মাঠে নামলেই নেপালের কাছে হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে। সে নিজেদের মাঠেই হোক কিংবা নেপালে। আরও একটি বিষয় স্পষ্ট, ইংলিশ কোচ জেমি ডের অধীনে নেপালের বিপক্ষে জামাল ভূঁইয়ারা কোনও ম্যাচই জিততে পারেনি! ২০১৮ সালে সাফ ফুটবলে ২-০ গোলে হার। সর্বশেষ গত বছর এসএ গেমসে কাঠমান্ডুতে ১-০ গোলে হারতে হয়েছে।
আবারও সেই নেপালের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে প্রেক্ষাপট এবার ভিন্ন। নিজেদের মাঠে, মুজিববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবেই এই জোড়া ম্যাচের আয়োজন। প্রথম ম্যাচটি আগামীকাল শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হবে বিকেল ৫টায়। বাংলাদেশ টেলিভিশন ছাড়াও খেলা দেখা যাবে টি-স্পোর্টসে।
করোনাভাইরাসের কারণে মাঠে খেলা নেই দীর্ঘদিন। করোনা দূর না হলেও মুজিববর্ষের দুই ম্যাচ সুযোগ করে দিচ্ছে মাঠে ফেরার। সুযোগটি দুহাতে লুফে নিতে চাইছেন বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে। ২৪ অক্টোবর থেকে দলের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রস্তুতি নিয়ে খুশি তিনি। বৃহস্পতিবার বাফুফে ভবনের মুজিব কর্নারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ডে বলেছেন,‘দলের প্রস্তুতি ভালো হচ্ছে। তিন সপ্তাহ ধরে ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তাদের উন্নতি চোখে পড়েছে। যেভাবে তারা সবকিছু মানিয়ে নিয়েছে আমি সন্তুষ্ট বলতে পারেন। এত অল্প সময়ে যে তারা সবকিছু করেছে, সেজন্য তাদের কৃতিত্ব দিতেই হচ্ছে।’
আবার খেলায় ফিরতে পারাটাই বড়, তবে জেমি ডে চাইছেন ফেরাটা হোক জয় দিয়ে,‘আমরা বাংলাদেশে ফুটবল আবার ফিরিয়ে আনতে চাই। যদিও হাতে সময় কম। তবে এটা দুই দলের জন্য প্রযোজ্য। কঠিন ম্যাচ হতে যাচ্ছে। ছেলেরা তাদের সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছে। অনুশীলনও ভালো হচ্ছে। আট মাস পর প্রথম ম্যাচ। তারা ভুল করতে পারে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে তারা পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে খেলবে, চোট ছাড়া। সবাই জিততে চায়। আমিও চাই।’
প্রতিপক্ষ নেপাল দলকে সমীহ করছেন ডে, ‘ নেপাল অবশ্যই ভালো দল। তাদের ভালো কিছু খেলোয়াড় আছে। বিশেষ করে আক্রমণভাগে। তাদের হারানো কঠিন। কিন্তু আমরা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি আমাদের ফিটনেস লেবেলও সামগ্রিকভাবে বেড়েছে। আমরা খেলার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।’
আগামী ৪ ডিসেম্বর কাতারে কাতারের সঙ্গে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ম্যাচ। তার আগে স্বাগতিকেরা এ দুটি ম্যাচ খেলে উজ্জীবিত হতে চায়। ডে বলেছেন, ‘কাতার ম্যাচের আগে আমরা চারটি ম্যাচ পাচ্ছি। দুটি ম্যাচ নেপালের বিপক্ষে। আর দুটি ম্যাচ কাতারে গিয়ে ক্লাব দলের বিপক্ষে খেলতে। সবগুলো ম্যাচেই আমরা জিততে চাই। সবাই তাই চায়। তবে আমার দৃষ্টি শুধু জেতার দিকে নয়,আমি খুশি হবো যদি আমরা চারটি ম্যাচ ভালোভাবে খেলতে পারি। এরপর কাতারের বিপক্ষে দারুণ ম্যাচ খেলতে পারি। আগামী ছয় সপ্তাহে সেটাই আমাদের ফোকাস।’
দলে স্কোরিং সমস্যা আছে। প্রতিপক্ষের গোলমুখে গিয়ে গোল করতে ব্যর্থ হচ্ছে ফরোয়ার্ডরা। নতুন খেলোয়াড় দলে আসায় পুরোনো সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার আশায় এবার কোচ, ‘স্কোরিং সমস্যা নতুন নয়। ২০ বছর ধরে চলছে। এটা সহজেই সমাধান হবে না। কিন্তু আমাদের স্কোয়াডে নতুন খেলোয়াড় সুযোগ পেয়েছে। বিপলু ও সুফিলও আছে। আমি আশা করছি তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাঠে নামতে পারবে। ভালো করবে। এটা যদিও এক রাতে বদলে দেওয়া যাবে না।’
বাংলাদেশ দল ৪-৪-২ কিংবা ৪-৩-৩ ফর্মেশনে খেলতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন কোচ। সেক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো দলে সুযোগ পাওয়া দুই ফরোয়ার্ড এমএস বাবলু ও সুমন রেজার খেলার সম্ভাবনা আছে। বাংলাদেশ দলে চোট-সমস্যা থাকলেও করোনা নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। সেই জায়গায় নেপাল দলে ৮ জন খেলোয়াড় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ঢাকায় এসে একজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বুধবার। নেপাল কোচ বালগোপাল মহারজন মনে করেন না তার দলে এতে দুর্বল হয়ে পড়েছে, ‘কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে যাদের করোনার কারণে পাচ্ছি না, আমি মনে করি তাদের জায়গায় অন্য যারা খেলবে তারাও মানসম্মত খেলোয়াড়। তারাও দলের প্রতি শতভাগ নিবেদিত থাকবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবকিছু মানিয়ে চলতে হবে।’
করোনার মধ্যে মাঠে নামাটা চ্যালেঞ্জের বলে মানছেন একসময় বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে খেলে যাওয়া বালগোপাল,‘আমাদের ওখানে খেলা নেই অনেকদিন। যে কারণে খেলাটা বড় চ্যালেঞ্জের। তবে দিন দিন পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। আমি মনে করি দুই দলই এক জায়গায় আছে। আমি আমার দলের কাছে ব্যক্তিগত ও দলগতভাবে ভালো পারফরম্যান্স চাই।’
বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম বালগোপালের বহুদিনের চেনা। এখানে বাংলাদেশের বিপক্ষে সাফল্যও আছে নেপালের। প্রীতি ম্যাচ যদিও, তবুও নেপালের সেই সাফল্যে এবার লাগাম পরানোই উদ্দেশ্য বাংলাদেশের।