মিরপুরের উইকেট নিয়ে তামিম-মাশরাফির ক্ষোভ

উইকেট নিয়ে অসন্তুষ্ট রংপুর আর কুমিল্লার অধিনায়ক। ছবি- বিসিবিবিপিএলের দ্বিতীয় পর্বে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচ হয়েছিল ১৪টি, বাকি দুটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত। ম্যাচ প্রতি রান হয়েছিল ২৯১.২, ইনিংস প্রতি রান ১৪৫.৬। ১০ দিন পর মিরপুরে বিপিএল ফিরলেও প্রথম ম্যাচে রানের জন্য লড়াই করতে হয়েছে ব্যাটসম্যানদের। রংপুর রাইডার্স-কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ‘লো স্কোরিং’ ম্যাচের পর উইকেট নিয়ে ক্ষোভ জানালেন দুই অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা ও তামিম ইকবাল।

রংপুরকে ৯৭ রানে অলআউট করলেও সহজে জিততে পারেনি কুমিল্লা। শেষ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছানো সাবেক চ্যাম্পিয়নরা জিতেছে ৪ উইকেটে। খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে উইকেটকে ‘জঘন্য’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন কুমিল্লার অধিনায়ক তামিম, ‘সব সময় অজুহাত দেওয়া হয় যে বেশি খেলা থাকায় মিরপুরের উইকেট ভালো থাকে না। অথচ মাঝে ১০ দিন খেলা না হলেও এমন উইকেট! সবচেয়ে হতাশাজনক, এত দর্শক দেখলো ৯৭ রান তাড়া করে শেষ ওভারে জয়। এমন জঘন্য উইকেটে ক্রিকেট খেলাই মুশকিল। আজ হারলেও আমি একই কথা বলতাম।’

মিরপুরে টি-টোয়েন্টির গড় নিয়েও তিনি বিরক্ত, ‘টি-টোয়েন্টিতে একটা মাঠের গড় রান মাত্র ১৪৮! এখানে কীভাবে ভালো কিছু আশা করা যায়। এমন না যে মিরপুরে কখনও ভালো উইকেট খেলা হয়নি। ভালো উইকেট বানানোর সামর্থ্য আমাদের আছে। কিন্তু বিপিএল এলে উইকেটের যে কী হয়, বুঝতে পারি না। উত্তরটা বোধহয় কিউরেটর গামিনি ডি সিলভাই দিতে পারবেন।’

আগে সবুজ ঘাসে ঢাকা ছিল মিরপুর স্টেডিয়ামের আউটফিল্ড। কিন্তু সংস্কারের পর আউটফিল্ড আর আগের মতো নেই। এ নিয়েও ক্ষুব্ধ তামিম, ‘একটা সুন্দর আউটফিল্ডকে ইচ্ছে করে খারাপ বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিসিবির সিইও (নিজামউদ্দিন চৌধুরী) আমাদের বলেছেন, সময় পেলে হয়তো আউটফিল্ড ভালো হয়ে যাবে। আগে আউটফিল্ড খুব ফাস্ট ছিল, দেখতেও সুন্দর লাগতো। এখন দেখতে খুব খারাপ লাগে মাঠটাকে।’

রংপুরের অধিনায়ক মাশরাফিও মিরপুরের উইকেট নিয়ে অসন্তুষ্ট, ‘এ ধরনের উইকেটে টি-টোয়েন্টি খেলা খুব কঠিন। বিশেষ করে চট্টগ্রামে ভালো উইকেটে খেলে আসার  আসার পর এমন উইকেট অপ্রত্যাশিত। আমরা জানি, এখানে টস হারলে বোলিং টিম সুবিধা পায়। কিন্তু এত সুবিধা পাবে যে গুড লেন্থ বলই মাথার ওপর দিয়ে চলে যাবে!’

গামিনি ডি সিলভাকে অবশ্য বাঁচানোর চেষ্টাই করলেন তিনি, ‘কিউরেটর আগেও এখানে ভালো উইকেট বানিয়েছেন। জানি না সমস্যাটা কোথায়, কিন্তু এটা খুঁজে বের করা উচিত। কারণ টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে সবাই ভালো উইকেটে খেলতে চায়। টস হেরেই ম্যাচ হেরে যাওয়ার অনুভূতি নিয়ে নিশ্চয়ই কেউ মাঠে নামতে চায় না!’