হঠাৎই বাফুফের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। কীভাবে বর্তমান কোভিড পরিস্থিতিতে ম্যাচ দুটি আয়াজন করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব নিয়েই আজ (বুধবার) অনলাইনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন কাজী নাবিল আহমেদ। এক প্রশ্নের উত্তরে আবাহনী লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর ইনচার্জ বলেছেন,‘অবশ্যই ম্যাচ দুটি আয়োজন করা খুব চ্যালেঞ্জিং। ক্রিকেট (আন্তর্জাতিক ম্যাচ) করতে পারলে ভালো হতো। আমরা পরস্পর সকল খেলার সঙ্গে জড়িত। একে অপরের কাছ থেকে আরও বেশি শিক্ষা নিতে পারতাম। যেহেতু আমাদের ওপর দায়িত্ব বেশি পড়ে গেছে, আমরা ক্যাম্প শুরু করতে যাচ্ছি, সেখানে যতদূর সম্ভব আসলে কেউই আমরা সবকিছু জানি না, (কোভিড পরিস্থিতিতে) অন্যদের সাহায্য নেওয়া লাগবে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়সহ অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করে পুরো বিষয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ কাজী নাবিল বলেছেন মাঠের ফুটবল ফিরিয়ে আনতেই কাজ করে চলেছে বাফুফে , ‘এই ঘোষণা দিতে পেরে আমি খুশি যে আমরা ম্যাচ খেলবো। আমাদের ক্যাম্প শুরু হচ্ছে ২৩ অক্টোবর থেকে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব সামনে রেখে অনুশীলন শুরু করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তা হয়নি সেই সময়ে। আমরা এখন ফটবলকে ফিরিয়ে আনতে চাই। প্রীতি ম্যাচ খেলতে যাচ্ছি। নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল। নেপাল এখন খেলতে রাজি হয়েছে। চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে।’
আগামী শুক্রবার থেকে ফুটবল দলের প্রস্তুতি শুরু হবে। দিনকয়েকের মধ্যে কোচ জেমি ডেসহ অন্যরা ক্যাম্পে যোগ দেবেন। অনুশীলনের ভেন্যু তিনটি- বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম,কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম ও শেখ জামাল ধানমন্ডি মাঠ। করোনার আগে বাংলাদেশ সর্বশেষ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলেছে। সাত মাসেরও বেশি সময় খেলার বাইরে ফুটবলাররা। ধরতে গেলে একেবারেই নতুন করে খেলায় ফিরবে দল। কাজী নাবিল বলেছেন,‘সাত মাস ধরে খেলার মধ্যে নেই। তবুও আমাদের কোচরা নিয়মিত অনুশীলন সূচি (ট্রেনিং প্রোগ্রাম) দিয়ে গেছেন, মনিটরিং করে গেছেন নিয়মিত। খেলোয়াড়দের ফিটনেস থেকে শুরু করে সবকিছু। ফুটবল একার খেলা নয়, পুরো টিমের খেলা। আমরা জেতার জন্য খেলবো। তবে জয়ই মুখ্য নয়। এখানে ফুটবলকে মাঠে ফিরিয়ে আনাটাও বড় বিষয়।’ এবারও খেলোয়াড়দের আগে-পরে মিলিয়ে একাধিবার করোনা পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। খেলোয়াড়দের যতদূর সম্ভব বিচ্ছিন্ন করে রাখারও (আইসোলেটেড) চিন্তাভাবনা রয়েছে বলে জানান জাতীয় টিমস কমিটির চেয়ারম্যান, ‘কোভিড টেস্ট করে ক্যাম্পে আসবে সবাই। কোথায় করাবে তা আমরা অনুমোদন করে দেবো। আসার পরে তারপরে আরও দুই-তিনবার পরীক্ষা হবে তাদের। যতটা পারা যায় আইসোলেটেড রাখতে হবে। নেপাল দলেরও একই অবস্থা হবে। এ নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয়ের সভা আছে। সেখানে অনেক নির্দেশনা পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট সবাই সেখানে থাকবেন। তারা ভালো বুঝবেন। তখন বাস্তবায়ন করা যাবে সবকিছু।’
কোভিড-১৯-এর কারণে বিশ্বে বেশিরভাগ জায়গায় ফুটবল ম্যাচ হচ্ছে দর্শক ছাড়াই। নেপালের সঙ্গে দুটি ম্যাচে দর্শক-উপস্থিতি নিয়ে বাফুফের অন্যতম এই সহ-সভাপতি এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, ‘পৃথিবীর অন্য দেশগুলোতে দেখতে পাচ্ছি খুব বেশি দর্শক থাকে না। আমরা এখানে স্বল্প সংখ্যক দর্শক রাখতে পারি। আন্তঃমন্ত্রনালয় সভায় সিদ্ধান্ত হবে। সেটাই বাস্তবায়ন করবো। একেবারেই দর্শকশূন্য খেলা অন্যরকম লাগবে। আশা করছি অল্পকিছু দর্শক যেন রাখতে পারি।’
ম্যাচ সন্ধ্যায় ফ্লাডলাইটের আলোতেও আয়োজিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন কাজী নাবিল,‘আমাদের সন্ধ্যা বেলায় খেলা হলে কী হবে? ফ্লাড লাইটে খেলা আয়োজন করা যাবে কি না আগেই তা পরীক্ষা করা হবে। যদি লাইটের স্বল্পতা থাকে তাহলে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় আলোচনা করবো। যদি দেখা যায় লাইটের স্বল্পতা আছে সেভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ম্যাচ আয়োজনে সমস্যা না হয়।’