সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থা এই ক্রিকেটারকে তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। সাতক্ষীরায় ক্রীড়াঙ্গনের কোনও খেলায় অংশ নেওয়া বা উপস্থিত থাকতে পারবেন না রবিউল। ‘অসদাচরণের’ দায়ে গত ৬ মার্চ সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট সাব-কমিটির চেয়ারম্যান অনিন্দিতা রায় স্বাক্ষরিতপত্রে তাকে বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়।
সোমবার অনিন্দিতা রায় শাস্তির ব্যাপারে বাংলা ট্রিবিউনের সাতক্ষীরা প্রতিনিধিকে বলেছেন, ‘ক্রিকেটার রবিউল ইসলামকে ২৫ ফেব্রুয়ারি অসদাচরণের অভিযোগে শোকজ নোটিশ দেয় জেলা ক্রীড়া সংস্থা। ওই সময় তাকে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শোকজের লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে তার দেওয়া জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় ক্রিকেট সাব-কমিটির ৫ মার্চের সভায় তাকে তিন বছরের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’ সঙ্গে তিনি এটাও নিশ্চিত করেছেন, ‘সে সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থা পরিচালিত ক্রিকেট সহ সব ক্রীড়া কার্যক্রম থেকে (খেলোয়াড়, টিম ম্যানেজার, কোচ) বহিষ্কার থাকবে।’
এই শাস্তি কিছুতেই মানতে পারছেন না রবিউল। কেন এত বড় শাস্তি দেওয়া হলো, সেই কারণ নিজেই খুঁজছেন তিনি। বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলার সময় তার বিস্ময়, ‘সত্যি কথা বলতে আমিও ধোঁয়াশার মধ্যে আছি- কেন তারা এটা করেছে। ওরা বলছে অসদাচরণের কারণে আমাকে নিষিদ্ধ করেছে। আমি একজন জাতীয় খেলোয়াড়। কিন্তু গত বছরও আমাকে সাতক্ষীরা লিগে রাখেনি, এবারও রাখা হয়নি। এটা জানতে চাওয়া যদি আমার অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে আসলে বলার কিছু নেই।’
তাই শাস্তির কারণ জানতে তদন্ত চান ২০১৪ সালে বাংলাদেশের জার্সিতে সবশেষ ম্যাচ খেলা এই পেসার, ‘আমাকে খেলোয়াড়, কোচ, ম্যানেজার সব বিভাগ থেকেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমি বিসিবির মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং স্পষ্ট করে জানতে চাই আমার দোষটা কোথায়।’
চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলা ক্রিকেট দলে ডাক না পেয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে নাকি কয়েক দফা চরম খারাপ ব্যবহার করেন রবিউল। বিষয়টি স্বীকার না করলেও এ ব্যাপারে যে ক্ষোভ ছিল, সেটা তার এই কথাতেই স্পষ্ট, ‘আমি হয়তো ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ কিংবা বিপিএলে সুযোগ পাচ্ছি না, তবে জাতীয় লিগে তো শেষবারও খেলেছি। কিন্তু পরপর দুই বছর (সাতক্ষীরা জেলার) ২৭ থেকে ৩০ জনের দলেও জায়গা না পাওয়াটা হতাশার। আমি কি এতই পচে গেছি যে, আমাকে ওরা রাখবে না? তাহলে বলতে হবে, আমার ক্রিকেট খেলে লাভ কী।’
সতর্কবার্তা অবশ্য পেয়েছিলেন রবিউল। জেলা ক্রীড়া সংস্থার একটি সূত্র বাংলা ট্রিবিউনের সাতক্ষীরা প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, আচরণগত সমস্যায় তাকে কয়েকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হয়ে একের পর এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তাই সর্বশেষ ‘বাধ্য’ হয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থা তাকে শোকজ নোটিশ পাঠায়।
রবিউলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ মাঠের কিউরেটরের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের। তারও আগে জাতীয় দলে থাকার সময় একই মাঠে এক শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। সেবার ক্ষমা চেয়ে রেহাই পেলেও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি তার। তাই এবার কঠিন শাস্তিই দিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থা।