে গেছে ওখানেই। পুরস্কার বিতরণীতে এসে মরগান সত্যটা স্বীকার করে নিয়েছেন, ‘ব্যাট হাতে ম্যাচটি সম্ভবত আমাদের জন্য শেষ হয়ে গেছিল ১০-১২ ওভারের মধ্যেই।’

তবে এখান থেকেও ম্যাচ যে বেরোয় না, তা নয়। সেজন্য অতিমানবীয় ইনিংস খেলা লাগতো জনি বেয়ারেস্টা ও স্যাম বিলিংসকে। তারা চেষ্টা করেছেন, পঞ্চম উইকেটে ১১৩ রানের জুটি গড়েছেন। তবে এটাও যথেষ্ট ছিল না। জাম্পার লেগস্পিনেই ৮৪ রানে ক্যাচ তুলে যখন বিদায় নিলেন বেয়ারস্টো, ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেছে। বিলিংস নিজের প্রথম সেঞ্চুরি করে অনেকটা কাছাকাছি নিয়ে শেষ করেছেন। এই ‘অনেকটা’ আসলে অ-নে-ক ব্যবধানের। ১০১ বলে সেঞ্চুরি করেছেন বিলিংস, ১৪টি চারের সঙ্গে ২টি ছক্কায় ১১৮ রান করে আউট হয়েছেন ১১০ বল খেলে। এটা যদি আরও ১০ বল কম খেলে করতে পারতেন তাহলে অন্যরকম কিছু হতে পারতো। পারেননি বলেই অস্ট্রেলিয়ার জয়ে শুরু হলো তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ।স্যাম বিলিংসের প্রথম সেঞ্চুরি -ছবি : টুইটার

২০১৯ সালের ১১ জুলাই এর আগের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। সে ম্যাচে মরগানের দলের কাছে ধুলোর মতো উড়ে যেতে হয়েছিল অ্যারন ফিঞ্চের অস্ট্রেলিয়াকে। এজবাস্টনে সেটি ছিল বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল এবং তাতে ১০৭ বল হাতে রেখে অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড।

আবার ইংল্যান্ডে ফিরে সেই ‘লজ্জা’ থেকে একটু মুখ বাঁচাতে পারলো ফিঞ্চের দল। ধ্বংসাবশেষের মধ্যেও সেই ম্যাচে যিনি দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৫ রান করেছিলেন, সেই স্টিভ স্মিথকে ছাড়াই জয়। সেই বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল প্রসঙ্গক্রমে আসছে আরেকটি কারণে, সেই ম্যাচের ৯ জন খেলেছেন ইংল্যান্ড দলে, অস্ট্রেলিয়া দলে ৭জন।

টি-টোয়েন্টি সিরিজ হার দিয়ে শুরু করে তা খুইয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ক্রিকেট বিশ্বকাপ সুপার লিগ শুরু হলো জয়ে। তার ওপর ক্রিকেটের সবচেয়ে পুরোনো দুই প্রতিযোগীর ১৫০তম ম্যাচ ছিল এটি। সেই মাইলফলকের ম্যাচটি জিতে ভীষণ খুশি ফিঞ্চ। রবিবারের ম্যাচটি জিততে পারলেই বদলা নেওয়া হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজের!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া : ৫০ ওভারে ২৯৪/৯ (ম্যাক্সওয়েল ৭৭, মিচেল মার্শ ৭৩, স্টয়নিস ৪৩, উড ৩/৫৪, আর্চার ৩/৫৭)।

ইংল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৭৫/৯ (বিলিংস ১১৮, বেয়ারস্টো ৮৪, মরগান ২৩, জাম্পা ৪/৫৫, হ্যাজলউড ৩/২৩)