বরিশালের রুদ্ধশ্বাস জয়

বরিশালের রুদ্ধশ্বাস জয় সাব্বির রহমানের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের পরও রুদ্ধশ্বাস ম্যাচটি জিততে পারলোনা রাজশাহী কিংস। ১৯৩ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে  ছয় উইকেটে ১৮৮ রানে থেমে গেছে রাজশাহী। জয়ের কাছে গিয়েও এমন হারে বিফলে গেছে সাব্বির রহমানের করা ১২২ রান তথা বিপিএল-এর সর্বাধিক ব্যক্তিগত রানের ইনিংস!

রবিবার মিরপুরে ওভার প্রতি ৯.৫ রান  করার চাপের মাঝে খেলতে নেমে শূন্য রানেই ওপেনার রাকিবুল হাসানকে হারায় রাজশাহী। অপর ওপেনার মমিনুল হকও বেশিদূর এগোতে পারেননি। ১২ রানে বিদায় নেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

এরপর ষষ্ঠ ওভারের চতুর্থ ও পঞ্চম বলে হঠাৎ ঝড় বয়ে যায় রাজশাহীর ইনিংসের ওপর দিয়ে। আর ঝড়টির উৎস ছিলেন পেসার আল আমিন হোসেন। প্রথমে একটি শর্ট বলে মমিনূলকে পুল করার ফাঁদে ফেলে থিসারা পেরেরার হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। এর পরের বলেই উমল আকমলকে করেন লেগ বিফোর। যদিও রিপ্লেতে দেখা যায় বল উইকেটের উপর দিয়ে যেত কিন্তু আকমলকে শূন্য রানেই সাজঘরে ফিরতে হয়।

যদিও সব বাঁধাকে অতিক্রম করে বীরদর্পে এগিয়ে চলেন রাজশাহীর সাব্বির রহমান। ২৬ বলে তিনি অর্ধশত পূর্ণ করেন। চমৎকার টাইমিং হচ্ছিল; পুল আর ড্রাইভের ছড়াছড়ি ছিল তার ইনিংসে। একাই তিনি টেনে নিয়ে যান রাজশাহীর প্রত্যাশা। ততক্ষণে বরিশাল বুলসের বোলাররা তার কাছে ছিলেন অসহায়। সেই সঙ্গে ৪৪ বলে হাঁকান এবারের বিপিএল-এর প্রথম সেঞ্চুরি।

এরপর যতই সময় যায় ততই যেন বিস্তৃত হতে থাকে সাব্বিরের ব্যাট। ৬১ বলে ১২২ অর্থ্যাৎ ২০০ শতাংশ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসটি শেষ হয় দলীয় ১৫৯ রানে। আল আমিনকে পুল করতে গিয়ে ব্যাটের ওপরের কানায় বল লাগান সাব্বির। বল আকাশে উঠলে, ডেভিড মালান ক্যাচ নিতে ভুল করেননি।

সাব্বির গেলেও আশার ধারক হিসেবে ক্রিজে ছিলেন ড্যারেন স্যামি। ১৯ বলে ২৭ রান করে তিনি রায়ান এমরিটের বলে প্লেইড অন হলে পরে আর কেউ দাঁড়াতে পারেননি।

শেষ ওভারে নুরুল হাসান সোহান ও আবুল হাসান রাজু প্রয়োজনীয় নয় রান করতে পারেননি। ওই ওভারে থিসারা পেরেরা মাথা খাটিয়ে বল করে চার রান দেন আর চার রানের স্মরণীয় জয় পায় বরিশাল বুলস।

/আরএম/এফআইআর/