আগামী দুই সপ্তাহ মাহমুদউল্লাহর কাঁধে বাংলাদেশের দায়িত্ব। সাকিব আল হাসান ইনজুরিতে মাঠের বাইরে থাকায় এখন টেস্টের অধিনায়ক তিনি। এনিয়ে এই বছর তৃতীয়বার টেস্ট নেতৃত্বে দেখা যাবে তাকে। সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে নামার আগে তাই সতীর্থদের নিয়ে ব্যস্ত থাকলেন মাহমুদউল্লাহ।
গত জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই টেস্টে অধিনায়ক ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। রানবন্যার চট্টগ্রাম টেস্টে দারুণ খেলে ড্র করে বাংলাদেশ। যদিও দ্বিতীয় টেস্টে বিশাল ব্যবধানে হারতে হয় তার দলকে। এবার সামনে জিম্বাবুয়ে। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম জয়ের স্বাদ পাওয়ার স্বপ্ন তার।
এরই মধ্যে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনতে নিজের কৌশলের কথা জানালেন মাহমুদউল্লাহ। তিনি বলেছেন, ‘আমি সবসময় খেলোয়াড়দের স্বাধীনতা দেওয়ার চেষ্টা করি। এটাই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতা পেলে যে যার জায়গা থেকে সেরা পারফর্ম করার সুযোগ পায়। অনেক সময় অধিনায়কত্ব নিজের বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে। সবসময় যে সেটা কাজে লাগবে তাও নয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী নেতৃত্ব দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।’
এই বছর সিলেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে অধিনায়ক ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। টি-টোয়েন্টির ওই ম্যাচ শেষে প্রায় ৮ মাস পর আবারও সিলেটে টস করতে নামবেন তিনি। এবার এই মাঠে অভিষেক হচ্ছে টেস্টের। এবারও বিশেষ কয়েন দিয়ে হবে টস। এটাকে বিশেষ কিছু মনে করছেন না তিনি, ‘এটা বিশেষ কিছু না। দায়িত্বটা এসেছে, আমি সেটা পালন করতে চাই। মূল লক্ষ্য যেন সেটা ঠিকঠাক হয়। আমার অনেক কিছুই প্রমাণ করার আছে, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে। আমার জন্য এটা ভাল সুযোগ। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আমি চেষ্টা করব সেরাটা দিতে।’
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। সেই তুলনায় মাহমুদউল্লাহর অভিজ্ঞতা খুবই নগণ্য। শনিবার তার নেতৃত্বে কেবল তৃতীয় টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। যদিও ঘরোয়া ক্রিকেট কিংবা বিপিএলে খুলনা টাইটানসের হয়ে তার নেতৃত্বগুণ মুগ্ধ করেছে অনেককে।
তবে দেশের অধিনায়কত্বকে চ্যালেঞ্জ মনে করছেন মাহমুদউল্লাহ, ‘এই মুহূর্তে আমার কাঁধে দায়িত্ব। আমি আমার শতভাগ দিয়ে ইতিবাচক ফল আনার চেষ্টা করব। অধিনায়কত্ব করা প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জন্য ভালো লাগার একটা বিষয়। এটা একজন খেলোয়াড়কে তার দেশকে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ তৈরি করে দেয়। এটা অনেক বড় ব্যাপার। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টাই এখানে করব।’
গত জানুয়ারিতে ত্রিদেশীয় সিরিজে আঙুলে চোট পেয়ে সাকিব ছিটকে যাওয়ায় হুট করে অধিনায়কত্ব পান মাহমুদউল্লাহ। জিম্বাবুয়ে সিরিজে অবশ্য হুট করে নয়, সাকিবের ইনজুরিতে এশিয়া কাপ শেষেই তার অধিনায়ক হওয়া নিশ্চিতই ছিল। সবমিলিয়ে প্রস্তুতি নিয়েই এবার দেখা যাবে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহকে, ‘অধিনায়কত্ব আমাকে আমার খেলায় বাড়তি চ্যালেঞ্জ দেয়। আমাকে এটা প্রভাবিত করে এবং বাড়তি দায়িত্ব এনে দেয় আমার সেরা পারফরম্যান্স বের করে আনতে।’