কোহলির সাইট হ্যাক করেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তরা!

হ্যাক করা কোহলির ওয়েবসাইটএশিয়া কাপ শেষ হয়ে গেছে, তবে তার উত্তাপ পাওয়া যাচ্ছে এখনও। ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে লিটন দাসের আউট এখনও মানতে পারছেন না বাংলাদেশের অনেক ক্রিকেটপ্রেমী। তাদের অনেকে এতটাই ক্ষুব্ধ যে, বিরাট কোহলির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হ্যাক করে প্রতিবাদ জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি)!

সাইবার সিকিউরিটি এন্ড ইন্টেলিজেন্স (সিএসআই) নামের একটি বাংলাদেশি গ্রুপ কোহলির ওয়েবসাইটটি হ্যাক করার খবর ছেপেছে ‘ঢাকা ট্রিবিউন’। ভারতীয় অধিনায়কের সাইট হ্যাক করার কারণও জানিয়েছে তারা। লিটনের স্টাম্পিং আউটটি তারা মেনে নিতে পারেনি। তাই প্রতিবাদ জানাতে কোহলির অফিসিয়াল সাইট হ্যাক করেছে সিএসআই।

কুলদীপ যাদবের বলে উইকেটরক্ষক মহেন্দ্র সিং ধোনির স্টাম্পিংয়ে ১২১ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় লিটনকে। টিভি রিপ্লে অনেকবার দেখে থার্ড আম্পায়ার রড টাকার আউট দেন বাংলাদেশি ওপেনারকে। রিপ্লেতে দেখা গেছে স্টাম্পিংয়ের সময় লিটনের পা লাইনের ওপরই ছিল, কিন্তু পায়ের কোনও অংশ লাইনের ভেতর ছিল কিনা, সেটা জানার জন্যই আম্পায়ার জুম করে দেখার চেষ্টা করেন এবং পরবর্তীতে লিটনকে আউটের সিদ্ধান্ত দেন।

অন দ্য লাইনে পা থাকলে আম্পায়ারের নিজের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে ব্যাটসম্যান আউট কিনা। তবে বেনিফিট অব ডাউটে সিদ্ধান্ত যায় ব্যাটসম্যানের পক্ষে। যেটা পাননি লিটন। তাতেই আম্পায়ার ও আইসিসির ওপর ক্ষোভ ঝরে বাংলাদেশি সমর্থকদের। যার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে কোহলির ওয়েসবাইট হ্যাক করে প্রতিবাদ জানিয়েছে সিএসআই। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও শোরগোল পড়ে গেছে এই ঘটনায়।

হ্যাকার গ্রুপটির বার্তা‘ঢাকা ট্রিবিউন’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিএসআই নামের ওই হ্যাকার গ্রুপটি কোহলির ওয়েবসাইটের তিনটি ছবি সরিয়ে নিজেদের ছবি পোস্ট করে। যার একটিতে রয়েছে লিটনের আউটের সেই ছবি। সঙ্গে নিজেদের লোগো ব্যবহার করে আইসিসির উদ্দেশে পাঠিয়েছে বার্তা। যেখানে লিখেছে, ‘প্রিয় আইসিসি, ক্রিকেট কি ভদ্রলোকের খেলা নয়? সব দলকে কি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা উচিত নয়? দয়া করা জানাবেন এটা কিভাবে আউট? যদি আপনারা গোটা বিশ্বের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা না চান এবং আম্পায়ারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেন, তাহলে যতবার এই সাইট ঠিক করা হবে, ততবার হ্যাক হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে যান।’

একই সঙ্গে ভারতীয় সমর্থকদের উদ্দেশে তারা লিখেছে, ‘এবং আমার ভারতীয় ভাই-বোনেরা, আমরা তোমাদের মোটেও অসম্মান করছি না। দয়া করে বিষয়টি নিয়ে একটু ভাবো। যদি তোমাদের দলের সঙ্গে এই অন্যায় করা হতো, তাহলে কেমন লাগতো? এই খেলায় প্রত্যেকটি দলকে সমানভাবে বিচার করা উচিত।’