প্রশ্ন: ছয় নম্বরে ব্যাটিং করতে হলো হঠাৎ করে, এটা কী জানতেন?
ইমরুল: আমি আসলে প্রস্তুত ছিলাম, জানতাম ম্যাচ খেলব। তবে ছয় নম্বরে ব্যাটিং করব এটা জেনেছি ম্যাচের দিন সকালে।
প্রশ্ন: ঠিক কী কারণে আপনাকে ছয় নম্বরে নামানো হয়েছে, সেই ব্যাখ্যা কি টিম ম্যানেজমেন্ট দিয়েছে?
ইমরুল: ম্যাচে রশিদ খান-মুজিব উর রহমান থাকবে। ওদের দুইজনকে খেলতে হবে। যেহেতু বিপিএলে (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স) আমার দলে রশিদ খেলেছে। এজন্য কোচ আমাকে বলছিলেন, ‘তুমি রশিদকে একটু হিসেব করে খেলতে পারবে।’ আমার মাথায় তাই ছিল, আমাকে রশিদের মুখোমুখি হতে হবে।
প্রশ্ন: ছয় নম্বরে ব্যাটিং নিয়ে প্রস্তুত ছিলেন?
ইমরুল: ভালো করলে কী হবে কিংবা খারাপ করলে কী হবে সেটা আমি চিন্তা করি না এখন। আমি এসবে অভ্যস্ত। আমার শুধু এটাই মনে হয়েছে- একটা ম্যাচে সুযোগ পেয়েছি, সেটা শতভাগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে হবে।
প্রশ্ন: রশিদ খানকে এত সহজে খেলা কিভাবে সম্ভব হলো?
ইমরুল: বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে নেটে তার বল খুব বেশি খেলিনি। আমাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে সেই রকম অনুশীলনও হয় না খুব একটা। বড় বড় খেলোয়াড়রা তেমন অনুশীলনও করেন না। কিন্তু তার কিছু কৌশল আমি ধরে ফেলেছিলাম। তার বলের গ্রিপ আমি খেয়াল করতাম। ভিডিও বিশ্লেষণ করেছিলাম, হয়তো বা এ কারণে আগের থেকে আমি তাকে বুঝতে পেরেছি যে কোথায় বলটা সে করতে চাচ্ছে।
প্রশ্ন: বিশ্লেষণের জন্য ভিডিও এখানে এসে দেখেছেন নাকি আগেই?
ইমরুল: আগে অনেক ভিডিও দেখেছি, সম্প্রতিও দেখেছি। দেখতে চেয়েছি কোন গ্রিপে গুগলি করে আর কোনটায় সে লেগ স্পিন করে। তার বল গ্রিপের বিষয়টাই আমি বেশি বিশ্লেষণ করতে চেয়েছি। আপনি যখন আগে থেকে দেখবেন, তখন অনেক কিছু সহজ হয়ে যাবে।
প্রশ্ন: পাকিস্তানের শাদাব খানকে নিয়ে কী পরিকল্পনা?
ইমরুল: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শাদাব খানকে আমি খেলেছি। তার বলেই আউট হয়েছি। বিশ্বের এখন ভয়ঙ্কর লেগ স্পিনার রশিদ, ওকে খেলা কঠিন। শাদাবও ভালো বোলার। কিন্তু তার গ্রিপগুলো দেখা যায়। সহজেই গুগলি বা লেগ স্পিন বোঝা যায়।
ইমরুল: এত গরম হবে ভাবিনি। খুলনাতে খেলেছিলাম ৩৩-৩৪ ডিগ্রিতে। এখানে প্রায় ৪২ ডিগ্রি। এটা খুব কঠিন কন্ডিশন। ব্যাটিংয়ে অনেক কষ্ট হচ্ছিল। তবে থিতু হওয়ার পর কষ্টটা আর কষ্ট মনে হয়নি।
প্রশ্ন: ষষ্ঠ উইকেটে রেকর্ড জুটি গড়েছেন মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে। ক্রিজে থাকার সময় তার সঙ্গে কী কথা হয়েছে?
ইমরুল: আমি আর রিয়াদ ভাই একটা জুটি গড়ার কথাই ভাবছিলাম। ব্যাটিংয়ে তিনি আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। একটা সময় আমার মনে হচ্ছিল আমি বেশি ডট বল দিচ্ছি। আমি তাকে বারবার জিজ্ঞাসা করছিলাম, আমি কি অনেক ডট বল খেলছি? তিনি আমাকে বললেন ‘তুই যেমন খেলছিস, সেভাবেই খেলতে থাক। অসুবিধা নেই, আমরা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করব।’ এক কথায় আমাদের বোঝাপড়াটা খুব ভালো ছিল।
প্রশ্ন: ছয় নম্বরে সফল হওয়ার পর এই জায়গায় নিজেকে দেখছেন কিনা?
ইমরুল: এটা আসলে আমার বিষয় না, ম্যানেজমেন্টের। তারা যদি মনে করে আমাকে এই জায়গায় খেলাবে, আমি প্রস্তুত থাকব।
প্রশ্ন: দারুণ এই ইনিংসের পর ড্রেসিংরুমে প্রতিক্রিয়া কেমন?
ইমরুল: আমাকে সবাই সমর্থন দিয়েছে, বিশেষ করে মুশফিকুর রহিম। এখানে আসার পর থেকে, এমনকি আমি যখন দেশেও ছিলাম তখনও বিভিন্ন খবর দিয়ে সে আমাকে সাহায্য করেছে। আমি পারফর্ম করার পর আমাকে অনেক উৎসাহ দিয়েছে। এটা সতীর্থ হিসেবে অনেক বড় একটা অর্জন।
প্রশ্ন: আপনার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার প্রায় ১০ বছর। এই অভিজ্ঞতা কী কাজে লেগেছে?
ইমরুল: জাতীয় দলে অনেক দিন ধরে খেললে কিছু বিষয় মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়। আমি অভিজ্ঞ, মনের ভেতরে এই ব্যাপারটা কাজ করছিল। হয়তো এজন্যই আমি সফল হয়েছি।