শেষ উইকেটে প্রসন্ন ফিরে গেলে খুলনা টাইটানস ৫ বল হাতে রেখে ৯ রানে ম্যাচ জেতে। এই জয়ে পাঁচ দিনের বিরতির পর চট্টগ্রামে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় অব্যহত রেখেছে মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বাধীন দলটি। শনিবারের ম্যাচ নিয়ে খুলনা টাইটানসের এটা টানা তৃতীয় জয়।
ঢাকার বিপক্ষে বড় একটি ম্যাচ জিতলেও ব্যাটিংয়ে আগের মতোই দৈন্যদশা স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে খুলনার। ঢাকা বাজে ফিল্ডিং না করলেও খুলনার ইনিংসে কমপক্ষে ৩০-৪০ রান কম হতো। সব মিলিয়ে তাই মাহমুদউল্লাহ ব্যাটিং নিয়ে আশাহত হতেই পারেনু।
২৩ রানে দুই ওপেনার ফিরে গেলে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ নিজেই দায়িত্ব তুলে নেন। বিপিএলে ক্যারিয়ার সেরা ৬২ রান করে ঢাকার জন্য ১৫৮ রানের টার্গেট দিতে সক্ষম হয় খুলনা।
এই রানের লক্ষ্যে খেলতে গিয়ে ঢাকা ডায়নামাইটস শুরুতেই খেই হারিয়ে ফেলে। এক পর্যায়ে ৮৩ রানে ৭ উইকেট পড়ে যাওয়া ঢাকার হার সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু হঠাৎ করেই শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার সেক্কুগে প্রসন্ন ঝোড়ো এক ইনিংস খেলেন।
আর তাতেই চাপে পড়ে যায় খুলনা টাইটানস। শেষ ওভারে হাতে এক উইকেট নিয়ে প্রসন্নের কাঁধেই ছিল ঢাকার জয়-পরাজয়ের ভাগ্য। কিন্তু সমর্থকদের হতাশ করে দিয়ে প্রসন্ন ফিরে গেলে খুলনা ম্যাচ জেতে ৯ রানের ব্যবধানে।
অথচ এই ম্যাচের মহানায়ক হয়ে থাকতে পারতেন প্রসন্নে। ২২ বলে ৭ ছয়ে তিনি হাফসেঞ্চুরির দেখা পান। সেই সঙ্গে এটা চলতি বিপিএলে সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরি। বিপিএলের সবচেয়ে দ্রুতগতির হাফসেঞ্চুরি ১৬ বলে। ২০১২ সালে আহমেদ শেহজাদের ব্যাট থেকে এসেছিল এমন এক ইনিংস।
প্রসন্ন ম্যাচের নায়ক না হতে পারলেও শেষ পর্যন্ত খুলনা-ঢাকা ম্যাচের নায়ক হয়েছে মোশারফ হোসেন রুবেল। তিনি ৪ ওভারে ৩১ রান খরচ করে নিয়েছেন তিনটি উইকেট। বল হাতে তিনিই মূলত খুলনার দিকে ম্যাচটি হেলে দিতে সাহায্য করেন। সাকিব আল হাসান ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট তিনে পকেটে পুড়েছেন।
৩০ রানে চার উইকেট হারিয়ে যখন খাদের কিনারাতে ঢাকা, তখন সাকিব-মোসাদ্দেক জুটি প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টায় ছিলেন। কিন্তু মোশারফের বলে সাকিব ক্লিন বোল্ড হয়ে গেলে ঢাকার বিপর্যয়টা নিশ্চিতভাবেই নেমে আসে। এরপর দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ করা মোসাদ্দেককেও ফিরিয়ে ম্যাচটি এক প্রকার খুলনার জন্য নিশ্চিত করে ফেলে মোশারফ। তখনও অবশ্য জানা যায়নি খুলনার বোলারদের জন্য টর্নেডো অপেক্ষা করছিল। যদিও শেষ রক্ষা করতে পারেননি প্রসন্ন।
/আরআই/এফএইচএম/