আক্ষেপ ভুলে তরুণদের নিয়ে কাজ করতে চান রফিক

২০০৮ সালে জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার পরই যেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে সব সম্পর্ক শেষ হয়ে গিয়েছিল মোহাম্মদ রফিকের। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কোনও কার্যক্রমে তার উপস্থিতি দেখা যায়নি; কেননা বিসিবি তাকে কোনও কাজে লাগায়নি। অবশেষে তাকে ডেকেছে বিসিবি। আগামী রবিবার থেকে বাংলাদেশের এই কিংবদন্তি স্পিনার বিসিবির হাইপারফরম্যান্স ইউনিটের উদীয়মান ক্রিকেটারদের সঙ্গে বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবে কাজ করবেন।মোহাম্মদ রফিক

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ার পর কেরানীগঞ্জে নিজের ব্যবসাতেই বেশি সময় দিয়েছেন রফিক। বিসিবি থেকে তেমন কদর না মেলায় ক্রিকেট নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামাননি রাজ্জাক-সাকিবদের এই অগ্রজ। তবে ঘরোয়া কোনও টুর্নামেন্টে ডাক পেলেই ছুটে এসেছেন ক্রিকেট নিয়ে মেতে থাকতে। এবার অনুজদের নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাওয়ায় তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন সাবেক বাঁহাতি এই স্পিনার। আক্ষেপ ভুলে তার পরিকল্পনা দেশের ক্রিকেট নিয়ে কাজ করা। ভালো মানের স্পিনার তৈরি করা। সব মিলিয়ে মোহাম্মদ রফিক তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করতে মুখিয়ে আছেন।

শুক্রবার বিকালে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় মোহাম্মদ রফিক ক্রিকেট নিয়ে তার বর্তমান ভাবনা, ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। তারই চুম্বক অংশ বাংলা ট্রিবিউন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

বাংলা ট্রিবিউনঅনেক দিন পর ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছেন-নিশ্চয়ই ভিন্ন কোনও অনুভূতি হচ্ছে!

রফিকক্রিকেটে ফিরছি, অবশ্যই ভালো লাগার মতো ব্যাপার। তবে রবিবার কাজে যোগ দেওয়ার পর ভালো লাগাটা পুরোপুরি অনুভব করতে পারবো। আমি সব সময় ক্রিকেট উপভোগ করেছি। এখনও তাই করার চেষ্টা করবো।

বাংলা ট্রিবিউনকী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবেন?

রফিককাজ শুরুর পর খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলে আমার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবো। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আমার যে অভিজ্ঞতা ছিল, সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবো। এই ছেলেরা যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলবে ওখানে যেন কোনও সমস্যা না হয় সেদিকে নজর দেব। আমি দেখেছি ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করার পর জাতীয় দলে ডাক পায়। কিন্তু পরে দেখা যায় তাদের ফিটনেসে বা কৌশলের দিক থেকে অনেক ঘাটতি থাকে। এই জিনিসিটা যেন না হয় এটা নিয়েই বেশি কাজ করবো।

বাংলা ট্রিবিউনঅনেকদিন পর ক্রিকেটে-কতটা চ্যালেঞ্জিং আপনার কাছে?

রফিকযে কোনও পর্যায়ে কাজ করাই চ্যালেঞ্জের। বাংলাদেশ দলে যখন খেলেছি তখনও আমার কাজটা চ্যালেঞ্জিং ছিলো। এখনও তেমনটাই থাকবে। তরুণ ছেলেদের নিয়ে কাজ করতে পেরে আমি খুব খুশি। আগে দেশের জন্য খেলেছি। এখনও দেশের জন্য কাজ করবো-এটাই আমার বড় অর্জন।মোহাম্মদ রফিক

বাংলা ট্রিবিউনবোর্ড চাইলে আরও আগে আপনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারতো; কিন্তু করেনি-এটা নিয়ে কোনও আক্ষেপ আছে?

রফিক:  এটাতো আসলে তাদের ব্যাপার। হয়তো তারা তখন আমাকে প্রয়োজন মনে করেনি। এখন মনে করেছে তাই সুযোগ দিয়েছে। আমার অভিজ্ঞতা দিয়ে বর্তমান ক্রিকেটারদের উন্নতি করতে চেষ্টা করবো। যাতে করে, বাংলাদেশের ক্রিকেটে তারা অবদান রাখতে পারে। নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবো দেশের জন্য কিছু করার। সত্যি কথা বলতে আমার তেমন কোনও আক্ষেপ নেই। আমি এখন তরুণদের নিয়ে কাজ করতে মুখিয়ে আছি।

বাংলা ট্রিবিউনতরুণদের অনেকের খেলাই আপনি দেখেননি; সেক্ষেত্রে তাদের নিয়ে কাজ করাটা কতটা কঠিন হবে?

রফিকসত্যি কথা আমি অনেকদিন ধরে ঘরোয়া ক্রিকেট ফলো করি না। তারপরও পেশাদার কাজে এটা কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এখানে চেনা জানার কিছু নেই। মাঠে গেলে সবার সঙ্গেই কথা হবে। আস্তে আস্তে যার যার সমস্যাগুলো সম্পর্কে জানতে পারবো। এরপর প্রত্যেকের জন্য পৃথক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।মোহাম্মদ রফিক

বাংলা ট্রিবিউনবর্তমান দলে পেসারদের আধিক্য বেশি। অনেকটা পেসার নির্ভর দল। সেক্ষেত্রে স্পিনারদের উৎসাহ দেওয়া কতটা কঠিন হবে?

রফিক:  উইকেটে উপর নির্ভর করেই দল স্পিন কিংবা পেস নির্ভর হয়। আমাদের দলের সাম্প্রতিক সাফল্য পেসারদের হাত ধরে হলেও ভালো মানের স্পিনার যে কোনও উইকেটে সাফল্য পেতে পারে। আমার ধারণা পেসার কিংবা স্পিনার যাই হোক না কেন; তাদের লাইন-লেন্থ ঠিক রাখা জরুরি। বলের ওপর কন্ট্রোল রাখা জরুরি। একজন বোলার কোন ডেলিভারি দিতে চায়-সেটা তার জানা প্রয়োজন। তাহলেই সাফল্য ধরা দেওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায়। দলের স্পিনার কিংবা পেসার আলাদা কোনও সত্ত্বা নয়। ম্যাচ জিততে গেলে সবারই সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। আমি মনে করি না, স্পিনাররা উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে। তাদের উৎসাহিত করার অনেক জায়গা আছে। আমি সেই চেষ্টাই করবো।

/এমআর/