দুই সেঞ্চুরির পরও প্রাইম ব্যাংকের কাছে ব্রাদার্সের হার

ফজলের দুর্দান্ত ইনিংস বৃথা গেলোদুই সেঞ্চুরিতে রানের পাহাড় গড়েও জিততে পারেনি ব্রাদার্স ইউনিয়ন। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের (ডিপিডিএল) সপ্তম রাউন্ডে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের কাছে তারা হেরেছে ৫ উইকেটে। উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাবের কাছে শনিবার টানা চতুর্থ হারের তেতো স্বাদ পেয়েছে তারা। তাদের ৭ উইকেটে হারিয়েছে টেবিলের শেষ দিকে থাকা উত্তরা। শেষ ওভারের রোমাঞ্চে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) সঙ্গে ম্যাচ টাই করেছে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব।

ব্রাদার্স-প্রাইম ব্যাংক

ঢাকার মিরপুরে দুই সেঞ্চুরি ও এক হাফসেঞ্চুরিতে মাত্র ২ উইকেটে ৩৩০ রান করে ব্রাদার্স। রানের পাহাড় গড়েও শেষ রক্ষা হয়নি তাদের। চার হাফসেঞ্চুরিতে তাদের হতাশ করেছে প্রাইম ব্যাংক। ৪৮.৫ ওভারে ৫ উইকেটে তারা করেছে ৩৩১ রান।

টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে ১০ রানে ব্রাদার্সের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে প্রাইম ব্যাংক। জুনায়েদ সিদ্দীক মাত্র ৭ রানে বিদায় নেন। তবে মিজানুর রহমান ও ফজলে মাহমুদের ১৯৩ রানের অসাধারণ জুটিতে স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করার আভাস দেয় তারা।

১০৮ বলে ৮ চার ও ৫ ছয়ে সেঞ্চুরি করার পরের বলেই বিদায় নেন মিজানুর। ১০০ রানে তাকে আউট করেন নাঈম হাসান। এরপর শেষ বল পর্যন্ত উইকেট অক্ষত রাখেন ফজলে ও ইয়াসির আলী। অপরাজিত ১২৭ রানের জুটি গড়েন তারা।

১৪৭ বলে ১৩ চার ও ৫ ছয়ে ১৪৯ রানে অপরাজিত ছিলেন ফজলে। ৫৩ বলে ৬১ রানে টিকে ছিলেন ইয়াসির।

দারুণ জয়ের পর প্রাইম ব্যাংকের উল্লাসবিশাল লক্ষ্যে নেমেও রান রেট ঠিক রেখে এগিয়ে যেতে থাকে প্রাইম ব্যাংক। যদিও তারা প্রথম উইকেট হারায় ১৯ রানে। এনামুল হক বিজয় ও অভিমন্যু ঈশ্বরণের ৭৫ রানের জুটি ওই ধাক্কা সামলে নেয়। এনামুল ৫৪ রানে বিদায় নিলে ঈশ্বরণ ও আল আমিনের ৭৯ রানের জুটি কার্যকরী অবদান রাখে।

আল আমিন ৫২ রানে আউট হলে ভাঙে এই জুটি। তবে অলক কাপালির সঙ্গে ঈশ্বরণের ১০১ রানের জুটিই প্রাইম ব্যাংকের জয়ের ভিত গড়ে দেয়। অবশ্য টানা ওভারে তাদের দুটি উইকেট তুলে নিয়ে ব্রেকথ্রু আনে বাদার্স। ঈশ্বরণ ৯০ রানে বিদায় নেন। নাজমুল হোসেন মিলন সাজঘরে ফেরেন ১ রানে।

হাফসেঞ্চুরি হাঁকানো কাপালি এরপর প্রতিরোধ গড়েন নাহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তাদের অপরাজিত ৪৯ রানের জুটিতে ৭ বল বাকি থাকতে জেতে প্রাইম ব্যাংক। কাপালি ৮২ রানে অপরাজিত ছিলেন, নাহিদুল টিকে ছিলেন ২৩ রানে।

ব্রাদার্সের পক্ষে সাজেদুল ইসলাম সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন। ম্যাচসেরা হয়েছেন ব্রাদার্সের ফজলে।

৭ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে প্রাইম ব্যাংক। চার পয়েন্ট নিয়ে নবম ব্রাদার্স।

মোহামেডান-উত্তরা

সাভারে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪৫.১ ওভারে ১৯৩ রানে অলআউট হয় মোহাডেমান। ৪০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৪ রান করে উত্তরা। টুর্নামেন্টে এটি তাদের দ্বিতীয় জয়। ১২ দলের প্রতিযোগিতায় ১১ নম্বরে উত্তরা। আর টানা চার হারে মোহামেডান ৬ পয়েন্টে ষষ্ঠ স্থানে।

আগে ব্যাট করে মাত্র ৬৯ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারায় মোহামেডান। মোহাম্মদ আশরাফুল ও নাদিফ চৌধুরীর ৬২ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়ে তারা। কিন্তু তাদের শেষ ৬ উইকেট পড়ে ৬২ রানের ব্যবধানে।

নাদিফ ইনিংস সেরা ৩৯ রান করেন। আশরাফুলের ব্যাটে আসে ২৮ রান। এছাড়া ২৯ রান করেন শফিউল ইসলাম।

আব্দুর রশিদ ও আসাদুজ্জামান পায়েল উত্তরার পক্ষে তিনটি করে উইকেট নেন।

তানজিদ হাসানের ১০১ রানের অপরাজিত ইনিংসে সহজ জয় তুলে নেয় উত্তরা। তার ১২০ বলের ইনিংসে রয়েছে ১০ চার ও ৩ ছয়। এই ওপেনারের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে ৮৪ রান করেন আনিসুল ইসলাম ইমন (৩৭)।

মোহামেডানের পক্ষে ২ উইকেট নেন শাহাদাত হোসেন।

ম্যাচসেরা উত্তরার তানজিদ হাসানবিকেএসপি-শাইনপুকুর

ফতুল্লায় আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২২২ রান করে বিকেএসপি। শেষ ওভারে পরপর দুটি উইকেট হারিয়ে শাইনপুকুর ৯ উইকেটে করে ২২২ রান।

প্রান্তিক নওরোজ নাবিলের ৮১ ও আব্দুল কাইয়ুমের ৭০ রানের কল্যাণে লড়াই করার মতো স্কোর গড়ে বিকেএসপি।

উন্মুক্ত চাঁদের ৭৪ রানের ইনিংসে পাল্টা জবাব দেয় শাইনপুকুর। তিন নম্বরে নামা এই ব্যাটসম্যান শেষ বলে রান আউট হন। মূলত শেষ দিকের ব্যাটসম্যানদের কাছে উপযুক্ত সঙ্গ পাননি ভারতীয় এই ব্যাটসম্যান।

শেষ ওভারে ১০ রান দরকার ছিল শাইনপুকুরের। কিন্তু শেষ দুই বলে দুটি রান নিতে গিয়ে দুইজন ব্যাটসম্যান বিদায় নেন। তাতে স্কোর সমতায় রেখে শেষ হয় তাদের ইনিংস।

বিকেএসপির পক্ষে হাসান মুরাদ সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন। ম্যাচসেরা হয়েছেন তাদের ব্যাটসম্যান কাইয়ুম।

এই টাইয়ে সমান ৫ পয়েন্ট নিয়ে সাত ও আট নম্বরে বিকেএসপি ও শাইনপুকুর।