টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ১৬ বছর পূর্তি

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ১৬ বছর পূর্তি১০ নভেম্বর, ২০০০ সাল। টেস্ট ক্রিকেটের অভিজাত আঙিনায় বাংলাদেশের প্রবেশের দিন। এই দিনে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে টাইগারদের পথ চলা শুরু হয়। সেই পথ চলার ১৬ বছর পূর্তি হচ্ছে বৃহস্পতিবার।

যদিও বাংলাদেশের ক্রিকেটে জাগরণের সূচনাটা ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জয়ের মাধ্যমে। আইসিসি ট্রফি জিতেই ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে খেলতে যায় বাংলাদেশ। সেখানে পাকিস্তানকে হারিয়ে টেস্ট প্রাপ্তির দাবিটা জোরালো করে টাইগাররা। তারই ধারাবাহিকতায় ২০০০ সালের জুনে আইসিসির পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করে বাংলাদেশ।

এরপর ২০০০ সালের ১০ নভেম্বরের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে বাংলাদেশের। ঢাকায় ঐতিহাসিক অভিষেক টেস্ট আয়োজন করা হয় ভারতের বিপক্ষে। সৌরভ গাঙ্গুলির সঙ্গে সেদিন টস করতে নেমেছিলেন বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয়। অভিষেক ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৪০০ রান করেছিল বাংলাদেশ। অথচ অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো দল তাদের টেস্ট অভিষেকে ৩০০ রানই করতে পারেনি। ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড তো ২০০ রানই পেরোতে পারেনি। আর দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস গুটিয়ে গিয়েছিল মাত্র ৮৪ রানেই।

টেস্ট অভিষেকে দলীয় সর্বোচ্চ রানের স্কোরটা জিম্বাবুয়ের (৪৫৬) রান। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহটা বাংলাদেশের (৪০০)। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোরও বাংলাদেশের দখলে। দেশের এবং নিজের অভিষেক টেস্টেই ১৪৫ রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংস খেলেছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৯১ রানে অলআউট হওয়ায় ভারতের কাছে ম্যাচটি হেরে যায় লাল-সবুজরা।

প্রথম টেস্টে হারলেও প্রাপ্তি কম ছিল না বাংলাদেশের; আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সেঞ্চুরির আগে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন হাবিবুল বাশার সুমন । দুর্জয় ৬টি ও মোহাম্মাদ রফিক নিয়েছিলেন ৩টি করে উইকেট।

সেই থেকে শুরু; সময়ের পরিক্রমায় ১৬ বছরে ৯৫টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। যার মধ্যে ৭২টি ম্যাচেই হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ১৫টি ড্র আর জয় ৮ ম্যাচে।  জয় পাওয়া আটটি টেস্টের পাঁচটি জিতেছে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। দুটি জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং একটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

সিরিজ হিসেব করলে ১৬ বছরে ৪৮ টেস্ট সিরিজ খেলে তিনটিতে জয় বাংলাদেশের। আর হার ৪০টিতে। আর পাঁচটি টেস্ট হয় ড্র। অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে টেস্টে বাংলাদেশের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ।

প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে টাইগারদের নতুন যুগের সূচনা। ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলার পর প্রথম পাঁচ বছরে টেস্ট ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য একেবারেই সুখকর ছিল না। একের পর এক টেস্টে পরাজয়। অবশেষে পাঁচ বছরের মাথায় ২০০৫ সালে আসে বহুল প্রতীক্ষিত প্রথম টেস্ট জয়। অসাধারণ দলগত নৈপুণ্য দেখিয়ে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে হাবিবুল বাশার সুমনের দল লাভ করে প্রথম টেস্ট জয়।

১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির হিসাব মেলেনি। ওয়ানডের তুলনায় টেস্টের সাফল্যের হার নগন্য। তবু টেস্ট মর্যাদা প্রাপ্তির কারণে ক্রিকেট দুনিয়ার শীর্ষ ১০টি দেশের একটি আজ বাংলাদেশ।  ঘরের মাঠে সর্বশেষ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা শেষ দুটি টেস্টে বাংলাদেশ দুর্দান্ত প্রভাব বিস্তার করে খেলেছে। প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে মিরপুরে। যা টেস্ট ক্রিকেটে টাইগারদের নতুন যুগের সূচনা করবে বলেই আশা সবার।

 

/আরআই/