সংবাদ সম্মেলনে তোপের মুখে শুটিং ফেডারেশনের কর্মকর্তারা

যৌন হয়রানি সংক্রান্ত অভিযোগকে ঘিরে কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত শুটিং ফেডারেশন। গত ১ জানুয়ারি অভিযুক্ত ব্যক্তি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দার সাজ্জাদকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়। একই দিনে আরেক চিঠিতে জাতীয় তারকা শুটার কামরুন নাহার কলিকে সাময়িক বহিষ্কার করে ফেডারেশন। শুটিংয়ের এমন টালমাটাল পরিস্থিতিতে বুধবার ফেডারেশন সংবাদ সম্মেলন ডাকলে কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের তোপের মুখে পড়েন।

সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রে শুটিং ফেডারেশন দাবি করে, ফেডারেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় পরিকল্পিত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর প্রপাগান্ডা, মিথ্যাচার এবং মানহানিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, যা ফেডারেশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি দেশের ক্রীড়া প্রশাসন ও শুটিং ক্রীড়ার স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে।

শুটিং ফেডারেশনের ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আরা খানম (আলেয়া ফেরদৌস) লিখিত বক্তব্য পাঠের পরই সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন। শুরুতেই সিনিয়র সাংবাদিকরা আমন্ত্রণপত্রে উল্লেখ করা অভিযোগের ব্যাখ্যা চান। এ বিষয়ে তিনি কোনও সুস্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘শুটারদের বিষয়ে গণমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন হয়েছে, যা যাচাই-বাছাই হয়নি।’ তবে সাংবাদিকরা তাৎক্ষণিকভাবে এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান।

এ সময় ফেডারেশনের সদস্য সারোয়ার হোসেন দুই হাত জোড় করে বলেন, ‘ভুল হয়েছে, আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।’

সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে শুটাররা মানববন্ধন করেছেন, মামলা দায়ের করেছেন এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও অলিম্পিক কমিটিতে চিঠি দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাজ্জাদকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার সুপারিশও করা হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রজ্ঞাপন ও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন থাকার পরও কেন এই সংবাদ সম্মেলন—এ প্রশ্ন বারবার ওঠে। এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদকসহ উপস্থিত কর্মকর্তারা বলেন, ‘ফেডারেশনের ইমেজ ও সত্য বিষয়গুলো তুলে ধরতেই এই আয়োজন।’

অপসারিত সাজ্জাদ ফেডারেশনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল উল্লেখ করে জানানো হয়, তিনি বুধবারও ফেডারেশনে এসেছিলেন। এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আরা বলেন, ‘কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতার জন্যই তিনি আজ এসেছেন।’ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সাজ্জাদকে অব্যাহতি দিলেও ফেডারেশনের কাছে এখনও কোনও চিঠি আসেনি বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘তাকে আমরা কর্মকাণ্ডের বাইরে রাখছি। নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তার বিষয়ে অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।’

অলিম্পিক বৃত্তির আওতায় থাকা শুটার কামরুন নাহার কলির অভিযোগের সত্যতা তদন্ত কমিটি পেয়েছে—এমন তথ্যের পরও কেন তার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে না, সে প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি কর্মকর্তারা। এ সময় বারবার কলির শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এবং দুই দফা শোকজের প্রসঙ্গ তোলা হয়। তবে কলির সংস্থা নৌবাহিনী থেকে তার শাস্তি প্রত্যাহার এবং শোকজের জবাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেলেও ফেডারেশন কর্মকর্তারা জানান, তারা সে সংক্রান্ত কোনও জবাব এখনও পাননি।