অথচ মেন্ডিস আউট হলে দৃশ্যপটটা অন্যরকম হতেই পারতো। নিজের প্রথম বলেই যে আউট হয়ে গিয়েছিলেন তিনি! কিন্তু ‘নো’ বল বাঁচিয়ে দিয়েছে তাকে। শুভাশিষ রায়ের বল মেন্ডিসের ব্যাটে লেগে আশ্রয় নেয় উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্ল্যাভসে। বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা উৎসবে মাতলেও টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বল করার সময় নির্ধারিত সীমানা পেরিয়ে গেছেন শুভাশিষ, বলটি তাই ‘নো’। ভাগ্যগুনে বেঁচে যাওয়া এই মেন্ডিসই গলার কাঁটা হয়ে রইল বাংলাদেশের জন্য। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূরণ করে তিনি দিন শেষ করেছেন ১৬৬ রানে অপরাজিত থেকে। ২৪২ বলের ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছেন ১৮ চার ও ২ ছক্কায়।
শ্রীলঙ্কার চতুর্থ উইকেট জুটিটাই সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে। আসিলা গুনারত্নের সঙ্গে মেন্ডিস গড়েন ১৯৬ রানের জুটি। অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠা এই জুটি ভাঙেন তাসকিন আহমেদ। বাংলাদেশি পেসারের বল গুনারত্নের ব্যাটের কানায় লেগে ভেঙে যায় স্টাম্প। তাতে স্বাগতিকরা হারায় চতুর্থ উইকেট। বোল্ড হওয়ার আগে গুনারত্নে ১৩৪ বলে খেলেন ৮৫ রানের কার্যকরী ইনিংস।
এর আগে দ্বিতীয় সেশনের প্রথম দিকে ৩৯.৫ ওভারে মুস্তাফিজের বল উঠিয়ে মারতে গিয়েই তালুবন্দী হন ক্রিজে দীর্ঘক্ষণ মাটি কামড়ে থাকা দীনেশ চান্ডিমাল। ৫৪ বলে ৫ রান করে ফেরেন প্রস্তুতি ম্যাচে আলো ছড়ানো এই ব্যাটসম্যান। এরপরেই দ্রুত গতিতে রান নেওয়ার চেষ্টা করেন একবার ‘জীবন’ পাওয়া মেন্ডিস ও গুনারত্নে।
তাদের প্রতিরোধের আগে মধ্যাহ্ন ভোজে যাওয়ার এক ওভার আগেই দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেয় সফরকারীরা। মেহেদী হাসান মিরাজের অফ স্টাম্পের বাইরের বল মারতে গিয়ে বোল্ড হয়ে ফেরেন ওপেনার করুনারত্নে। ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল আঘাত হানে স্টাম্পে। করুনারত্নে ফেরেন ৩০ রান করে। ৭৬ বলের ইনিংসে ছিল ২টি চার। প্রথম সেশনে ২৪ ওভারে বাংলাদেশ নিয়েছিল ২ উইকেট।
করুনারত্নের বিদায়ের পর প্রতিরোধ দেওয়ার চেষ্টা করেন দুই ব্যাটসম্যান চান্ডিমাল ও মেন্ডিস। আগের জুটির চেয়ে এই জুটি টিকে এক ওভার বেশি। যার স্থায়িত্ব ছিল ১৭.২ ওভার। আর রান এসেছে ৩২।
গলে মঙ্গলবার সকালে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে দেখে-শুনেই খেলছিল শ্রীলঙ্কা। দুই পেসার তাসকিন ও মুস্তাফিজুরকে দেখে খেলছিলেন দুই ওপেনার। যদিও তারা সেভাবে আগ্রাসী বোলিংয়ে ঘায়েল করতে পারেননি দুই ওপেনারকে। কিন্তু শুভাশিষ রায়কে বোলিংয়ে আনার পরই চিত্র যায় পাল্টে। দলীয় ১৫ রানে ৫.৪ ওভারে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন ওপেনার উপুল থারাঙ্গাকে। থারাঙ্গা বিদায় নেন ৪ রানে। অবশ্য পরের বলে ফিরতে পারতেন মেন্ডিসও। শুভাশিষের দ্বিতীয় বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছিলেন। কিন্তু লেগ ‘নো’ হওয়ায় বেঁচে যান লঙ্কান এই ব্যাটসম্যান। এরপরেই জুটি গড়েন করুনা ও মেন্ডিস। দ্বিতীয় উইকেটে এই জুটিতে আসে প্রয়োজনীয় ৪৫ রান। আর হুমকি হয়ে দাঁড়ানো এই জুটিকেই ভেঙে দেন অফ স্পিনার মিরাজ।
প্রথম এই টেস্টে তিনটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। ভারত টেস্ট থেকে তিনটি পরিবর্তনে বাদ পড়েছেন সাব্বির, রাব্বি ও তাইজুল। সুযোগ পেয়েছেন মুস্তাফিজুর, লিটন ও শুভাশিষ। যেখানে বাংলাদেশ তিন পেসার নিয়ে খেলছে, সেখানে শ্রীলঙ্কা দুই পেসার ও তিন বিশেষজ্ঞ স্পিনার নিয়ে খেলছে। পিচে পরে টার্ন পাওয়া যাবে দেখেই এমনটি ভেবেছে স্বাগতিকরা।
/এফআইআর/কেআর/