বিপিএলের পঞ্চম আসরে আম্পায়ারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে দেড় লাখ টাকা জরিমানা দিয়েছিলেন। এরপর জাতীয় ক্রিকেট লিগের শেষ রাউন্ডে রাজশাহী-ঢাকা মেট্রো ম্যাচ চলার সময় এক কিশোরকে মারধর করে জন্ম দেন আরেকটি বিতর্কিত ঘটনার। শাস্তিটাও তাই কঠিনই পেতে যাচ্ছেন সাব্বির। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়ার পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার সামনে তিনি। সেই সঙ্গে দিতে হবে ২০ লাখ টাকা জরিমানা।
সোমবার বেক্সিমকো কার্যালয়ে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘ডিসিপ্লিনারি কমিটি সাব্বিরের এসব শাস্তির সুপারিশ করেছে। আর বোর্ড তা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
কিশোরকে মারধরের অভিযোগ অবশ্য স্বীকার করেননি সাব্বির। রবিবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘ছেলেটা আমার এলাকার ছোট ভাই, আমি তাকে চিনি। আমি মজা করে তাকে কয়েকটা চড় দিয়েছিলাম। যেভাবে খবর প্রকাশ হয়েছে, বিষয়টি মোটেও তেমন নয়।’
গত ২১ ডিসেম্বর ঘটনার দিনই ম্যাচ রেফারি মৌখিকভাবে বিষয়টি রিজার্ভ আম্পায়ারকে অবহিত করেন। পরদিন সাব্বির ও তার দল রাজশাহীর ম্যানেজারকে ডেকে তাদের বক্তব্য শোনেন ম্যাচ রেফারি।
তখনও নাকি ম্যাচ রেফারি শওকাতুর রহমান হুমকি দিয়েছিলেন সাব্বির। এ বিষয়ে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘সেদিন আমার মেজাজ খারাপ ছিল। আমি ম্যাচ রেফারির সঙ্গে বাজে ব্যবহার করেছি। আমার এমন করা উচিত হয়নি। আমি ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করে স্যরিও বলেছি। সোমবার আমাকে ডাকবে, সেখানে হয়তো বিস্তারিত বলবো।’
তবে সোমবার সন্ধ্যায় কয়েকবার চেষ্টা করেও সাব্বিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি, তার ফোন বন্ধ ছিল।
রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে ২১ ডিসেম্বর লাঞ্চ বিরতির সময় ১২ বছরের এক কিশোর গ্যালারি থেকে মজা করে কিছু একটা বলেছিল সাব্বিরকে। আর তাতে খেপে যান জাতীয় দলের এই ব্যাটসম্যান। পরিচিত এক ছেলেকে দিয়ে গ্যালারি থেকে ওই কিশোরকে ধরে এনে সাইটস্ক্রিনের পেছনে মারধর করেন তিনি।
পরদিন সাব্বিরের বিরুদ্ধে গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনে বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগে ম্যাচ রেফারি শওকাতুর রহমান প্রতিবেদন জমা দেন।