একাডেমি থেকে প্রতিভা খোঁজার চেষ্টা বিসিবির

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজনস্কুল ক্রিকেট খেলে হারিয়ে যায় অনেকেই। আবার অনেকে ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি হয় ভবিষ্যতের সাকিব-তামিম-মাশরাফি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু একাডেমিতে অনুশীলনের সুযোগ পেলেও নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ হয় না উদীয়মান ক্রিকেটারদের। যে কারণে তাদের প্রতিভাও বিকশিত হতে পারে না।  

আড়ালে থেকে যাওয়া সেই সব ক্রিকেটারের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে  বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।  ঢাকার ৩২টি একাডেমি নিয়ে একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটি। আগামী ২০ মে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের নাম বিসিবি একাডেমি কাপ।

একাডেমি কাপের প্রথম আয়োজন হবে নকআউট পদ্ধতিতে, ম্যাটিং উইকেটে। ৪০ ওভারের এই টুর্নামেন্টে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী ক্রিকেটাররাই শুধু অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। প্রথম রাউন্ডে ১৬টি ম্যাচের বিজয়ীরা খেলবে দ্বিতীয় রাউন্ডে। এরপর দ্বিতীয় রাউন্ড, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল। খেলা হবে বিকেএসপি, সিটি ক্লাব মাঠ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।  

চ্যাম্পিয়ন দলের পুরস্কার এক লাখ আর রানার্স আপ দলের ৫০ হাজার টাকা।  প্রতি ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় তিন হাজার এবং টুর্নামেন্টের  সেরা ব্যাটসম্যান ও সেরা বোলার  ১০ হাজার টাকা পুরস্কার পাবেন।  টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ১৫ হাজার টাকা।

বিসিবির লক্ষ্য, একাডেমি কাপের প্রথম আসর থেকে যত বেশি সম্ভব প্রতিভা খুঁজে বের করা। তাই বিসিবি এবং ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের (সিসিডিএম) তালিকাভুক্ত কোনও ক্রিকেটার এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে না।

সোমবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবি একাডেমি কাপ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজন বলেছেন, ‘টুর্নামেন্টের প্রথম আসরটি পাইলট প্রজেক্ট। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চাই আমরা। আমাদের লক্ষ্য, এখান থেকে ভালো মানের খেলোয়াড় তুলে এনে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। টুর্নামেন্টের চার সেমিফাইনালিস্টকে গেম ডেভেলপমেন্টের আন্ডারে নিয়ে এসে প্রশিক্ষণ দেওয়ারও চেষ্টা করবে বিসিবি।’

বিসিবির প্রধান লক্ষ্য যে প্রতিভাবান ক্রিকেটার খুঁজে বের করা, সে কথাও জানালেন সুজন, ‘বেশিরভাগ ক্রিকেট একাডেমিতে নিয়মিত অনুশীলন করার সুযোগ থাকলেও ম্যাচ খেলার সুযোগ নেই। আর ম্যাচ খেলতে না পারলে প্রতিভা আড়ালেই থেকে যায়। বিসিবি একাডেমি কাপ থেকে প্রতিভাবান ক্রিকেটার খুঁজে বের করবেন নির্বাচক এবং গেম ডেভেলমেন্ট কমিটির সদস্যরা।’

ঢাকা শহরে এখন শ’ খানেক ক্রিকেট একাডেমি আছে। তবে একাডেমি কাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে ৩২টি দল। কোন বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে তাদের বেছে নেওয়া হয়েছে? সুজনের জবাব, ‘অনুশীলন সুবিধা, লেভেল-১ কিংবা লেভেল-২ কোচিং করা কোচ স্টাফ আছে কিনা, কত বছর ধরে একাডেমি চলছে,  কতটা পেশাদার ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। যে সব একাডেমি আমাদের মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি, তাদের আমরা এই টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ দেইনি।’