স্টেডিয়াম তো নয়, যেন জাহাজ!

বাইরে থেকে মিলেনিয়াম স্টেডিয়ামস্থাপনার দিক থেকে কার্ডিফে দেখার মতো তেমন কিছু না থাকলেও পাহাড় ঘেরা এই শহরের সৌন্দর্য মুগ্ধ করবে যে কোনও পর্যটককেই। কার্ডিফ ক্যাসেল, কার্ডিফ সিটি সেন্টার, ক্লক টাওয়ার অব সিটি হল ও ওয়েলস ন্যাশনাল মেমোরিয়াল পর্যটকদের আকৃষ্ট করবেই। এছাড়াও অত্যাধুনিক শপিং মলের চাকচিক্য ও কার্ডিফ সমুদ্র তীরের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য যে কাউকে বিমোহিত করতে যথেষ্ট। এর বাইরেও কার্ডিফের দুটি স্টেডিয়ামের কথা না বললেই নয়। একটি সোফিয়া গার্ডেনস, অন্যটি ফিজম ইমব্যাংকমেন্টে অবস্থিত মিলেনিয়াম স্টেডিয়াম। আরেকটি নামে এটি পরিচিত- প্রিন্সিপালিটি স্টেডিয়াম।

স্টেডিয়াম, কিন্তু মনে হবে যেন বিশাল এক জাহাজ! এই মাঠে ফুটবল খেলতে খেলতেই গ্যারেথ বেল বেড়ে উঠেছেন। ১৯৮৯ সালে ওয়েলস শহরের কার্ডিফে জন্ম নেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফুটবলার। ২০১৩ টটেনহাম থেকে বেলকে তখনকার সবচেয়ে দামী ফুটবলার হিসেবে কিনে নেয় মাদ্রিদ ক্লাব।

ওয়েলসে প্রধান দুটি স্টেডিয়াম আছে- একটি মিলেনিয়াম স্টেডিয়াম, যেখানে রাগবির পাশাপাশি ফুটবল ম্যাচও হয়। অন্যটি ক্রিকেটের- যার নাম সোফিয়া গার্ডেনস। বাংলাদেশের লাকি ভেন্যু হিসেবে এই মাঠের নাম ডাক আছে। তবে ওয়েলস হচ্ছে রাগবির দেশ। তারা ক্রিকেট ইংল্যান্ডের জার্সিতে খেললেও রাগবিতে তাদের আলাদা দল রয়েছে। জাতীয় ফুটবল দলও আলাদা আছে। তবে কেউ চাইলে ইংল্যান্ডের হয়েও খেলতে পারবে। আলাদা ফুটবল দল থাকলেও এদেশে ফুটবল এখনও রাগবির মতো জনপ্রিয় নয়। ক্রিকেট হচ্ছে দ্বিতীয় সেরা খেলা। গ্যারি স্পিড, রায়ান গিগস ও গ্যারেথ বেলরা অবশ্য ফুটবলকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মিলেনিয়াম স্টেডিয়ামইউরোপিয়ানদের কাছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আর আকর্ষণীয় ম্যাচ চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল। কার্ডিফে সেদিন ছিল উপচে পড়া ভিড়, তাদের ঘরের ছেলে বেলের হাতে শিরোপা দেখার প্রত্যাশা নিয়ে এসেছিল সমর্থকরা। সেটা পূরণ হয়েছে জুভেন্টাসের বিপক্ষে ৪-১ গোলে রিয়ালের জয়ে। ওই সময়ই ইংল্যান্ডে চলছিল চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। ম্যাচের মাঝে কয়েক দিনের বিরতি পেয়ে সেদিন খেলা দেখতে মিলেনিয়াম স্টেডিয়ামে গিয়েছিলেন তামিম ইকবাল।

মিলেনিয়াম স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল ছাড়াও আরও অনেক বড় বড় প্রতিযোগিতা হয়েছে। ২০১২ সালের অলিম্পিক ফুটবল সহ ছয়টি এফএ কাপ ফাইনাল হয়েছে এখানে। সাড়ে ৭৪ হাজার দর্শক এক সঙ্গে বসে এই স্টেডিয়ামে খেলা উপভোগ করতে পারেন।

ছাদ বন্ধ মিলেনিয়াম স্টেডিয়ামএই স্টেডিয়ামের অন্যতম বিশেষত্ব হলো এর ছাদ খোলা-বন্ধ করা যায়। ইউরোপে এধরনের স্টেডিয়ামে আছে কেবল দুটি। জাহাজ আকৃতির এই মাঠটি আপাতত বন্ধ। ফুটবল মৌসুম শেষ হওয়ায় এই ভেন্যুতে ব্যস্ততা নেই। স্টেডিয়ামে ঢোকার সব গেইট পুরোপুরি বন্ধ। ভেতর থেকে এর সৌন্দর্য উপভোগ করা না গেলেও বাইরের সৌন্দর্যই মুগ্ধ হওয়ার মতোই। এক পাশে ট্যাফ নদী। নদীর পাশেই অবস্থান এই স্টেডিয়ামের।

এমনিতেই কার্ডিফ হচ্ছে পর্যটকদের প্রিয় শহর। আর কোনও উপলক্ষ পেলে তো কথাই নেই। এই মুহূর্তে এই শহরে বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচ আয়োজন হচ্ছে। বাংলাদেশ দল লন্ডন থেকে বৃহস্পতিবার কার্ডিফে পৌঁছেছে। আগামী কয়েকটা দিন এখানেই থাকবে তারা। শনিবার স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপেক্ষ নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এমনিতেই এই শহরে ক্রিকেট নিয়ে মাতামাতি নেই। সেটা যে কোনও ক্রিকেট টুর্নামেন্টই হোক, সোফিয়া গার্ডেনসে কী হচ্ছে না হচ্ছে তা নিয়ে কার্ডিফবাসীর আগ্রহও নেই। তাদের সমস্ত আগ্রহ যেন এই জাহাজ আকৃতির স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে।