সবচেয়ে সফল অধিনায়কের মুকুট নিয়েই বিদায়

mash-1শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে কুড়ি ওভার ক্রিকেটকে বিদায় বলবেন মাশরাফি। বিদায়ের আগে অবশ্য বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়কের তকমাটা গায়ে সেঁটেই যাচ্ছেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’।

আচমকা এলো ঘোষণাটি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি শুরুর আগে বাতাসে শোনা যাচ্ছিল জোর গুঞ্জন, সেটা খানিক পর বাস্তবে রুপ নেয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আর টসের সময় নিজের মুখ থেকেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটা দিয়ে দেন মাশরাফি বিন মর্তুজা, ‘টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ আর তাতেই কুড়ি ওভার ক্রিকেটে শেষ হয়ে যায় মাশরাফি-অধ্যায়। বিদায়ের আগে অবশ্য বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়কের তকমাটা গায়ে সেঁটেই যাচ্ছেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’।

ক্রিকেটের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত সংস্করণে মাশরাফির অভিষেক সেই ২০০৬ সালে। খুলনায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শুরু হওয়া যে পথচলা শেষ হয়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর। মঙ্গলবার প্রথম টি-টোয়েন্টির আগ পর্যন্ত মাশরাফি টি-টোয়েন্টিতে খেলেছেন ৫২ ম্যাচ। যেখানে অধিনায়কত্ব করেছেন ২৬ ম্যাচে। খেলোয়াড় মাশরাফির চেয়ে ‘অধিনায়ক’ মাশরাফি হিসেবেই যিনি জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের কোটি ভক্তের হৃদয়ে।

২০০৬ সালে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার শুরু করা মাশরাফি অধিনায়ক হিসেবে নতুন পথচলা শুরু করেন ২০১৪ সালে। যখন মুশফিকুর রহিমকে সরিয়ে তার হাতে দায়িত্ব তুলে দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ওয়ানডের মতো হয়তো এতটা সফল হননি তিনি এই ফরম্যাটে, তবে নতুন আশার বীজ বুনেছেন খেলোয়াড়দের মধ্যে তিনিই। আর সেই পথচলায় কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ অধিনায়কত্ব করার রেকর্ডটাও নিজের করে নিয়েছেন এই পেসার।

২০১৪ সালে অধিনায়কের দায়িত্ব নেওয়ার পর মঙ্গলবারের আগ পর্যন্ত খেলেছেন ২৬ ম্যাচ। যেখানে ৯ জয়ের বিপরীতে হেরছেন ১৬ ম্যাচে। হারের সংখ্যাটা বেশি হলেও জয়ের দিক থেকে তিনি বাংলাদেশের অন্য টি-টোয়েন্টি অধিনায়কদের ছাড়িয়ে। তার অধীনে বাংলাদেশের খেলা একটা ম্যাচ অবশ্য পরিত্যক্ত হয়েছিল বৃষ্টির কারণে। বিশ্ব টি-টোয়েন্টিতে ধর্মশালায় ম্যাচটি ছিল আয়ার‌ল্যান্ডের বিপক্ষে।

জয়ের সংখ্যায় সবার উপরে থাকা মাশরাফির পরের জায়গাটা মুশফিকুর রহিমের। ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’-এর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করার আগে ২৩ ম্যাচে মুশফিকের জয়ের সংখ্যা ছিল ৮। এর মানে মাশরাফির চেয়ে এক ম্যাচ কম জিতেছেন মুশফিক। বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক টি-টোয়েন্টির দায়িত্বে থাকা অবস্থায় হেরেছেন ১৪ ম্যাচ।

জয়ের দিক থেকে তিন নম্বরে মোহাম্মদ আশরাফুল। ২০০৭ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করে ১১ ম্যাচে বাংলাদেশকে জেতাতে পেরেছেন ২ ম্যাচে, বাকি ৯ ম্যাচ শেষ হয়েছে হারের হতাশায়। আশরাফুলের পর এক বছরের জন্য অধিনায়কের দায়িত্ব ছিল সাকিব আল হাসানের ওপর। বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডারের পরিসংখ্যান সবচেয়ে খারাপ! ৪ ম্যাচের একটিতেও যে জেতাতে পারেননি সাকিব! তবে হার-জিতের পরিসংখ্যান যদি করা হয়, তাহলে সবার উপরে শাহরিয়ার নাফীস; অধিনায়কত্ব করা একমাত্র ম্যাচটি তিনি শেষ করেছিলেন যে জয় দিয়ে।

মাশরাফিও চাইবেন শেষটা জয় দিয়ে রাঙিয়ে নিতে। বাংলাদেশের ‍ক্রিকেট ভক্তদের প্রত্যাশাটাও তাই। যদিও শেষটা যা-ই হোক, এরই মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশে সবচেয়ে সফল অধিনায়ক হিসেবে নিজের নামটা খোদাই করে নিয়েছেন মাশরাফি বিন মতুর্জা।

বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক :

অধিনায়ক

সময়কাল

ম্যাচ

জয়

হার

ফল হয়নি

নাফীস

২০০৬-২০০৬

আশরাফুল

২০০৭-২০০৯

১১

সাকিব

২০০৯-২০১০

মুশফিক

২০১১-২০১৪

২৩

১৪

মাশরাফি

২০১৪-২০১৭

২৬*

১৬

 * মঙ্গলবারের ম্যাচ বাদ দিয়ে মাশরাফির পরিসংখ্যান

/কেআর/আরআই/