প্রথমবারের মতো গলফ কোর্সে গিয়েছিলেন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার। ব্যাট-বল রেখে গলফ স্ট্রিক হাতে নিয়ে দিনটা দারুণ উপভোগ করেছেন তিনি। সেটা আরও রঙিন হয়েছে দেশসেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমানকে কাছে পেয়ে। শুরুতে শটগুলো এলোমেলো হলেও মিরাজ সময় গড়ানোর সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন দারুণভাবে। হোলকে লক্ষ্য বানিয়েছেন উইকেট ভেবে!
অপেশাদার তো বটেই, এরপর আবার জীবনের প্রথমবার গলফ স্ট্রিক নিয়েছিলেন হাতে, স্বাভাবিকভাবেই পারের চেয়ে বেশিই খেলতে হয়েছে মিরাজকে। তবে প্রথমবারেই যা করেছেন, তাতে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময়, ‘প্রথমবার গলফ খেলে খুব ভালো লাগছে। (চিত্রনায়ক) রিয়াজ ভাইয়ের সঙ্গে খেলেছি, উনি আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। পাশে অবশ্য সিদ্দিক (সিদ্দিকুর) ভাইও ছিলেন।’
প্রথম দিন খেলেই গলফের প্রেমে পড়ে গেছেন মিরাজ। ক্রিকেট শুরু করার আগে গলফের সঙ্গে পরিচয় হলে নাকি গলফকেই পেশা হিসেবে নিতেন তিনি! গলফের প্রতি আগ্রহ জন্মানোর ঘটনাও ভাগাভাগি করেছেন এই ক্রিকেটার, ‘আজ খেলে খুব ভালো লেগেছে। খেলাটা দারুণ। আমি যখন ক্রিকেট শুরু করি, তখন তো গলফ খেলা সম্পর্কে জানতাম না। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ইংল্যান্ডে যেখানে ছিলাম, তার পাশে গলফ কোর্স ছিল। সাকিব ভাইদের কাছে গলফ সম্পর্কে জেনেছি।’
বাংলাদেশে গলফের নাম উঠলে সবার আগে আসবে সিদ্দিকের নাম। বাংলাদেশের গলফকে বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে দিতে তার অবদান অনেক। সিদ্দিককে নিয়ে মিরাজের উপলব্ধি, ‘সিদ্দিক ভাইয়ের কথা আগে অনেক শুনেছি, তখন থেকে তার প্রতি ভালো লাগা। ভাবতে ভালো লাগে, গলফের মাধ্যমে বিশ্বে আমাদের দেশকে পরিচিত করেছেন সিদ্দিক ভাই। গলফকে তিনি সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।’
গলফ নিয়ে যখন তৃপ্তির ঢেকুর তুলছিলেন মিরাজ, তখনই প্রশ্ন চলে এলো সামনে- ক্রিকেট নাকি গলফ? একটু সময় নিয়ে বললেন, ‘আজকেই প্রথম খেললাম, খুব ভালো লেগেছে। যখন স্ট্রিক ধরলাম খুব ভালো লাগছিল। তবে ক্রিকেটই সহজ হবে। যদিও নিয়মিত গলফ খেললে সেটাও হয়তো আমার জন্য সহজ হয়ে যাবে (হাসি)।’
বাংলাদেশে এই মুহূর্তে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট। যদিও ক্রিকেটাররা অন্য পেশা কিংবা অন্য ক্রীড়াবিদদের সাফল্যে গর্ববোধ করেন। সংবাদমাধ্যমকে তেমনটাই জানিয়েছেন মিরাজ, ‘আমরা যেমন ক্রিকেট খেলে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছি, তেমনি সিদ্দিক ভাইরা গলফ খেলে, রিয়াজ ভাইরা অভিনয় করে দেশকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরছেন। শুধু যে ক্রিকেটই বাংলাদেশকে পরিচিত করছে, তা নয়; অন্য খেলার মাধ্যমেও আমাদের দেশ গোটা বিশ্বে পরিচিতি পাচ্ছে। তাদের নিয়ে আমাদের গর্বের শেষ নেই।’