বেঙ্গালুরুর দুঃস্বপ্ন কাটাতে পারবে বাংলাদেশ?

অনুশীলনে ফুরফুরে মেজাজে মাহমুদউল্লাহরা (ছবি: বিসিবি)দেশের মাটিতে গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ৬টি হেরেছে বাংলাদেশ। এ বছর এমন অস্বস্তিকর পরিসংখ্যান নিয়ে শ্রীলঙ্কায় পা রেখেছে তারা। মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে নিদাহাস ট্রফি মিশন। যেখানে প্রথম ম্যাচে নামার আগে আলোচনা কেবল দুই বছর আগের একটি ম্যাচ নিয়ে। প্রতিপক্ষ ভারত বলেই তো ঘুরেফিরে আসছে বেঙ্গালুরুর সেই ম্যাচটি।

মাহমুদউল্লাহ কিন্তু ভুলে থাকতে চাইলেন বেঙ্গালুরুর দুঃস্বপ্নের কথা, ‘বেঙ্গালুরুর ম্যাচ ওইদিন শেষ হয়ে গেছে। ক্রিকেটে দুর্ঘটনা ঘটে। সেটা নিয়ে বসে থাকার কোনও মানে নেই। সেখান থেকে শেখাটাই ভালো।’

২০১৬ সালের বিশ্বকাপে প্রথমবার টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে হারানোর একেবারে কাছে ছিল বাংলাদেশ। শেষ ওভারে মাত্র ১১ রান লাগতো, হার্দিক পান্ডিয়াকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে টানা চার মেরে মুশফিকুর রহিম কাজটা সহজ করে দিয়েছিলেন। শেষ ৩ বলে দরকার ছিল মাত্র ৩ রান, সেখানে তিন বলে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মাত্র ১ রানের নির্মম হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে আজ সন্ধ্যায় ভারতকে মোকাবিলা করবেন মাহমুদউল্লাহরা।

ওই হারের দুঃস্বপ্ন কাটানোর মিশন বাংলাদেশের সামনে। একই সঙ্গে ভারতের বিপক্ষে প্রথম জয়েরও। ২০০৯ সাল থেকে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ৫ টি-টোয়েন্টি খেলে একটিও জেতেনি টাইগাররা। তাছাড়া ২০ ওভারের ক্রিকেটের ফরম্যাটে বলতে গেলে বাংলাদেশের সাফল্য নেই। শেষ ১০ ম্যাচ খেলে মাত্র একটি জিতেছে তারা। তাও আবার গত বছরের এপ্রিলে এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষটি জিতে সমতা ফেরায় তারা।

তামিম-ইমরুলের হাতে থাকবে দলকে দারুণ শুরু এনে দেওয়ার দায়িত্ববাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক এসব পরিসংখ্যানকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। শ্রীলঙ্কার মাটিতে প্রতিপক্ষের কাছে ছেলেখেলার শিকার হতে চান না মাহমুদউল্লাহ, ‘ভালো পারফরম্যান্স করার জন্য চাপ থাকবে স্বাভাবিক। প্রত্যেকটি খেলা হবে আমাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ। আমরা বিশ্বাস করি, ভালো কিছু করার সামর্থ্য আমাদের আছে।’

ভারতের কাছে হারের বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসার মোক্ষম সুযোগই পাচ্ছে বাংলাদেশ। কারণ, প্রতিপক্ষ দলে নেই নিয়মিত অধিনায়ক বিরাট কোহলি, মহেন্দ্র সিং ধোনি ও হার্দিক পান্ডিয়ার মতো সিনিয়ররা। রোহিত শর্মার নেতৃত্বে কম শক্তিশালী দল নিয়ে শ্রীলঙ্কায় এসেছে ভারত। যার প্রভাব পড়েছে প্রথম ম্যাচেই। সাবেক চ্যাম্পিয়নরা লঙ্কানদের কাছে ৫ উইকেটে হেরে সিরিজ শুরু করেছে।

তারপরও মাহমুদউল্লাহ প্রতিপক্ষের দুর্বল অবস্থার দিকে না তাকিয়ে নিজ দলের পারফর‌ম্যান্সে মনোনিবেশ করছেন, ‘প্রত্যেক ম্যাচে আমি আশাবাদী। এই সফরে অভিজ্ঞ কয়েকজন খেলোয়াড় না আনলেও ভারত শক্তিশালী দল। আমরা আমাদের দিকেই মনোযোগী, সেটাই আমাদের সাহায্য করবে।’

দলে নেই সাকিব আল হাসান। তাকে ছাড়া দল সামর্থ্যহীন বা শঙ্কায় এমন চিন্তা মাথায় আনছেন না মাহমুদউল্লাহ। বরং সব ভুলে নতুন দিন শুরু করতে চান তিনি। তবে সবার আগে তার পরামর্শ, ‘বেঙ্গালুরুর ম্যাচটি ভুলে থাকো।’ তাহলেই তো সেই দুঃস্বপ্ন কাটানোর পথে একধাপ এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ! 

* সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাংলাদেশ-ভারতের খেলাটি সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল নাইন ও ডি স্পোর্ট