এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অবশ্য ভালো ছিল না পুনের। দলীয় ১৩ রানের মাথায় সৌরভ তিওয়ারির উইকেটটি হারিয়ে ফেলে তারা। মাত্র ১ দলের স্কোরশিটে যোগ করে রানআউটে কাটা পড়েন ভারতীয় এই ওপেনার। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে সেই ধাক্কা সামলে ওঠে পুনে। স্টিভেন স্মিথের সঙ্গে ১১১ রানের পার্টনারশিপ গড়েন আজিঙ্কা রাহানে। ফিফটি আদায় করে রাহানেও ক্রিজ ছাড়লেন রানআউটের শিকার হয়ে। বিদায়ের আগে ৪৫ বলে পাঁচটি চারের মারে ৫৩ রান করেন ভারতীয় এই ক্রিকেটার।
এদিন ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন স্মিথ। গুজরাটের বোলারদের কড়া শাসন করেন তিনি। তুলে নেন ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। ১০১ রান করে ডোয়াইন ব্রাভোর বলে সরাসরি বোল্ড হন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কের ৫৪ বলের ইনিংসটি ছিল আটটি চার ও পাঁচটি ছক্কায় সমৃদ্ধ।
রানের বন্যার দিনে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন মহেন্দ্র সিং ধোনিও। ১৮ বলে দুটি করে চার ও ছক্কায় ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন পুনের অধিনায়ক। ২ বলে ৩ রান করা আরেক অপরাজিত ব্যাটসম্যান থিসারা পেরেরা। গুজরাট লায়ন্সের পক্ষে ভাগ্যবান বোলার ডোয়াইন ব্রাভো। ৪ ওভারে ৪০ রান খরচায় একটি উইকেট দখল করেন তিনি। দলের বাকি বোলাররা উইকেটের দেখা পাননি।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই সপাটে ব্যাট চালান গুজরাটের দুই ওপেনার ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও ডোয়াইন স্মিথ। দলীয় ৯৩ রানের মাথায় ওপেনিং জুটি ভাঙেন রজত ভাটিয়া। ভারতীয় এই পেসার সাজঘরে ফেরান ২২ বলে পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কায় ৪৩ রান করা ম্যাককালামকে।
তবে ফিফটি তুলে নিতে ভুল করেননি অপর ওপেনার স্মিথ। তার ব্যাট থেকে আসে ৬৩ রানের টর্নেডো ইনিংস। মাত্র ৩৭ বল মোকাবিলা করে ৯টি চার ও একটি ছক্কায় মূল্যবান ইনিংসটি সাজান ক্যারিবীয় এই তারকা ক্রিকেটার। সরাসরি বোল্ডআউট করে স্মিথকে প্যাভিলিয়নের পথ ধরিয়ে দেন শ্রীলঙ্কার অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরা। ২০ বলে চারটি চারের সাহায্যে ৩৩ রান করে অশোক দিন্দার কাছে ধরাশায়ী হন দিনেশ কার্তিক। ৬ বলে ৭ রান করা ডোয়াইন ব্রাভোকেও শিকারে পরিণত করেন দিন্দা।
জয়ের জন্য শেষ ওভারে গুজরাট লায়ন্সের দরকার ছিল ৯ রান। গুরুত্বপূর্ণ ওভারটিতে বোলার হিসেবে থিসারা পেরেরাকে বেছে নেন পুনে অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। তবে লঙ্কান পেসার আস্থার প্রতিদান দিতে পারলেন না। তার প্রথম বলেই বাউন্ডানি হাঁকান জেমস ফকনার। পরক্ষণেই একটা ওয়াইড দিয়ে বসেন তিনি। তখন গুজরাটের প্রয়োজন ছিল ৫ বলে ৪ রান।
তৃতীয় বলে সুরেশ রায়নার স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলেন পেরেরা। পরের বলে রানআউটে কাটা পড়েন ইশান কিষাণ। এতে ম্যাচটিতে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা! পঞ্চম বলে দুই রান নিয়ে সেই উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দেন ফকনার। ম্যাচে তখন দুই দলের রানের সমতা। জিততে হলে শেষ বলে ১ রান দরকার ছিল গুজরাটের। শট মিডঅনে বলটি ঠেলে দিয়ে রান তুলে নেন ফরনার। জন্মদিনটা ভালোভাবেই রাঙিয়ে রাখলেন অস্ট্রেলিয়ান এই অলরাউন্ডার। আর তাতে ৩ উইকেটের নাটকীয় জয় পেল গুজরাট। বৃথা গেল পুনের ব্যাটসম্যান স্টিভেন স্মিথের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি।
/এমআর/