দুই ওপেনারকে ফেরালেন রাহী

রাহী নেন প্রথম দুই উইকেটস্কোরবোর্ডে বাংলাদেশের সংগ্রহ বড় না হলেও বোলিংয়ে দারুণ শুরু হয়েছে। পঞ্চম ওভারে নিউজিল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি ভেঙেছেন পেসার আবু জায়েদ রাহী। টম ল্যাথামকে মাত্র ৪ রানে লিটন দাসের ক্যাচ বানান তিনি। ৫ রানে প্রথম উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। আরেক ওপেনার জিত রাভালকে ৩ রানে ফেরান রাহী। মাত্র ৮ রানে দুই ওপেনারকে মাঠছাড়া করেছেন বাংলাদেশি পেসার।

এর আগে তামিম ইকবালের ব্যাটে সম্ভাবনাময়ী শুরু হয় বাংলাদেশের। কিন্তু নেইল ওয়াগনার বল হাতে নিয়ে তার ইতি টানেন। তাকে সঙ্গ দেন আরেক পেসার ট্রেন্ট বোল্ট। দুজনের বোলিং তোপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ২১১ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস।

বেসিন রিজার্ভে বৃষ্টিতে প্রথম দুই দিনের খেলা পরিত্যক্ত হয়। রবিবার তৃতীয় দিন রোদেলা সকালে আধঘণ্টা আগে টস হয়। নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক উইলিয়ামসন টস জিতে নেন ফিল্ডিং। আরেকবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে জ্বলে ওঠেন তামিম।

হ্যামিল্টন টেস্টের পর ওয়েলিংটনেও চমৎকার তামিম। হ্যামিল্টনে ১২৬ ও ৭৪ রান করা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ৮১ বলে ৬ চারে ফিফটি করেন। তার আগে ৭৫ রানের জুটি গড়েন সাদমান ইসলামকে নিয়ে।

২১তম ওভারে এই জুটি ভাঙেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। ৫৩ বলে ২৭ রান করে রস টেলরের ক্যাচ হন সাদমান।

কিছুক্ষণ পর বল হাতে নেন ওয়াগনার। প্রথম ওভারে ১০ রান দিলেও পরের তিন ওভারে মুমিনুল হক ও মোহাম্মদ মিঠুনকে ফেরান তিনি। এই আঘাতে বাংলাদেশ প্রথম সেশন শেষ করে ৩ উইকেটে ১২৭ রানে।

লাঞ্চে যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে ওয়াগনারের বলে ১৫ রানে বিজে ওয়াটলিংকে ক্যাচ দেন মুমিনুল (১৫)। আগের বলেই রিভিউ নিয়ে আম্পায়ারের আউটের সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণ করেন তিনি।

মিঠুনকেও নিজের শিকার বানান ওয়াগনার। কিউই পেসার তার পরের ওভারে ওয়াটলিংয়ের গ্লাভসবন্দি করেন তাকে। তার আগের বলে ওয়াগনার কট বিহাইন্ডের জোরালো আবেদন করলে আম্পায়ার আঙুল তোলেন। রিভিউ নিয়ে ওই যাত্রায় মিঠুন বেঁচে গেলেও পরের বলে বিদায় নেন। মাত্র ৩ রান করেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

দ্রুত দুই ব্যাটসম্যানকে হারালেও তামিমের ফিফটিতে স্বস্তিতে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই তাকে থামান ওয়াগনার। ১১৪ বলে ১৯ চারে ৭৪ রান করেন তামিম। তিনি ক্যাচ দেন টিম সাউদিকে। হ্যামিল্টনে শেষ ইনিংসে লড়াই করা ‍মাহমুদউল্লাহ ও সৌম্য সরকার মাঠে নেমে স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করতে পারেননি। ২০ রান করে ম্যাট হেনরির শিকার হন সৌম্য। মাত্র ১৩ রানে মাহমুদউল্লাহকে ফিরিয়ে ওয়াগনার তার চতুর্থ উইকেট পান।

১৬৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন লিটন দাস ও তাইজুল ইসলাম। ট্রেন্ট বোল্টের জোড়া আঘাতে তাদের প্রতিরোধ ভাঙে। তাইজুলকে (৮) এলবিডাব্লিউ করে ৩৮ রানের জুটি ভাঙেন কিউই পেসার। একই ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানকে বোল্ড করেন তিনি।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৩ রান করে লিটন মাঠ ছাড়েন সাউদির বলে। আবু জায়েদ রাহীকে (৪) বোল্ড করে বাংলাদেশকে গুটিয়ে দেন বোল্ট।

ওয়াগনার ৪ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সেরা বোলিং করেন। তিনটি উইকেট পান বোল্ট।