জাতীয় দলের যে তিন ক্রিকেটার শুক্রবারের প্রস্তুতি ম্যাচটিতে সুযোগ পেয়েছেন; তাদের মধ্যে কেবলমাত্র মোসাদ্দেক হোসেনের অনুশীলনটা ঠিকভাবে করতে পেরেছেন। বাকি দুই ব্যাটসম্যান ইমরুল ও সাব্বির সেই অর্থে কিছুই করতে পারেননি।
২৩৪ রানের মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি বিসিবি একাদশের। পেসার করিম জানাতের লেগ স্টাম্পের বল ফ্লিক করতে গিয়ে সহজ ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন অধিনায়ক ইমরুল কায়েস (৮)। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের আগে নিজের শেষ ইনিংসেও ব্যর্থ হলেন এই বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। ইমরুলের বিদায়ের পর পেসার ফরিদ আহমেদের বলে বিদায় নেন এনামুল হক ও সাব্বির রহমান (৯)।
ব্যাক্তিগত ৫ রানে এনামুল এগিয়ে এসে স্টাম্পের বল তুলে মারতে গিয়ে গালিতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। অন্যদিকে অফ স্টাম্পের বাইরের বল টেনে পুল করতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দেন মারকুটে ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান।
গত কিছুদিন সব ধরণের ক্রিকেটে ব্যর্থ হওয়ার লিটন কুমার দাস শুক্রবারের প্রস্তুতি ম্যাচেও হয়েছেন ব্যর্থ। মোহাম্মদ নবীর বল এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্ট্যাম্পড হন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। বিসিবি একাদশের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের মধ্যে কেবলমাত্র দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেন মোসাদ্দেক হোসেন। ৩৯ রানে ৪ উইকেট হারানো বিসিবি একদশকে কক্ষপথে রাখেন ২১ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার।
গত প্রিমিয়ার লিগে এমন পরিস্থিতি থেকে কয়েকবার আবাহনীকে উদ্ধার করেছেন তিনি। শুক্রবার ফতুল্লার দর্শকদের সামনে ৭৬ রানের নজরকাড়া এক ইনিংস খেলেন। যদিও শুরুতে কিছুটা সময় নেন তিনি। ধীরে ধীরে স্পিন আক্রমণের বিপরীতে অসাধারণ ফুটওয়ার্কে দেখিয়েছেন নিজের সামর্থ্য। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের যোগ্যতাও সেই সঙ্গে জানান দিয়েছেন।
৫৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভাঙে মেহেদি হাসান মিরাজের রান আউটে। অনেকটা ছুটে আসা এই অলরাউন্ডার ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু শেষরক্ষা করতে পারেননি। শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করা শুভাগত হোম চৌধুরীর সঙ্গে মোসাদ্দেকের ৫৯ রানের আরও একটি জুটি আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলো স্বাগতিকদের। এই দুইজনের মারকুটে ব্যাটিংয়ে এক সময়ে ৬ ছুঁই ছুই রানের প্রয়োজনীয়তা নেমে এসেছিলো পাঁচের নিচে।
শেষ দিকে আলাউদ্দিন বাবু ও আল আমিন জুনিয়র ব্যর্থ হলে বিসিবি একাদশ ৩৮.১ ওভারে ১৬৭ রানেই থেমে যায়। সর্বশেষ প্রিমিয়ার লিগে ভিক্টোরিয়ার হয়ে দূর্দান্ত পারফরম করা আল আমিন জুনিয়র রানের খাতা না খুলেই লেগ স্পিনার রশিদ খানের বলে সাজঘরের পথ ধরেন।
আফগানিস্তানের বোলারদের মধ্যে ডানহাতি অফ স্পিনার মোহাম্মদ নবী সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নিয়েছেন ২৪ রান খরচায়। এছাড়া লেগ স্পিনার রশিদ খান ও বাঁহাতি পেসার ফরিদ আহমেদ প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। একটিমাত্র উইকেট নিয়েছেন ডান হাতি পেসার করিম জান্নাত।
এর আগে টসে জিতে বিসিবি একাদশের অধিনায়ক ইমরুল কায়েস ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। দলীয় ৩০ রানে আবু হায়দার রনির অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বলটি খেলতে গিয়ে উইকেটরক্ষণ লিটন কুমার দাসকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন নওরোজ মঙ্গল (১০)। সঙ্গীর বিদায়ে ফিরে যান আরেক ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ। তিনি আলাউদ্দিন বাবুর বলে বোল্ড হন ব্যক্তিগত ১৭ রানে।
হাসমতউল্লাহ শাইদির সর্বোচ্চ ৬০ রানে মূলত আফগানিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ২৩৩। ৯৬ বলে ৫ চার ও ১ ছয়ে তিনি তার ৬০ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন। অন্য ব্যাটসম্যাদের মধ্যে মীরওয়াইজ আশরাফ অপরাজিত ৩২, আজগর স্টানিকজাই ৩১ এবং রশিদ খান ৩০ রান করেন।
বিসিবি একাদশের বোলারদের মধ্যে ২০ জনের পুলে থাকা মেহেদি হাসান মিরাজ, আলাউদ্দিন বাবু ও শুভাশীষ রায় ছিলেন প্রস্তুতি ম্যাচের একাদশে। এদিন তারা দারুণ বোলিং করেছেন। মিরাজ ও আলাউদ্দিন বাবু সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন। মিরাজ ৮ ওভারে ৪৮ রান এবং আলাউদ্দিন বাবু ৮.২ ওভারে ৩২ রান খরচ করেছেন। এছাড়া আবু হায়দার রনি ও শুভাশীষ প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
আফগানিস্তান : ৪৯.২ ওভারে ২৩৩ (নওরোজ মঙ্গল ১০, শাহজাদ ১৭, রহমত ৮, হাসমতউল্লাহ ৬৯, স্টানিকজাই ৩১, রশিদ ৩০, নুরি ১০, আশরাফ ৩২*; নবী ৬, জান্নাত ৬, দৌলত ০; আলাউদ্দিন ৩/৩২, হায়দার ২/২২, শুভাশীষ ২/৪৪, মোসাদ্দেক ০/১২, সানজামুল ০/৩৭, রাব্বি ০/৩২, মেহেদি ৩/৪৮)।
বিসিবি একাদশ: ৩৮.১ ওভারে ১৬৭ (ইমরুল ৮, এনামুল ৫, সাব্বির ৯, মোসাদ্দেক ৭৬, লিটন ৬, মেহেদি ১৫, শুভাগত ৩৪, আলাউদ্দিন ০, আল আমিন ৫, হায়দার ০, সানজামুল ০*; ফরিদ ২/১৯, জান্নাত ১/২৮, আশরাফ ০/৪, নবী ৪/২৪, হামজা ০/৪৩, রশিদ ২/২৫, রহমত ০/২১)।
/আরআই/কেআর/