গত কয়েক বছর ধরে নিজের ফেরার লড়াইয়ে বেশ সংগ্রাম করেছেন এনামুল। ইনজুরি থেকে ফিরে ঘরোয়া ক্রিকেটে রান করেছেন নিয়মিত। সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ১৬ ম্যাচে ৫৯৬ রান করে সেরা ছয়ে ছিলেন ওয়ানডের তিনটি সেঞ্চুরির মালিক। ২০১৬ মৌসুমে জাতীয় লিগে দুই সেঞ্চুরিতে করেছিলেন ৪৬৬ রান। তবুও সুযোগ পাচ্ছিলেন না এনামুল।
অবশেষে সর্বশেষ জাতীয় লিগে ৬ ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি ও এক হাফসেঞ্চুরিতে এনামুল ৬১৯ রান ও বিপিএলে ২০৬ রান করে নজর কেড়েছেন। খুলেছে জাতীয় দলের দরজাও। দুই বছর পারফরম্যান্স করার পর সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত এনামুল। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকার হতাশা কতটা ছিল এ প্রশ্নে তার দৃঢ় জবাব, ‘হতাশার চেয়ে বেশি ছিল চ্যালেঞ্জ। ঘরোয়া পর্যায়ের প্রত্যেকটা আসরই সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে খেলেছি। প্রিমিয়ার লিগের কথাই ধরুন, শেষ হলেই কথা উঠতো এনামুল কতো রান করলো। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও একই কথা। বিপিএলেও সবাই দেখেছে কতো করলাম। এটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জ, নিজেকে আরও ভালো কিছুর জন্য অনুপ্রাণিত করা। আমি সব সময় বড় স্বপ্ন দেখি। এ কারণে হয়তো হতাশ হইনি।’
দলের বাইরে থেকে গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা যে মন্দ হয়েছে তা নয়। এনামুল আত্মবিশ্বাসী বাড়ানোর মতো পারফরম্যান্স করেছেন, ‘প্রিমিয়ার লিগে বা প্রথম শ্রেণির লিগে দলকে জেতানোর মতো কয়েকটি অভিজ্ঞতা আছে। ব্যাটিংয়ে দক্ষতা বাড়ানো ও কিপিংয়ে কিছু উন্নতি করা নিয়েও কাজ করেছি।'
শোনা যায়, সাবেক কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে পছন্দ করতেন না এনামুলের ব্যাটিং। তার হঠাৎ বিদায়ের প্রতিক্রিয়া শুনতে চাওয়া হলো এই ব্যাটসম্যানের কাছে, ‘ওইভাবে (বিদায়ে স্বস্তি কিনা?) কখনও ভাবিনি। একজন আরেকজনকে অপছন্দ করতেই পারে। কোচের বিষয়ে তাই চিন্তা ছিল না। কেউ আসবে, আবার কেউ যাবে। কিন্তু আমাকে খেলে যেতেই হবে।'
নিজের ব্যাটিংয়ের বেশ কিছু কৌশল বদলে ফেলেছেন এনামুল। সেটা এবার মাঠে ফলাতে চান তিনি, ‘এই আড়াই বছরে নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছি। যদি লম্বা ইনিংস খেলতে পারি এবং দলে অবদান রাখতে পারি, তখন বোঝা যাবে উন্নতি কতটা করলাম।’