টানা দ্বিতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ইমাম। আগের ম্যাচে ১১৩ রান করা এই ওপেনার শেষ ওয়ানডেতে করেছে ১১০ রান। সঙ্গে বাবর আজমের হার না মানা ১০৬ রান ও ফখর জামানের ৮৫ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেটে ৩৬৪ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় পাকিস্তান। কঠিন লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৪ উইকেটে ২৩৩ রানের বেশি করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। এরই সঙ্গে দুর্দান্ত পাকিস্তান পাঁচ ম্যাচের সিরিজ শেষ করলো ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে।
থামছেন না ফখর জামান। রান উৎসব চলছেই তার ব্যাটে। নতুন নতুন সব রেকর্ড গড়ে তাক দেওয়া এই ওপেনার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতেও গড়েছেন নতুন এক কীর্তি। ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুততম ১ হাজার রানের রেকর্ডটি এখন তারই। ১৮তম ইনিংসেই ১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করে পেছনে ফেলেছেন ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি ভিভ রিচার্ডসকে।
এতদিন ২১ ইনিংসে ১ হাজার রান করার দ্রুততম রেকর্ড টিকে ছিল। ভিভ রিচার্ডসের পথ ধরে একই সময় নিয়ে হাজারের ঘরে রান নিয়ে গিয়েছিলেন কেভিন পিটারসেন, জোনাথন ট্রট, কুইন্টন ডি কক ও বাবর আজম। তাদের চেয়ে ৩ ইনিংস কম খেলে রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছেন ফখর।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে ১৭ ইনিংসে ৯৮০ রান নিয়ে নেমেছিলেন এই ওপেনার। টেন্ডাই চাতারার বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ১৭ থেকে ২১ রান করতেই দ্রুততম ১ হাজার রানের বিশ্ব রেকর্ড গড়েন ফখর। আগের ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটসম্যান শেষ পর্যন্ত খেলেন ৮৫ রানের ইনিংস। ৮৩ বলের ইনিংস সাজান ১০ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায়।
ফখর এবার সেঞ্চুরি মিস করলেও ভুল করেননি ইমাম। এই তরুণ ওপেনার আগের ম্যাচের ছন্দ ধরে রেখে পেয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি। ১০৫ বলে ৮ চার ও ১ ছ্ক্কায় খেলে যান ১১০ রানের ঝলমলে ইনিংস। উদ্বোধনী জুটিতে ফখরের সঙ্গে ১৬৮ রানের জুটি গড়ার পর দ্বিতীয় উইকেটে বাবরের সঙ্গে যোগ করেন ৭৭ রান।
ইমামের আউটের পর পাকিস্তানের রানের চাকা সচল রাখেন বাবর। পেয়ে যান ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরিও। ৭৬ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় খেলেন হার না মানা ১০৬ রানের ইনিংস। তার সঙ্গে শোয়েব মালিকের (১৮) ও আসিফ আলীর (১৮) ছোট ইনিংস দুটিতে ৩৬৪ রান জমা করে পাকিস্তান।
রান পাহাড়ে চাপা পড়া জিম্বাবুয়ে জয়ের পথে হয়তো হাঁটতেই চায়নি। ব্যাটিংয়ে টিকে থেকে ভালো কিছু করার দিকেই সম্ভবত ছিল মনোযোগ। তাই স্কোরে ২৩৩ রান উঠলেও হারিয়েছে মাত্র ৪ উইকেট। সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেছেন রায়ান মারি। ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও তিনাশে কামুনুকামে দুজনই করেন ৩৪ রান। প্রিন্স মাসভুরে ৩৯, পিটার মুর ৪৪* ও এলটন চিগুম্বুরা করেন ২৫ রান।
চমৎকার সেঞ্চুরিতে এই ম্যাচের সেরা বাবর আজম হলেও গোটা সিরিজে ব্যাটে রান উৎসব করা ফখর জামান জিতেছেন সিরিজসেরার পুরস্কার। ক্রিকইনফো