দলকে জেতাতে জেতাতে যদি নিজের গোলসংখ্যা বাড়ে ক্ষতি কি? তাতে রেকর্ডটাও হলো। পর্তুগাল ও রিয়াল মাদ্রিদের সর্বোচ্চ গোলদাতার মধ্যে এখন এই আকাঙ্ক্ষাও জেগেছে যে যত শিগগির পারেন জাতীয় দলের হয়ে সর্বাধিক গোলের রেকর্ডটা নিজের করে নেবেন। আর মাত্র ৯টি গোল! ক্লাব ফুটবলে এখন চলছে আন্তর্জাতিক বিরতি। একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ ও ইউরোপীয় নেশনস লিগের দুই ম্যাচ তাকে এর মধ্যেই চূড়ায় বসিয়ে দিতে পারে।
আজ রাতেই অ্যান্ডোরার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ, লিসবনের এস্তাদিও দ্য লুজে (বেনফিকার স্টেডিয়াম)। একটা সময় ইউরোপের পরাশক্তিগুলোর ‘শ্যুটিং প্র্যাকটিসে’র উপলক্ষ্য ছিল একসময় অ্যান্ডোরা, স্যান মেরিনো, লিচেনস্টাইনের মতো ছোট্ট দেশগুলো। সেই অবস্থা অনেক বদলেছে, তবে আকাশ-পাতাল ব্যবধান এখনও হয়নি। এদের সঙ্গে খেলে জাতীয় দলের জার্সিতে গোল বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ এখনও আছে। রোনালদো আজ একটি সুযোগ পাচ্ছেন। তাই বলে আজই ৯ গোল করে দাইয়িকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অলৌকিক স্বপ্ন দেখছেন না। যতটা কাছাকাছি যাওয়া যায় ততই ভালো। দুই গোল, তিন গোল, চার গোলও হতে পারে। ২০১৬ সালের ৭ অক্টোবর অ্যান্ডোরার বিপক্ষে ৬-০ জেতা ম্যাচের চারটি গোলই করেছিলেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। আর একটি মাত্র দলের বিপক্ষেই চার গোল করার রেকর্ড আছে তার-লিথুয়ানিয়া। তার চার গোলের সৌজন্যে ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, পর্তুগাল লিথুয়ানিয়াকে হারিয়েছিল ৫-১ ব্যবধানে।
অ্যান্ডোরার সঙ্গে খেলার জন্য ব্যাকুল রোনালদো। রবিবার সিরি ‘আ’তে লাৎসিও ম্যাচে চোট পেয়েছিলেন অ্যাঙ্কেলে। মঙ্গলবার তাকে পর্যবেক্ষণে রাখে পতুর্গালের মেডিকেল টিম। কথায় বলে না, মন সাড়া দিলে শরীরও সাড়া দেয়! মেডিকেল টিম ৩৫ বছর বয়সী জুভেন্টাস ফরোয়ার্ডকে সবুজ সংকেত দিয়েছে। সুতরাং এস্তাদিও লুজে আজ অ্যান্ডোরার গোলমুখে একটি দীর্ঘ শরীরকে বারবার হানা দিতে দেখা যাবে। যার মাথার মধ্যে ঘুরছে মিশন ‘১১০’-অর্থাৎ কত দ্রুত টপকে যাওয়া যায় ফুটবলের তৃতীয় বিশ্বের এক স্ট্রাইকারকে। অ্যান্ডোরা ম্যাচের পর নেশনস লিগে ১৫ নভেম্বর ফ্রান্স ও ১৭ নভেম্বর ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে খেলা। দাইয়ির কাছাকাছি যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ এসে গেছে সিআর-৭-এর সামনে।
পর্তুগালের কোচ ফের্নান্দো সান্তোস রেকর্ডের ব্যাপারটা বিলক্ষণ জানেন। কিন্তু তার কাছে বেশি গুরুত্ব পায় রোনালদোর সুস্থতা। গোলদাতা রোনালদোর চেয়ে দলনেতা রোনালদোকে অনেক বেশি প্রয়োজনীয় ভাবেন পর্তুগিজ ফুটবল দার্শনিক।