এই একাডেমিতে তিন বিভাগে ৫০ জনের মতো খেলোয়াড় আছে। এর মধ্যে তার হাতে গড়া অনূর্ধ-১৪ দলটি বর্তমানে পল্টন মাঠে বসুন্ধরা কিংস বিএফএসএফ একাডেমি কাপে খেলছে। উঠেছে সেমিফাইনালে। সেই ম্যাচে সাবিনা মাঠে থেকে খেলোয়াড়দের উৎসাহও দিয়েছেন। ভবিষ্যতের খেলোয়াড় তৈরিতে তিনি ভূমিকা রাখতে চান। নিজ জেলার তৃণমূলের খেলোয়াড়েরা যাতে সঠিক পথে থাকে সেই লক্ষ্যেই অন্যদের নিয়ে এই একাডেমি গড়ে তুলেছেন। এই একাডেমি গঠনে তাদের সবরকমের সাহায্য করছেন আবু নাসের মো: আবু সাঈদ। করোনার সময়ে ঢাকার খেলা যখন বন্ধ ছিল, তখনই সাবিনা অন্যদের সঙ্গে মিলে একাডেমি গঠন করেছেন। নিজে উপস্থিত থেকে খেলোয়াড় বাছাই করেছেন। শুরুতে তাদের কোচিংও করিয়েছেন। এখনও একাডেমির দলটির হেড কোচ হিসেবে তার নাম রয়েছে। সময় পেলেই ভিডিও কনফারেন্সসহ নানানভাবে একাডেমির দেখভাল করেন। প্রশিক্ষণ, ব্যবস্থাপনা- সবকিছুই চলে তার রুটিন অনুযায়ী।
সাবিনা স্বপ্ন দেখেন তাদের একাডেমি থেকে একসময় মূল স্তরে খেলোয়াড় উঠে আসবে। বাংলা ট্রিবিউনকে সেই আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন,‘নিজের তাগিদ থেকেই একাডেমি গঠন করেছি সবাই মিলে। যাতে ওরা সবাই ঠিকমতো ফুটবলের দীক্ষাটা পায়। ভবিষ্যতের ফুটবলার হিসেবে গড়ে ওঠে, একসময় জাতীয় পর্যায়ে খেলতে পারে।’ আপাতত সাতক্ষীরায় ছেলেদের নিয়ে এই একাডেমি হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে মেয়েদের নিয়েও আবাসিক প্রস্তুতিতে নামার পরিকল্পনা জানিয়েছেন একাডেমির ম্যানেজার মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ,‘আমাদের একাডেমি গঠনে সাবিনা ভালো ভূমিকা রেখে চলেছে। সাবিনা ছাড়াও অন্যদের সহযোগিতায় একাডেমির কার্যক্রম চলছে। চলতি ডিসেম্বরের মধ্যেই মেয়েদের নিয়ে আবাসিক ক্যাম্প শুরু করবো। তাদের দীর্ঘমেয়াদে প্রশিক্ষণ দেবো। ছেলে ও মেয়ে দুই বিভাগ থেকেই যাতে আমাদের একাডেমি থেকে খেলোয়াড় ওঠে আসে সেটাই লক্ষ্য।’ নিজের তাগিদ থেকে একাডেমি গড়ছেন সাবিনা খাতুন। এই ধারা চলতে থাকলে সাতক্ষীরা থেকে অদূর ভবিষ্যতে সাবিনার মতো অনেক খেলোয়াড় উঠে আসবে। সমৃদ্ধ হবে দেশের ফুটবল। এটা হলফ করেই বলে দেওয়া যায়।