২০১৭ সালের আসরে একাদশে পাঁচ বিদেশি খেলোয়াড়কে রাখতে পারতো দলগুলো। তবে এবার সংখ্যা কমে দাঁড়াচ্ছে চারে। তাছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে প্রতিযোগিতার সময় পাল্টে চলে যাচ্ছে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে। প্রতিযোগিতার সূচি পরিবর্তন হয়ে যাওয়ায় ওই সময় বিদেশি খেলোয়াড়দের ঠিক পাওয়া যাবে কিনা, সেই সংশয়ও আছে। সবকিছু মিলিয়ে ২৮ অক্টোবর প্লেয়ার্স ড্রাফটে খুলনা টাইটানসের পরিকল্পনা ভাগাভাগি করতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন জয়াবর্ধনে।
ধানমন্ডিতে খুলনা টাইটানসের অফিসে প্লেয়ার্স ড্রাফট নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন এভাবে, ‘আমরা চারজন খেলোয়াড়কে ধরে রেখেছি, ইতিমধ্যে সরাসরি সই করেছি বিদেশি দুই খেলোয়াড়কে। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই আমরা ড্রাফটে যাচ্ছি এবং আমাদের অবস্থা বিবেচনা করে অন্য খেলোয়াড়দের দলে নেওয়া হবে। ড্রাফট নিয়ে আমাদের খুব বেশি পরিকল্পনার সুযোগ নেই। তবে আমরা ওখানে (প্লেয়ার্স ড্রাফটে) কিভাবে যেতে চাই, সেটার পরিকল্পনা করা যেতে পারে।’
একাদশে বিদেশি খেলোয়াড়ের সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি সামনে এনে সাবেক লঙ্কান ব্যাটসম্যান বললেন, ‘এ বছর নিয়ম বদলে গেছে, একাদশে চার বিদেশি রাখা যাবে। তাই খেলোয়াড় ধরে রাখার বিষয়ে আমাদের বুঝতে হয়েছে স্থানীয় খেলোয়াড়দের গুরুত্ব কতটা, চিন্তা করতে হয়েছে ১১ জনের মধ্যে সাতজনই হবে দেশি। তাই আমরা তিনজন স্থানীয় খেলোয়াড় রেখে দিয়েছি, আশা করছি ড্রাফট থেকে আরও বেশ কিছু স্থানীয় খেলোয়াড় নিতে পারব।’
গত আসরে লিগ পর্বে ভালো করলেও প্লে অফে বাজেভাবে হারতে হয় খুলনাকে। শিরোপা জেতার বিষয়ে কিছু না বললেও এবারের দল নিয়ে আশাবাদী জয়াবর্ধনে, ‘আমার মতে গত বছর আমরা দারুণ ক্রিকেট খেলেছি, যদিও নকআউটে ভালা করতে পারিনি। ক্রিস গেইলের মতো খেলোয়াড় যেদিন দাঁড়িয়ে যায়, সেদিন আসলে কিছু করার থাকে না। এবারও আমরা আশাবাদী, দলে (নাজমুল হোসেন) শান্ত ও আরিফের (আরিফুল হক) মতো খেলোয়াড় রয়েছে, যারা বাংলাদেশের এগিয়ে চলার পথে নিয়মিত সঙ্গী। আশা করছি ড্রাফট থেকে ভালো একটি দল গড়ে তোলার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারব।’
অক্টোবরের শেষ দিকে প্লেয়ার্স ড্রাফট হলেও খেলা শুরু হবে জানুয়ারিতে, এত লম্বা বিরতিতে খেলোয়াড় হারানোর ঝুঁকি কি থেকে যাচ্ছে না ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর? ইনজুরি কিংবা খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে খেলার বিষয়টি নজরে রাখছেন শ্রীলঙ্কার সাবেক এই অধিনায়কও, ‘কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। গত বছর বিদেশি খেলোয়াড় স্বাক্ষরে কোনও বাধা ছিল না। দলে অনেক খেলোয়াড় থাকায় কেউ ইনজুরিতে পড়লে কিংবা খেলতে না পারলেও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো কেনার চিন্তা করেনি। তবে এ বছর শুধু ড্রাফট থেকেই খেলোয়াড় নেওয়া যাবে এবং আপনি মাত্র ৮ জন বিদেশি খেলোয়াড়ই নিতে পারবেন। তাই কোনও খেলোয়াড় যদি না থাকতে পারে কিংবা চোটে পড়ে, তাহলে তার বদলি নিতে হবে ড্রাফটে থাকা খেলোয়াড়ের মধ্যে থেকেই। এটা একজন কোচের এগিয়ে চলার পথে চ্যালেঞ্জের।’
এই চ্যালেঞ্জের মধ্যেই দুর্দান্ত এক বিপিএলের প্রত্যাশা জয়াবর্ধনের, ‘বিপিএল অনেকটা পথ পাড়ি দিয়েছে এবং সেটা ধারাবাহিকভাবে। গত বিপিএল খুব প্রতিদ্বন্দিতা ছিল, যেটা প্রতি বছরই উন্নতি করছে।’
শুধু বিপিএল নয়, বাংলাদেশ দল নিয়েও কথা বলেছেন খুলনা টাইটানস কোচ। ওয়ানডে ক্রিকেটে শক্তিশালী দল হিসেবে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ এশিয়া কাপের ফাইনালে দেখিয়েছে তাদের সামর্থ্য। মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে এশিয়া কাপের ফাইনালে লড়াই করে হেরেছে ভারতের বিপক্ষে। বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক সম্পর্কে জয়াবর্ধনের মতামত, ‘সে দুর্দান্ত কাজ করে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত নিজেকে ফিট রেখেছে এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে। তার অবদান সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ, তার অভিজ্ঞতা অনেক দিন ধরেই আছে দলের সঙ্গে। সবকিছু মিলিয়ে নিঃসন্দেহে মাশরাফি দারুণ কাজ করছে বাংলাদেশের জন্য।’