ক্রিকেটার সজীবের আত্মহত্যা মেনে নিতে পারছেন না মুশফিক

মুশফিকুর রহিম। শনিবার রাতে আত্মহত্যা করেছেন ২০১৮ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দলের স্ট্যান্ডবাই ক্রিকেটার সজীবুল ইসলাম সজীব। জুনিয়র এই ক্রিকেটারের আত্মহনন কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছেন না মুশফিকুর রহিম। তাই সবাইকে সচেতন করার লক্ষ্যে তিনি ফেসবুকে সরব হয়ে বলেছেন, আত্মহত্যা কোনও সমাধান নয়।

পরিবারের দাবি, ২৪ নভেম্বর শুরু হওয়া বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের প্লেয়ার্স ড্রাফটে নাম না থাকায় হতাশ হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেন ২২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। কিন্তু আবেগের বশে সম্ভাবনাময় এই ক্রিকেটারের আত্মহননের সিদ্ধান্তকে মোটেও মেনে নিতে পারেননি মুশফিকুর রহিম। নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সজিবের ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘ক্রিকেট শুধু একটি খেলা, তবে মনে রাখতে হবে ক্রিকেটের বাইরেও জীবন রয়েছে। দেশের একজন সম্ভাব্য প্রতিভাবান ক্রিকেটারের আত্মহত্যার কথা শুনে গভীরভাবে দুঃখ পেলাম। যাই হোক, আমি সবাইকে অনুরোধ করি যে এই জাতীয় কাজ করার আগে আমাদের পরিবার এবং প্রিয়জনদের সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করুন। আত্মহত্যা কোনো সঠিক পথ নয়, আল্লাহ আমাদের জন্য সমস্ত পরিকল্পনা করেছেন এবং তার পরিকল্পনায় আমাদের বিশ্বাস করা উচিত।’

তবে সজীবের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মুশফিক লিখেছেন, ‘আমাদের সবার জন্যই আল্লাহ সবকিছু ঠিক করে রেখেছেন। আমাদের মহান আল্লাহর সেই পরিকল্পনায় অবশ্যই বিশ্বাস রাখতে হবে। আমি সজীবের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন...।’

সজীব রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার ঝালুকা গ্রামের মুরসেদ আলীর ছেলে। সজীবের বড় ভাই তশিকুল ইসলাম জানান, ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট খেলার প্রতি অনেক আগ্রহ তার। খেলার জন্য বকাও খেয়েছেন এক সময়। একসময় নিজেকে গড়ে তুলেতে ভর্তি হয়েছিলেন রাজশাহীর কাটাখালী বাংলা ট্র্যাক ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে। এর পর শুরু হয় তার সামনের দিকে পথ চলা। এক এক করে তিনি জাতীয় অনূর্ধ্ব ১৫, ১৭ ও ১৯ দলে খেলেছেন। জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কায় কয়েকটি দলের সঙ্গেও খেলেছেন। ভারতের বিপক্ষে একটি ম্যাচে ব্যাট করে সর্বোচ্চ ৯৫ রান সংগ্রহে আছে তার। ওই ম্যাচে তিনি দলের মধ্যে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ছিলেন।