পাকিস্তান জয়ের গল্প শোনালেন মুশফিক

ছবি: এসিসিযুদ্ধেই নেমেছিল বাংলাদেশ। যুদ্ধটা পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে যাওয়ার। মাশরাফিরা ক্রিকেটের ২২ গজের লড়াইয়ে নামার আগেই সবচেয়ে বড় অস্ত্র সাকিব আল হাসানকে হারায়। তারপরও পাকিস্তান বুঝেছে ‘আহত বাঘের’ আক্রমণ কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে।

কন্ডিশন, ইনজুরি, গরম সহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যে মাশরাফির কথাতেই প্রেরণা পেয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচসেরা মুশফিকের কথাতে ওঠে এলো যুদ্ধের সেই প্রেরণা, “মাশরাফি ভাই একটি কথাই বলেছিলেন যে, ‘যুদ্ধে নামলে পেছনে তাকিয়ে থাকার সুযোগ নেই। যুদ্ধে নামলে গা বাঁচিয়ে চললে চলবে না। হয় মারবে, নয় মরবে।’ এটাই দারুণ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। কারণ লড়াইয়ে নামলে আসলে দেখার সুযোগ নেই দলে কে আছে, আর না আছে। সবাইকে সবার শতভাগ দিয়ে খেলতে হবে। আমরা ফল নিয়ে চিন্তা না করে চেষ্টা করেছি শতভাগ দিতে।’ সঙ্গে যোগ করলেন, ‘জানতাম সেটি দিতে পারলে আমরাই জিতব। হয়তো একদিন আমিও থাকব না। আমরা পাঁচজনও থাকব না। তারপরও ক্রিকেট চলতে থাকবে। সবাই সেদিক থেকে অনুপ্রাণিত ছিল যে সত্যিই কিছু করে দেখাতে হবে। মেহেদী, মোস্তাফিজ, মিঠুন- জুনিয়ররা সবাই বড় ভূমিকা রেখেছে।’

পাকিস্তানের বিপক্ষে ৯৯ রানের ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিয়েছেন মুশফিক। এই ইনিংসকে ক্যারিয়ারের সেরা পাঁচ ইনিংসের একটি হিসেবে দেখছেন তিনি, ‘এটা আমার সেরা পাঁচ ইনিংসের মধ্যে থাকবে। ওই সময় একটি জুটি আমাদের দরকার ছিল। উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো ছিল।  মিঠুনকেও কৃতিত্ব দিতে হবে। প্রথম ম্যাচে ভালো করার পর ভালো করতে পারছিল না ও। আজকে (বুধবার) দারুণ খেলেছে। ১২ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর প্রতিপক্ষ আরও চাপ তৈরি করবে, আমরা জানতাম। এ জন্যই আমরা শুরুতে চাপটা সামলে নিয়েছি, পরে শট খেলেছি।’

পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৩৯ রান করে ভয়ে ছিল দল। কারণ এমন কন্ডিশনে এই স্কোরকে যথেষ্ট মনে করেননি মুশফিক, ‘আমার মনে হয়েছিল ২৩৯ যথেষ্ট নয়। আমি ওই সময় (৯৯ রানে) আউট হয়ে বেশ হতাশ ছিলাম। কারণ উইকেট দেখে আমার মনে হয়েছিল ২৬০ রান লড়াকু স্কোর। সেটা করতে হলে আমার টিকে থাকতে হতো। কিন্তু বোলাররা দারুণ করেছে।’ একটু থেমে আবার শুরু করলেন, ‘এই রান ডিফেন্ড করতে হলে শুরুতে উইকেট দরকার ছিল। মোস্তাফিজ যা করেছে, এর চেয়ে ভালো কিছু আর হতে পারে না। গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়েছে। মাশরাফি ভাইয়ের ক্যাচটি ছিল অসাধারণ। কারণ আমরা জানতাম ওদের ব্যাটিংয়ে শোয়েব মালিকই আমাদের মূল হুমকি। দু-একটি সুযোগ হাতছাড়া করলেও ফিল্ডিং সব মিলিয়ে দারুণ হয়েছে।’

৯৯ রানে আউট হওয়া যে কোনও ব্যাটসম্যানের জন্যই হতাশার। যদিও দল জেতাতে ওই হতাশা ভুলে গেছেন মুশফিক, ‘জেতার পর থেকেই আর দুঃখ পাচ্ছি না। দলই আমার কাছে সবার আগে। আমি যদি সেঞ্চুরি করতাম এবং দল ২৬০ করেও হেরে যেত, তাহলে ভালো লাগাটা আমার কখনোই আসতো না। এটা মুখের কথা নয়, আমার মনের কথা। আউট হওয়ার পর আমার হতাশাটা ছিল দলের কারণেই। ড্রেসিং রুমে ফিরেও বারবার বলছিলাম একজন ব্যাটসম্যানের অন্তত ৪৮ ওভার পর্যন্ত খেলা উচিত। কারণ নতুন ব্যাটসম্যানের জন্য ওদের বোলারদের খেলা সহজ নয়।’