৩ পেরিয়ে বাংলা ট্রিবিউন

মেয়েদের ক্রিকেট এগিয়ে যাবেই

রুমানা আহমেদআমার উঠে আসা খুলনা বিভাগ থেকে। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে খুলনা বিভাগ অনেক খেলোয়াড় উপহার দিয়েছে। ছেলেদের মতো মেয়েদের ক্রিকেটেও খুলনার অনেক খেলোয়াড় রয়েছে, যারা বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। আমি ভাগ্যবতী, কারণ আমি খুলনা থেকে এসেছি। ২০১১ সাল থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

ছেলেদের থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে রয়েছি। তবে স্বপ্ন দেখি, এক সময় আমরাও বিশ্ব ক্রিকেটে আধিপত্য বিস্তার করব, বড় দলগুলোকে নিয়মিত হারাতে পারব। আমার বিশ্বাস, ছেলেদের মতো মেয়েদের ক্রিকেটও একদিন এগিয়ে যাবে।

প্রধামন্ত্রী কিছুদিন আগে ছেলেদের পাশাপাশি আমাদেরও পুরস্কৃত করেছেন। এ ধরনের পুরস্কার আমাদের আরও ভালো খেলতে উৎসাহিত করবে। আমরা ছেলেদের সঙ্গে এক মঞ্চে পুরস্কার নিতে পেরে গর্বিত।

নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে এত দূর এসেছি আমি। তবে শুধু আমি নই, জাতীয় দলের প্রায় সব মেয়েকেই নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে ক্রিকেটে নাম লেখাতে হয়েছে। শুধু মনোবলকে সঙ্গী করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

তবে কিছুটা আক্ষেপ তো আছেই। হয়তো ছেলেদের মতো সুযোগ-সুবিধা আমাদের পক্ষে পাওয়া সম্ভব নয়। তারপরও বর্তমানে যা পাচ্ছি, তার চেয়ে একটু বেশি সুযোগ-সুবিধা পেলে আরও ভালো খেলার উৎসাহ পেতাম। অবশ্য এটা ঠিক যে শুরুতে যা পেতাম, বর্তমানে তার চেয়ে সুযোগ-সুবিধা বেশিই পাচ্ছি। তবে ছেলেদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্যটা চোখে পড়ার মতো।

কিছু দিন ধরে আমাদের সময়টা ভালো যাচ্ছে না। তবে আমার বিশ্বাস, আমরা শিগগিরি ঘুরে দাঁড়াব। আমরা একটা লেভেল ক্রস করে অন্য একটা লেভেলে এসেছি, যার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে পারছি। ভবিষ্যতে আমরা আরও এগিয়ে যাব। যদিও একটা আক্ষেপ রয়েছে। এখনও আমরা ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে পারি নি। তবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। একটা স্টেজ থেকে আরেকটা স্টেজে যেতে কিছুটা সময় তো লাগবেই। আমাদের লক্ষ্য, কয়েক বছরের মধ্যে সেরা আট দলের মধ্যে জায়গা করে নেওয়া। তাহলেই আমরা ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে পারব।

অধিনায়ক হিসেবে দলকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখি। বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল একদিন ঘুরে দাঁড়াবেই। দলের প্রত্যেকের ওপর আমার অগাধ আস্থা। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, একটু পরিচর্যা পেলেই আমাদের পক্ষে অনেক দূর যাওয়া সম্ভব।

কিন্তু সেজন্য আমাদের প্রচুর ম্যাচ খেলতে হবে। শুধু অনুশীলন করলেই হবে না, ম্যাচেরও দরকার আছে। নিয়মিত ম্যাচ খেলতে পারলে মেয়েরা নিজেদের ভুলগুলো বুঝতে পারবে। মেয়েদের ক্রিকেটে আরেকটু সুদৃষ্টি দিলে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবেই। অবশ্য ক্রিকেট বোর্ডও যথেষ্ট চেষ্টা করছে।

ছেলেদের সঙ্গে কিছুটা বৈষম্য তো অবশ্যই রয়েছে। কিছু দিন আগে ওদের বেতন বাড়ানো হয়েছে। আমাদের নিয়েও হয়তো বিসিবি ভাবছে। সত্যি কথা বলতে কি, এ ধরণের বৈষম্য দেখলে উৎসাহে কিছুটা হলেও ভাটা পড়ে। তবে আমি বিশ্বাস করি, বোর্ড আমাদের জন্য চিন্তাভাবনা করে। হয়তো নানা কারণে আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা দিতে পারছে না।

লেখক : নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক