ব্যাটসম্যানদের আত্মাহুতিতে বিরক্ত ও ক্ষিপ্ত তামিম

wpid-img_20151123_211934উদ্বোধনী ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে জয়ের পর টানা দুই ম্যাচ হারলো চিটাগং ভাইকিংস। এমন হারের পেছনে ব্যাটসম্যানদের দুষলেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এই ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন চিটাগংয়ের অধিনায়ক।

শনিবার শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে খুলনা টাইটানসের বিপক্ষে ৪ রানে হার মানে চিটাগং। এমন হারের পর তামিম মনে করেন ম্যাচে ফিরতে হলে দ্রুত ব্যাটসম্যানদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে, ‘আমরা যে ধরনের ক্রিকেট খেলছি সেভাবে খেলতে থাকলে এভাবেই হারতে থাকব। ম্যাচে ফিরতে গেলে আমাদের ব্যাটসম্যানদের মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে।’

৩৩ রানে চার উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ক্রিজে নামেন অভিজ্ঞ উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান জহিরুল ইসলাম অমি। তরুণ জাকির হাসানকে সঙ্গে নিয়ে ভালোই খেলছিলেন চিটাগংয়ের এই ব্যাটসম্যান। জাকিরকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে ২১ এবং নবীকে সঙ্গে নিয়ে ৬ষ্ঠ উইকেটে ২৪ রানের জুটি গড়ে আউট হন জহিরুল। ১৮ বল খেলে এক ছক্কায় তিনি তার ২৫ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন। ম্যাচে তখন টানটান উত্তেজনা। এই অবস্থায় জহিরুলের কাছে ড্রেসিরুম থেকে কয়েকবার বার্তা পাঠানো হয়েছিল। হয়তো আরও ধরে খেলার কথাই বার্তা বাহক পৌঁছে দিয়েছিলেন তার কাছে।

জহিরুল অবশ্য সেই বার্তাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ২৫ রানে  শফিউলের বলে জুনায়েদের তালুবন্দি হয়ে সাজঘরে ফেরেন। সংবাদ সম্মেলনে তামিম ব্যাটসম্যানদের প্রতি তার বিরক্তির কথা তুলে ধরেছেন। যদিও স্পষ্ট করে কারো নাম বলেননি! তবে জহিরুলই যে তার মূল বিরক্তির কারণ সেটা পুরোপুরিই স্পষ্ট! তামিম বলেছেন, ‘একজন ব্যাটসম্যানকে ২০ বার ম্যাসেজ পাঠানোর পরও সে যদি ভুল করে তাহলে বুঝতে হবে ওর মাথায় কোনও সমস্যা আছে, স্কিলে সমস্যা না থাকতে পারে। এ ধরনের ক্রিকেটে এই পর্যায়ে ডাল-ভাতের মতো খাইয়ে দিতে হয়; তাহলে আমার দুঃখ করে বলতেই হয় এখানে খেলার দাবিদার সে না।’

কে সেই ব্যাটসম্যান জানতে চাইলে পরক্ষণেই কূটনৈতিক উত্তর দিলেন তামিম, ‘নাম না-ই বলি, ব্যাটসম্যানদের কথা বলছি।’

মূল বোলারাদের বিপক্ষে ব্যাটসম্যানরা মূলত আক্রমণে যায় না। একটু অপেক্ষা করে। এই কারণেই ড্রেসিরুম থেকে খবর পাঠানো হয়েছিল ব্যাটসম্যানদের। তামিম আক্ষেপ করেই বললেন, ‘আমরা হেরে যেতে পারি, সামনে হয়তো আরও হারতে পারি। তবে একটা জিনিস দেখেন ওদের মূল বোলাররা বল করে ফেলছিল। তাদের দুই ওভার শর্ট ছিল। এখন কোনও ব্যাটসম্যান যদি ধৈর্য্য না ধরে। মূল বোলারকে মারতে গিয়ে আউট হয়ে যায়, তাহলে এতবার বার্তা পাঠিয়ে কী লাভ? এই পর্যায়ে খেলতে হলে ব্যাটসম্যানদের মাথা খাটাতে হবে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা যদি আরও একটু ভেবেচিন্তে ক্রিকেট খেলতাম, তাহলে ৬ রান ডিফেন্ড করা অনেক কঠিন ছিল।’ 

/আরআই/এফএইচএম/