প্রথম ইনিংসে ভারত গড়েছিল রানের পাহাড়। তিন সেঞ্চুরিতে ৯ উইকেটে ৬৪৯ রানে স্বাগতিকদের ইনিংস ঘোষণার পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইন। মাত্র ১৮১ রানে প্রথম ইনিংসে অলআউট হওয়ার পর ইনিংস ব্যবধানে হার চোখ রাঙায় ক্যারিবিয়ানদের। ফলোঅনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসেও সফরকারীদের ছন্নছাড়া ব্যাটিং। ১৯৬ রানে দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে গিয়ে বড় লজ্জা নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
একদিনে দুইবার অলআউট হয়েছে ক্যারিবিয়ানরা! তৃতীয় দিন প্রথম ইনিংস শুরু করেছিল তারা ৬ উইকেটে ৯৪ রানে। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ঘূর্ণিতে আর ৮৭ রান যোগ করে শেষ হয় তাদের প্রথম ইনিংস। দ্বিতীয় দিনেই ঘোর অন্ধকারে ঢাকা পড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলটির বোলিং কোচ কোরে কলিমোর জানিয়েছিলেন, এখনও আত্মসমর্পণ করেনি তারা। তৃতীয় দিনে দারুণ কিছু করার আভাস দিয়েছিলেন তিনি। যদিও লজ্জার চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছে অসহায় আত্মসমর্পণই করতে হয়েছে ক্যারিবিয়ানদের।
ফলোঅনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেও কোনও উন্নতি হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। কুলদীপ যাদবের ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়ে পড়ে তারা। এই স্পিনারের ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ভেঙে দেন তাদের টপ ও মিডল অর্ডার। চরম ব্যর্থতার মাঝে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাপ্তি একটাই- কিয়েরন পাওয়েলের ৮৩ রানের ইনিংস। এই ওপেনার ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে না গেলে আরও বড় লজ্জার সামনে পড়তে হতো সফরকারীদের।
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্রুত অলআউট করার পথে কুলদীপ ৫৭ রান খরচায় নেন ৫ উইকেট। সেঞ্চুরিয়ান রবীন্দ্র জাদেজার শিকার ৩টি। আর প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নেওয়া অশ্বিন দ্বিতীয় ইনিংসে পেয়েছেন ২ উইকেট।
ভারতীয় বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন এক ব্যাটসম্যান। অভিষেকে আলো ছড়িয়ে ১৩৪ রানের রেকর্ডময় ইনিংস খেলা পৃথ্বি শ হয়েছেন ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়। ক্রিকইনফো
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: প্রথম ইনিংস ১৪৯.৫ ওভারে ৬৪৯/৯ (ডিক্লে.)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: প্রথম ইনিংস ৪৮ ওভারে ১৮১ (রোস্টন চেস ৫৩, কিমো পল ৪৭, দেবেন্দ্র বিশু ১৭; অশ্বিন ৪/৩৭, সামি ২/২২) ও দ্বিতীয় ইনিংস ৫০.৫ ওভারে ১৯৬ (কিয়েরন পাওয়ের ৮৩, রোস্টন চেস ২০, শাই হোপ ১৭; কুলদীপ ৫/৫৭, জাদেজা ৩/৩৫, অশ্বিন ২/৭১)।
ফল: ভারত ইনিংস ও ২৭২ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: পৃথ্বি শ।