ধাওয়ান-কার্তিকের হাফসেঞ্চুরিতে ভারতের সমতা

৬৮ রানের ইনিংস খেলার পথে শিখর ধাওয়ানের একটি শটভারতের স্পিনের বিপক্ষে নামার প্রস্তুতিটা দারুণভাবে সেরে নিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। তাই ঘরের মাঠে ভারতীয় বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় শক্তির বিপক্ষে কিউইরা ব্যাটিং করেছিল সাবলীলভাবে। যাতে বড় সংগ্রহ গড়ে চমৎকার এক জয় নিয়েও মাঠ ছাড়ে সফরকারীরা মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম থেকে।

তিন দিন পর মুম্বাই থেকে পুনের ব্যবধানটা বোঝা গেল স্পষ্ট। পেসারদের শক্তি বাড়াতে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ঘাসের সুবিধা দিলো ভারত। যেখানে পুরোপুরি সফল হলেন ভুবনেশ্বর কুমার ও জসপ্রিৎ বুমরাহ। এই দুই পেসারের তোপে নিউজিল্যান্ড ৫০ ওভারে করতে পারে ৯ উইকেটে ২৩০ রান। যে লক্ষ্যে শিখর ধাওয়ান ও দিনেশ কার্তিকের হাফসেঞ্চুরিতে ভারত পৌঁছে যায় ৪ উইকেট হারিয়ে। তাতে ৬ উইকেটের জয়ে সিরিজেও সমতায় ফেরালো স্বাগতিকরা ১-১-এ।

পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে টস জেতা নিউজিল্যান্ড পড়ে ভারতের পেস বোলিং তোপের সামনে। দুর্দান্ত বোলিংয়ে শুরুতেই কিউইদের টপ অর্ডার ভেঙে দেন ভুবনেশ্বর। ৪৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কারও হাতে তুলেছেন এই পেসার। মার্টিন গাপটিলকে (১১) দিয়ে শুরু করে পরে ভুবনেশ্বর ফেরান কলিন মুনরোকেও (১১)। তার বোলিং সঙ্গী বুমরাহও পেয়েছেন সাফল্য। ৩৮ রান খরচায় তার উইকেট ২টি। এই দুই পেসার ২০ ওভারে ৮৩ রান দিয়ে পেয়েছেন নিউজিল্যান্ডের ৫ উইকেট।

সফরকারীদের টপ অর্ডার ব্যর্থ হলেও মিডল অর্ডারে প্রথম ম্যাচের মতো পুনেতেও দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন রস টেলর ও টম ল্যাথাম। অবশ্য ভালো শুরু করেও টেলর ফেরেন ২১ রান করে। আর ল্যাথাম আউট হন ৩৮ রানে। দলীয় স্কোর তখন ৫ উইকেটে ১১৮। ওই অবস্থা থেকে কিউইদের রান যে ২০০ পেরিয়েছে, তার পুরো কৃতিত্ব হেনরি নিকোলস ও কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের। ৪৭ রানের জুটি গড়ে নিকোলস করেন ৪২ রান, আর ডি গ্র্যান্ডহোমের ব্যাট থেকে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৪১ রান।

ব্যাটিংয়ে ভারতের শুরুটাও ভালো ছিল না। টিম সাউদির বলে রোহিত শর্মা ৭ রান করে আউট হলে ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। অবশ্য অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে নিয়ে প্রাথমিক চাপ ভালোভাবেই সামাল দেন আরেক ওপেনার ধাওয়ান। কোহলি বেশিদূর যেতে পারেননি, ২৯ বলে করেন ২৯ রান। নিউজিল্যান্ডকে অবশ্য চেপে ধরার সুযোগ দেননি ধাওয়ান ও কার্তিক। চমৎকার ব্যাটিংয়ে ব্যক্তিগত রানের সঙ্গে দলের সংগ্রহ বাড়িয়ে নেন তারা। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৬৬ রান যোগ করার পথে ধাওয়ান তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২২তম হাফসেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ৮৪ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৬৮ রানের ইনিংস খেলে আউট হন তিনি।

কার্তিক অবশ্য দলের জয় নিশ্চিত করেই ছাড়েন মাঠ। ৯২ বলে হার না মানা ৬৪ রানের ইনিংস খেলে দলে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করার দাবিও জানিয়ে রাখলেন তিনি। ৪ ওভার আগে নিশ্চিত করা জয়ে ক্রিজের অন্যপ্রান্তে থাকা মহেন্দ্র সিং ধোনি অপরাজিত ছিলেন ১৮ রানে। ক্রিকইনফো

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নিউজিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৩০/৯ (নিকোলস ৪২, গ্র্যান্ডহোম ৪১, স্যান্টনার ২৯; ভুবনেশ্বর ৩/৪৫, বুমরাহ ২/৩৮)।

ভারত: ৪৬ ওভারে ২৩২/৪ (ধাওয়ান ৬৮, কার্তিক ৬৪*, পান্ডিয়া ৩০; মিলনে ১/৩৮)।

ফল: ভারত ৬ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা: ভুবনেশ্বর কুমার।