আবারও অলিম্পিকের স্বপ্ন, সিদ্দিকুর তাই সাহায্য চান সরকারের

সংবাদ সম্মেলনে গলফার সিদ্দিকুর -ছবি: বাংলা ট্রিবিউন করোনাভাইরাসের প্রকোপে অনেক খেলার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা স্থগিত হয়ে আছে। বাতিলও হয়ে গেছে। গলফের এশিয়ান ট্যুরের প্রতিযোগিতাগুলো একের পর এক স্থগিত হয়েছে। এই বছর হবে কি না সংশয় আছে। দেশসেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমান তাই নিজের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চাইছেন। সেখানে উন্নতমানের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পিজিএ ট্যুরসহ অন্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াই তার লক্ষ্য। এ জন্য প্রয়োজন এক লাখ ৬০ হাজার ডলার। প্রশিক্ষণের জন্য এই বিপুল অর্থ সংস্থানের সামর্থ্য তার নেই। অর্থ সাহায্য চেয়ে সিদ্দিকুর আবেদন করেছেন অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে। দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও।

করোনার কারণে গত মার্চের পর থেকে আর খেলার মধ্যে নেই সিদ্দিকুর রহমান। সাভার গলফ কোর্সে কিছুদিন হলো অনুশীলন শুরু করেছেন। বছরের বাকি সময়টুকুতে আরও উন্নত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি খেলতে চাইছেন যুক্তরাষ্টের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়। বৃহস্পতিবার এই গলফ তারকা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘একের পর প্রতিযোগিতা বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এশিয়ান ট্যুরের অবস্থা খুবই খারাপ। এ বছর কোনও আসর হবে বলে মনে হয় না । আগামী বছরের অবস্থাও খারাপ হবে। আমার মনে হয় না ভালো কোনও শিডিউল আসবে। তাই বসে না থেকে আমেরিকায় যেতে চাই। আমার স্বপ্ন ইউএসএ ও ইউরোপিয়ান ট্যুরে যাবো। সেখানে গলফ প্রতিযোগিতা হচ্ছে।’

কিছুদিন আগে এই প্রশিক্ষণ ব্যয় হিসেবে এক বছরের জন্য অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কাছে ১ লাখ ৬০ হাজার ডলারের বাজেট দিয়েছেন। আশা করছেন দেশের স্বার্থে তিনি অর্থ পাবেন, ‘সব খরচ বহনের জন্য অলিম্পিক ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একজন ক্রীড়াপ্রেমী। তার কাছেও আমার আবেদন থাকলো। অলিম্পিকে আবারও অংশ নিতে চাই , সবাই যেন সেই সুযোগটা করে দেন আমাকে। যাতে লাল-সবুজ পতাকা বহন করতে পারি।’

২০১৬ রিও অলিম্পিকে প্রথম সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন দুইবারের এশিয়ান ট্যুরজয়ী গলফার। এবারও টোকিও অলিম্পিক আছে তার দৃষ্টিসীমায়, ‘আমি যদি আমেরিকার ফ্লোরিডাতে যেতে পারি ভালো হয়। সেখানে টাইগার উডসসহ অন্যরা থাকেন। গলফের শহর বলতে পারেন। সেখানে প্রশিক্ষণ ছাড়াও দুটি প্রতিযোগিতায় ভালো করতে পারলে টোকিও অলিম্পিকে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব হবে। এখন আমার র‌্যাঙ্কিং ৬০০ এর কাছাকাছি। দুটি প্রতিযোগিতায় ভালো করতে পারলে তা ৩০০ এর মধ্যে চলে আসবে। খেলতে পারবো টোকিও অলিম্পিকে।’

তবে সাহায্য না পেলে নিজের খরচে আমেরিকায় যাওয়ার পরিকল্পনা আছে সিদ্দিকুরের, ‘আমার ভিসা আছে। স্ত্রী নিজে আমার ম্যানেজার। তার ভিসা হলে আমরা দুজনেই যাবো। যদি কারও সাহায্য না পাই সেক্ষেত্রে হয়তো এক বছরের জায়গায় তিন মাস প্রশিক্ষণ নিতে পারবো। তারপরেও আশায় আছি, যদি সরকার থেকে সাহায্য পাই তাহলে আমার জন্য অনেক সুবিধা হবে।’