জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজে তাইজুলের শিকার ১৮ উইকেট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে পেয়েছেন ৭ উইকেট, যেখানে দ্বিতীয় ইনিংসেই তার শিকার ৬টি। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে তিন দিনে টেস্ট জয়ে তার অবদানও অনেক। এরপরও সাকিবের সঙ্গে নিজেকে তুলনায় দাঁড় করাতে রাজি নন তাইজুল।
তার মতে, সাকিবের সঙ্গে কারও তুলনা চলে না। তাইজুলের বক্তব্য, ‘আসলে এশিয়ায় বলেন বা বাইরে, সাকিব ভাইয়ের সঙ্গে কারও তুলনা করা যায় না। তিনি থাকার পরও যখন উইকেট পাই, অনেক ভালো লাগে। মনে হয়, তার মতো হয়তো হতে পারব না, অন্তত কাছাকাছি যেতে পারব। তবে সাকিব সাকিবই।’
চট্টগ্রাম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও স্পিনারদের ‘গেম সেন্স’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন সাকিব। অথচ দুই ইনিংসে ক্যারিবিয়ান ২০ ব্যাটসম্যানকেই তুলে নিয়েছেন চার স্পিনার। দুই পাশ থেকেই উইকেট তুলে নেওয়ার প্রত্যাশায় বাড়তি রান দেওয়ায় স্পিনারদের খেলাটা আরও ভালোভাবে বোঝার তাগাদা সাকিবের।
ওই ম্যাচে এক বর্ষপঞ্জিকায় ৪০ উইকেট নিয়ে মোহাম্মদ রফিককে পেছনে ফেলা তাইজুলও কথা বলেছেন একই ইস্যুতে। সোমবার মিরপুরে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘গেম সেন্সের উন্নতি করা সম্ভব। এজন্য একটু সময়েরও দরকার, টেস্ট ক্রিকেট আসলে অনেক কঠিন। হয়তো বাইরে থেকে দেখতে একরকম লাগে, মাঠের পরিস্থিতি আলাদা থাকে! মিরাজের মাত্র দুই বছর হয়েছে, আমার হয়তো চার-পাঁচ বছর হয়েছে, নাঈম মাত্রই এসেছে। সবমিলিয়ে যে খুব খারাপ হয়েছে, তা বলব না। তবে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। কেননা ম্যাচের পরিস্থিতি মাথায় রেখে বোলিং করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
ক্যারিয়ারে বসন্ত চলা এই স্পিনার উইকেট নিয়ে কখনোই ভাবেন না, ‘পকিল্পনা ছিল উইকেট না পেলেও রান কম দেওয়ার এবং অন্যপ্রান্তের বোলারদের উইকেট নিতে সুবিধা করে দেওয়া। ক্রিকেট খেলাটাই এমন, একজন রান আটকে রাখবে, একজন উইকেট পাবে। চেষ্টা করেছি পরিকল্পনা মতো বোলিং করার।’
চট্টগ্রাম টেস্টে ম্যাচসেরার পুরস্কার মুমিনুল হকের হাতে উঠলেও ব্যাট-বলে নিজের সেরাটা দিয়েছেন তাইজুল। প্রথম ইনিংসে তাইজুলের অপরাজিত ৩৯ রান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ব্যাটিং নিয়ে তাইজুল বলেছেন, ‘ব্যাট ভালো করলে আসলে ভালো লাগে। মাঝে মাঝে ব্যাটিং করি, ভালো লাগে। রান করার জন্য আত্মবিশ্বাস দরকার হয়। এই ইনিংসটা হয়তো সামনে আমাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করবে।’
শেন ওয়ার্ন-সাকলাইন মুশতাকের কাতারে যেতে ঢাকা টেস্টে মাত্র ৪ উইকেট চাই তাইজুলের। তাহলেই প্রথম ১০০ উইকেটে ম্যাচের সংখ্যায় তাদের ধরে ফেললেন এই বাঁহাতি স্পিনার। সবমিলিয়ে ২৩ টেস্টে এসে ১০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন ১১ বোলার। ১২তম বোলার হিসেবে এই মাইলফলক ছোঁয়া নিয়ে অবশ্য ভাবছেন না তিনি, ‘এসব কিছু আমার মাথায় নেই। আমি ভালো বোলিং করার চেষ্টা করে যাব। উইকেট ভাগ্যে থাকলে পাবো, তবে মূল লক্ষ্য ভালো জায়গায় বোলিং করা।’