নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন ইমরুল। ১০ বছর আগে অভিষেক হলেও জাতীয় দলে কেন জানি স্থায়ী হতে পারছেন না। টেস্ট দলে মোটামুটি নিয়মিত হলেও ওয়ানডেতে সুযোগ পেতে অপেক্ষায় থাকতে হয় তাকে। তামিম ইকবালের ওপেনিং সঙ্গী হিসেবে কত জনকে নিয়েই না ‘এক্সপেরিমেন্ট’ হয়েছে! তাদের মধ্যে ইমরুল অন্যতম।
গত মাসে এশিয়া কাপের দলে প্রথমে সুযোগ পাননি। সুপার ফোর শুরু হওয়ার ঠিক আগে জরুরি তলব পেয়ে উড়ে যান দুবাইয়ে। ইমরুলের স্ত্রী তখন সন্তান সম্ভবা। আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে যখন নামলেন, ৮১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ ধুঁকছে। মুশফিকের বিদায়ে একটু পর স্কোর হয়ে যায় ৮৭/৫। স্ত্রীকে নিয়ে দুশ্চিন্তা, দলের বিপদ সব কিছু এক লহমায় উড়ে যায় অপরাজিত ৭২ রানের ইনিংসে। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে তার ১২৮ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ, টিকে থাকে টুর্নামেন্টে।
বাবা হওয়ার পর বাংলাদেশের হয়ে আজই তার প্রথম ম্যাচ। উপলক্ষ্যটা স্মরণীয় করে রাখলেন অসাধারণ সেঞ্চুরিতে। জিম্বাবুয়ের পেসার ডোনাল্ড তিরিপানোর শর্ট লেন্থের বল লেগ সাইডে ঠেলে, ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করে, সন্তানকে কোলে নেওয়ার ভঙ্গিতে ব্যাটটা দোলালেন। ইমরুলের কাণ্ড দেখে অধিনায়ক মাশরাফির ঠোঁটে তখন মুচকি হাসি।
রবিবার ওপেন করতে নেমে ইমরুল এক প্রান্ত আগলে রেখে সত্যিকার যোদ্ধার মতো লড়াই করেছেন। সেঞ্চুরি করেও থেমে যাননি, খেলেছেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। ১৪০ বলে খেলা ১৪৪ রানের ইনিংসটা সাজানো ১৩টি চার ও ৬টি ছক্কায়। তাই আগের সেরা ইনিংস (২০১৬ সালের অক্টোবরে মিরপুরেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১১২) পেছনে পড়ে গেছে সহজেই।
ওয়ানডেতে এটা বাংলাদেশের দ্বিতীয় সেরা ব্যক্তিগত ইনিংস। ১৫৪ রান নিয়ে সবার ওপরে তামিম ইকবাল। এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মুশফিকের ১৪৪ রান ছিল দ্বিতীয় সেরা। আজ তার পাশে দাঁড়ালেন ইমরুল।
ওপেনিংয়ে তামিমের সঙ্গী হিসেবে নিজের নামও কি জোরালো করে তুললেন না?