একাডেমিতে গুরু-শিষ্যের কথন

IMG_3257সকাল আটটা থেকে মিরপুর স্টেডিয়ামে সাজসাজ রব। কারণও আছে। শুক্রবার থেকে মাঠে গড়াচ্ছে বিপিএল চতুর্থ আসর। আগের দিন তাইতো সবগুলো দলই অনুশীলন করেছে একাডেমি মাঠে। রাজশাহী কিংসের অনুশীলনের শেষ মুহূর্তে মাঠে ঢোকে খুলনা টাইটানস। মিরাজ ছিলেন একাডেমির মাঠে ঢোকার গেটেই। ততক্ষণে খুলনা টাইটানসের কোচ স্টুয়ার্ট ল তার শিষ্যদের নিয়ে মাঠে ঢুকে গেছেন।

মাঠে ঢুকেই পুরনো শিষ্যকে দেখে লোভ সামলাতে পারলেন না। বুকে টেনে নিলেন মিরাজকে। তরুণ এই অলরাউন্ডার যেন কিছুটা লজ্জাই পেলেন। এরপর ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে স্টুয়ার্ট ল’র সঙ্গে কিছুক্ষণ আলাপ করলেন মেহেদী হাসান। হয়তো ভবিষ্যতের কর্মপন্থা বাতলে দিচ্ছিলেন শিষ্যকে!

অবশ্য কিছুক্ষণ পরই মিরাজের মুখ থেকে জানা গেল কী নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল দুইজনের মধ্যে। কী কথা হলো গুরুর সঙ্গে এমন প্রশ্ন শুনে এক গাল হেসে মিরাজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আমার খুব প্রশংসা করেছেন। বলেছেন আগের মতো পরিশ্রম করতে। শৃঙ্খল মেনে অনুশীলন করতে। আর সব সময় ইতিবাচক চিন্তা করতে। ক্রিকেট শুধু গায়ের জোরে খেললেই হয় না, মানসিক ভাবে শক্তিশালীও থাকতে হয়।’

চলতি বছর অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন বাংলাদেশ দলের টেকনিক্যাল পরামর্শক। খুব কাছ থেকেই দেখেছেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের তারকা মিরাজকে। আর সেই মিরাজ যে একদিন সাফল্য পাবেন, তা আগে থেকেই নিশ্চিত ছিলেন স্টুয়ার্ট ল।

বৃহস্পতিবার সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে আলাপ কালে এমন কিছুই বেড়িয়ে আসলো স্টুয়ার্টের কণ্ঠে, ‘মিরাজ পরিশ্রমী ক্রিকেটার। সব সময় শিখতে আগ্রহী থাকে। আমি তাকে নিয়ে গর্ববোধ করি। আমার বিশ্বাস এভাবে পরিশ্রম করে যেতে পারলে, সে অনেক বড় মাপের ক্রিকেটার হবে। ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যা করেছে এক কথায় অসাধারণ। আমি প্রত্যাশা করি এই ধারা সে বজায় করবে।’

সবকিছু ছাপিয়ে বৃহস্পতিবার দিনটায় সব আলো গিয়ে পড়লো মিরাজের মুখে। সদ্যই শেষ হওয়া ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে মিরাজের ঘূর্ণি জাদুতেই লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ইংলিশদের ব্যাটিং লাইনআপ। ১২৯ বছরের রেকর্ড ভেঙে মেহেদী হাসান দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১৯ উইকেট নিয়ে সবার উপরে আছেন।

এমন পারফরম্যান্সের পর স্বভাবতই তাকে ঘিরে সবার আগ্রহ থাকবে-এমনটাই স্বাভাবিক। বৃহস্পতিবার সকাল এগোরোটা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত হয়েছেও তাই। অনুশীলনের সময়ও ভক্তদের আবদার মেটাতে হয়েছে মিরাজকে। ভক্তদের ছাপিয়ে এইসব আবদার গিয়েছে অন্যত্রও।

ছবি : লাবিব হাসান এলিস

/এফআইআর/