এলগার লড়াই চালিয়ে গেছেন একা হাতে। সতীর্থদের ব্যর্থতার মাঝে দক্ষিণ আফ্রিকার এই ওপেনার তুলে নিয়েছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি। তার ১৩৬ রানের ইনিংসের ওপর ভর দিয়ে প্রোটিয়ারা দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হয়েছে ২৫২ রানে। মঈনের ঘূর্ণিতে সফরকারীরা শেষ ৩ উইকেট হারিয়েছে স্কোরে কোনও রান যোগ না করে।
ওভাল টেস্ট জিততে হলে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হতো দক্ষিণ আফ্রিকাকে। স্বাগতিক ইংল্যান্ড তাদের দিকে ছুড়ে দিয়েছিল ৪৯২ রানের চ্যালেঞ্জ। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল প্রোটিয়ারা। চতুর্থ দিনের শেষ বিকেলে ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা শেষ পর্যন্ত পারেনি। এলগারের সঙ্গে শেষ দিকে তেম্বা বাভুমা (৩২) ও ক্রিস মরিসের (২৪) পারফরম্যান্সে জয় পেতে কিছুটা দেরি হয়েছে তাদের।
তবে শেষ দিকে বেশি সময় নেননি মঈন। ওভালে প্রথম টেস্ট হ্যাটট্রিকের রেকর্ড গড়ে নিশ্চিত করেন ইংল্যান্ডের জয়। দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো এলগারকে দিয়ে শুরু করেন হ্যাটট্রিক পর্ব। ৭৫তম ওভারের পঞ্চম বলে সেঞ্চুরিয়ান এলগারকে ক্যাচ বানান বেন স্টোকসের হাতে। পরের বলে আবার উইকেট, নতুন ব্যাটসম্যান রাবাদাকেও একইভাবে স্টোকসের হাতে বানালেন ক্যাচ। নিজের পরের ওভারের প্রথম বলে হ্যাটট্রিকের খোঁজে নিলেন বল হাতে। সামনে ছিলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান মরকেল। অফ স্ট্যাম্পের ওপর ফেলা বলটি বাঁক না খেয়ে ভেতরের দিকে ঢুকে আঘাত করল মরকেলের পায়ে। জোরালো আবেদন হলেও আম্পায়ার সাড়া দিলেন না। শেষ পর্যন্ত রিভিউয়ে মঈন পেলেন হ্যাটট্রিকের দেখা।
তার হ্যাটট্রিকের সঙ্গে ইংল্যান্ডের জয়টাও হয়ে যায় নিশ্চিত। যাতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বপ্নটাও উঁকি দিচ্ছে ইংলিশদের মনে। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ১৯৯৮ সালের পর কখনও নিজেদের মাটিতে যে টেস্ট সিরিজ জিততে পারেনি ইংল্যান্ড! ক্রিকইনফো
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
ইংল্যান্ড : ৩৫৩ ও ৩১৩/৮ (ডিক্লে.)
দক্ষিণ আফ্রিকা : ১৭৫ ও ৭৭.১ ওভারে ২৫২ (এলগার ১৩৬, বাভুমা ৩২, মহারাজ ২৪*, মরিস ২৪; মঈন ৪/৪৫, রোল্যান্ড-জোন্স ৩/৭২)।
ফল : ইংল্যান্ড ২৩৯ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : বেন স্টোকস।
সিরিজ : চার ম্যাচের সিরিজ ইংল্যান্ড ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে।
/কেআর/