ওয়ানডেতে ভারত-বাংলাদেশ মুখোমুখি হয়েছে ৩৪ বার। কিন্তু ফাইনাল মাত্র দুটি। যাতে নেই বাংলাদেশের সুখস্মৃতি। দুই বছর আগে এশিয়া কাপে ৮ উইকেটে হেরে যায় তারা। আর সবশেষ ফাইনালে এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দল মুখোমুখি হয়েছিল নিদাহাস ট্রফিতে। জয়ের সুবাস পেলেও শেষ দিকে হাতছাড়া হয়ে যায় ম্যাচ, হারে ৪ উইকেটে। শুক্রবার তৃতীয়বার ফাইনালে দেখা হওয়ার আগে সেই দুটি শিরোপার লড়াই ফিরে দেখা যাক-
সংযুক্ত আরব আমিরাত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানকে হারিয়ে লিগ পদ্ধতির প্রথম পর্বে দুই নম্বরে থেকে ভারতের সঙ্গে ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। প্রথমবার টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হয় এই মহাদেশীয় লড়াই।
ম্যাচের শুরুতেই কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে দুই দলের লড়াই। মিরপুরের শেরে বাংলায় স্টেডিয়ামে খেলা শুরু হয় নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা পর। ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে হয়ে যায় ১৫ ওভারের। টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ সুবিধা করতে পারেনি। শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহ ঝড় তোলায় ৫ উইকেটে সম্মানজনক ১২০ রান তারা জমায় স্কোরবোর্ডে।
প্রথম ৫ ওভারে দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও তামিম ইকবাল ফিরে যান ১৪ ও ১৩ রান করে। ১২তম ওভার শেষ না হতেই আরও তিন উইকেট বাংলাদেশ হারায় ১১ রানের ব্যবধানে। তখন স্কোর ৫ উইকেটে ৭৫ রান। ৭ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে জ্বলে ওঠেন মাহমুদউল্লাহ। ১৩ বলে দুটি করে চার ও ছয়ে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। সাব্বির রহমান টিকে ছিলেন ৩২ রান করে, খেলেন ২৯টি বল।
জবাব দিতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনারকে হারায় ভারত। রোহিত শর্মা আউট হন আল আমিন হোসেনের বলে। কিন্তু বিরাট কোহলি ৯৪ রানের জুটি গড়েন শিখর ধাওয়ানকে নিয়ে। ৬০ রানের ইনিংস সেরা পারফরম্যান্স করে ধাওয়ান মাঠ ছাড়লে মহেন্দ্র সিং ধোনির ছোট্ট ঝড়ে ৭ বল হাতে রেখে জয় পায় ভারত। ৬ বলে ২০ রানে অপরাজিত ছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক, কোহলি টিকে ছিলেন ৪১ রানে। ২ উইকেটে ১২২ রান করে দলটি।
ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে হটিয়ে ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় ফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। ভারতের কাছে লিগ পর্বে দুটি ম্যাচ হেরেও শিরোপার লড়াইয়ে ওঠে তারা।
ভারতের অধিনায়খ রোহিত শর্মা টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান। তার এই সিদ্ধান্তকে কার্যকরী করে যুজবেন্দ্র চাহাল ও ওয়াশিংটন সুন্দর ৩৩ রানে ৩ উইকেট তুলে নেন প্রথম ৫ ওভারে। তবে সাব্বির রহমান এদিন জ্বলে ওঠেন। ৫০ বলে ৭ চার ও ৪ ছয়ে ৭৭ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন তিনি। মেহেদী হাসান মিরাজের ৭ বলে ১৯ রানও দারুণ অবদান রাখে বাংলাদেশকে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৬ রানে শেষ করতে।
বাংলাদেশের বোলাররা ভারতকে চেপে ধরলেও রোহিত একপ্রান্ত আগলে রাখেন ৪২ বলে ৫৬ রান করে। তবে ম্যাচের ভোল পাল্টে যায় ১৭তম ওভার শেষে। ১৮ বলে ৩৫ রান প্রয়োজন ছিল ভারতের। মোস্তাফিজুর রহমান অসাধারণ এক ওভার বল করলেন, যেখানে মাত্র ১টি রান দিয়ে মনীষ পান্ডের উইকেট নেন।
ওই আউটের পর দিনেশ কার্তিক ক্রিজে আসেন। পরের ওভারে রুবেল হোসেনকে বিধ্বস্ত করে ২২ রান নেন তিনি। শেষ ওভার ছিল সৌম্য সরকারের। শেষ বলে কার্তিক স্ট্রাইকে আসেন, দরকার ছিল ৫ রান। এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান দুর্দান্ত এক ছয় মেরে বাংলাদেশকে আবারও স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় ভাসান।