বৃষ্টিতে খেলতে বাধ্য করে আম্পায়ারদের নতুন বিতর্ক

খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলছেন আম্পায়াররাবৃষ্টিতেও কি ক্রিকেট খেলা যায়! ‘হ্যা’ শব্দটা কারও মুখ থেকেই বের হবে না। কিন্তু আম্পায়ারদের কারণে সেই অসম্ভব হলো সম্ভব। সেটা আবার বাংলাদেশের ক্রিকেটেই, তৃতীয় বিভাগের ম্যাচে। নবীন সংঘের বিপক্ষে ফিল্ডিং দল বাড্ডা সংঘের জয়ের ভালো সুযোগ থাকায় বৃষ্টির মধ্যেও ব্যাটসম্যানদের ক্রিজে নামতে বাধ্য করেছেন আম্পায়াররা। গত মঙ্গলবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে বাড্ডা একতা সমাজ কল্যাণ সংঘ ও নবীন সংঘের তৃতীয় বিভাগীয় ম্যাচে নির্দিষ্ট একটি দলকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে মাঠের আম্পায়ারদের বিরুদ্ধে। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের রিপোর্টে উঠে এসেছে বিতর্কিত বিষয়টি।

প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ম্যাচের ওভার কমিয়ে আনা হয়। ২০ ওভারে নবীন সংঘের টার্গেট দাঁড়ায় ১১৩ রান। লক্ষ্যে নেমে তারা ৭ উইকেট হারালে জয়ের আভাস পায় বাড্ডা সংঘ। এমন সময়ে ম্যাচে হস্তক্ষেপ করে ভারী বৃষ্টি। নবীন সংঘের ব্যাটসম্যানরা স্বাভাবিকভাবেই বৃষ্টি ও ভেজা আউটফিল্ডে ব্যাট করতে অপারগতা জানায়।

প্রথমে আম্পায়াররা মাঠ ঢেকে দিতে মাঠকর্মীদের কভার নিয়ে আসতে বলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তারা সিদ্ধান্ত পাল্টে মাঠ ঢাকতে নিষেধ করেন। আবারও খেলা শুরুর নির্দেশ দেন। জানা গেছে, ‘বহির্গত প্ররোচনা’য় আম্পায়াররা এটা করেছেন। ওই মুহূর্তে বাড্ডা সংঘের জয়ের সম্ভাবনা বেশি ছিল বলে নবীন সংঘকে ব্যাটিংয়ে নামতে বাধ্য করেন তারা।

ওই জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই নবীন সংঘের ব্যাটসম্যান রেদওয়ান ১১ বলে ২৫ রানের দারুণ ইনিংস খেলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। এক সময় জয় হাতছানি দিতে থাকে তাদের, ৩ উইকেট হাতে রেখে নবীন সংঘের দরকার ছিল ২৮ বলে ২৫ রান। কিন্তু হঠাৎ করে আম্পায়ার ম্যাচ বন্ধ করে দিলেন। তখন বৃষ্টি থেমে গেলেও ম্যাচ পরিত্যক্তের ঘোষণা দেন তারা। আম্পায়ারদের এমন সিদ্ধান্তে আরেকবার চোখ কপালে উঠে নবীন সংঘের কর্মকর্তা ও সমর্থকদের। ম্যাচ পরিচালনাকারীদের এমন পক্ষপাতিত্বের বিরোধিতা করে তারা। কিন্তু লাভ হয়নি।

তবে দর্শকরা এ ঘটনার ভিডিও ক্লিপ করে ছেড়ে দিয়েছে সামাজিক মিডিয়ায়। প্রশ্নবিদ্ধ এ আম্পায়ারিংয়ে ছিলেন আবদুল মতিন ও মোহাম্মদ শাহ আলম। ম্যাচ রেফারির দায়িত্বে ছিলেন আবদুল আজিজ শিকদার।

সম্প্রতি বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছিল দ্বিতীয় বিভাগীয় ক্রিকেটে। ঢাকা লিগের একটি ম্যাচে আম্পায়ারের পক্ষপাতিত্বের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে লালমাটিয়া ক্লাব বোলার সুজন মাহমুদ মাত্র ৪ বল করে ৯২ রান দিয়েছিলেন। বিতর্কের জন্ম দেওয়া এ ক্রিকেটারকে বিসিবি নিষিদ্ধ করে ১০ বছরের জন্য। ৬৫ ওয়াইড ১৫ নো বল করেছিলেন লালমাটিয়ার এ ক্রিকেটার। তার ওই ‘কাণ্ড’ তুলে এনেছিল গত বছরের আরেকটি বিতর্কিত ঘটনা। গত বছর একই বিভাগের ম্যাচে ফিয়ার ফাইটার্সের তাসনিম হাসান ইন্দিরা রোডের বিপক্ষে ১.১ ওভারে ৬৯ রান দেন। তিনিও আম্পায়ারের পক্ষপাতিত্বের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। সুজন মাহমুদের সঙ্গে তাকেও ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে বিসিবি। সূত্র- ঢাকা ট্রিবিউন

/এফএইচএম/